আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল। কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হল পুলিশকে। এতেই শেষ নয়। লজ্জার আখ্যান আরও জমজমাট। পুলিশ শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি ওই দুষ্কৃতীকে। এক সম্পূর্ণ বেআইনি প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছু হঠতে হয়েছে পুলিশকে।

কোনও মাওবাদী মুক্তাঞ্চল নয়, ভূপ্রাকৃতিক কারণে দুর্গম কোনও এলাকাও নয়। খাস কলকাতার বুকে এই ঘটনা ঘটেছে। একাধিক কুকর্মে অভিযুক্ত শাহনওয়াজ ওরফে ছাট্টান কাল্লু কলকাতার বেনিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা। শাসক দলের সঙ্গে তার যোগও রয়েছে। তবে সে যোগ ছাট্টান কাল্লুর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সোমবার রাতে ছাট্টানকে গ্রেফতারের জন্য বেনিয়াপুকুর এলাকায় গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু ছাট্টান ও তার দলবলের প্রবল হামলায় পুলিশ জখম হয়। দু’টি থানা থেকে বাহিনী পাঠিয়েও ছাট্টান কাল্লুকে আর গ্রেফতার করা যায়নি।

এই ঘটনা কিন্তু শুধু দু’টো থানার বা শুধু সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের ব্যর্থতা নয়। খাস কলকাতার বুকে এ ভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে দুষ্কৃতীকে ছিনতাই করে নেওয়া হবে! রাজ্যের রাজধানীর বুকে দুষ্কৃতীদের এমন দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি হবে যে, পুলিশ সেখানে ঢুকতেই পারবে না! আইনের শাসন বহাল রয়েছে কিনা, এর পরেও কেন উঠবে না সে প্রশ্ন?

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন: পুলিশের থেকে ‘ছিনতাই’ দুষ্কৃতী

বেনিয়াপুকুরে সোমবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। ঘটনাটা তথা প্রবণতাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক তো বটেই, প্রশাসনের পক্ষে যথেষ্ট অবমাননাকরও। দ্রুত এর প্রতিকার হওয়া দরকার। না হলে পুলিশ-প্রশাসনের উপরে সাধারণ নাগরিক আর কতটুকু ভরসা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অত্যন্ত দ্রুত কলকাতার পুলিশ-প্রশাসনকে এই গুরুতর অপরাধের প্রতিকার করতে হবে। শুধু ছাট্টান কাল্লু এবং তার দলবলকে গ্রেফতার করলেই চলবে না। আইনের শাসনের ঊর্ধ্বে কেউই যে নন, কোনও এলাকাই যে দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল নয়, তা-ও পুলিশকে প্রমাণ করতে হবে। না পারলে যে অনাকাঙ্খিত বার্তা জনমানসে দৃঢ়মূল হবে, তার দায় পুলিশ-প্রশাসনকেই নিতে হবে।