প্রবীণদের কী হবে
ব্যাংক জমার ওপর আর এক দফা সুদ কমেছে। সুদ-নির্ভর বয়স্ক মানুষদের মাথায় বাজ। জীবনের শেষ প্রান্তে দু’বেলা দু’মুঠো অন্নসংস্থানের আশায় যাঁরা সারা কর্মজীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন, হয়তো কখনও আধপেটা খেয়েও পয়সা জমিয়েছেন, তাঁদের সব হিসেব তছনছ হয়ে যাচ্ছে।
এক দিকে রোজগার কমছে, অন্য দিকে আজ অতিবৃষ্টি, কাল অনাবৃষ্টি, পরশু জিএসটি-র অছিলায় বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। প্রবীণ নাগরিকেরা নতুন করে রোজগারে বেরোতে পারবেন না। সম্মানজনক ভাবে বেঁচে থাকার পথ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে আসছে এঁদের সামনে। এঁদের কথা ভাববে কে? সুদের হার কমতে ব্যবসায়ী শ্রেণি উল্লসিত। অর্থনীতিবিদরাও সূত্র উল্লেখ করে দেখিয়ে দেন, সুদ কমলেই বেশি বেশি টাকা লগ্নি হবে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে, বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এই আলোচনায় চালসে ধরা চোখে ভাবান্তর হয় না।
অর্থনীতি হয়তো সত্যি সত্যিই উন্নত হবে। কিন্তু উন্নতির রথ যাবে তাঁদের পাঁজরের ওপর দিয়ে। দিশেহারা হয়ে এ দিক-ও দিক আলোচনার থেকে আশার আলো খুঁজতে চেষ্টা করেন। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের তেমন কোনও অভিজ্ঞতা নেই, অন্য দিকে বাজারের কোন ক্রূর চালে ব্যাঙের আধুলিটিও খোয়া যাবে, এই আশঙ্কায় ঝুঁকি নিতেও ভরসা পান না তাঁরা। কানে আসে ভীতিপ্রদ সব তথ্য। উন্নত দেশগুলিতে নাকি সুদের হার আরও কম। কিন্তু সেখানকার বিত্তহীনদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, ফুড স্ট্যাম্প, নিখরচায় চিকিৎসার ব্যবস্থা। এই দেশে কি সে সব ভাববার অবকাশ আছে? দিনকে দিন যদি বৃদ্ধবৃদ্ধারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন, বাধ্য হন নিম্নমানের জীবনযাপনে, তার প্রভাব আবশ্যিক ভাবে সমাজের সব শ্রেণির ওপর পড়বে। প্রবীণ-প্রবীণারা অবহেলিত হলে কোনও জাতি সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
বিশ্বনাথ পাকড়াশি শ্রীরামপুর, হুগলি
বেনেপুতুল
রাকেশ ঘোষের চিঠি প্রসঙ্গে জানাই, নাটক বা যাত্রাপালার মঞ্চ বা আসরে যে পুরুষ অভিনেতারা নারীচরিত্রে অভিনয় করতেন, তাঁদের ‘বেনেপুতুল’ বলা হত (‘স্ত্রী চরিত্রে পুং’, ২৯-৭)। এই বেনেপুতুলরা নায়ক বা অপরাপর চরিত্রের অভিনেতাদের তুলনায় ছিলেন বেশ খানিকটা ব্রাত্য। কলকাতার বাংলা নাটক বা যাত্রার সূচনালগ্ন থেকেই এঁদের অস্তিত্ব ছিল। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, কলকাতার একেবারে প্রথম থিয়েটার তথা রাশিয়ান যুবক হেরাসিম লেবেদেফের ১৯৭৫ সালের ২৭ নভেম্বর যে ‘কাল্পনিক সংবদল’-এর অভিনয় হয়, তাতে কিন্তু মহিলা চরিত্রে মহিলারাই অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলা নাটক সেই ধারাকে ধরে রাখতে পারেনি।
অবশ্য লেবেদেফের ঘটনাটিকে বাংলা নাটকের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কোনও কোনও গবেষক ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে ব্রাত্য করে রাখতে চেয়েছেন। সে যা-ই হোক, নাট্যমঞ্চে পুরোপুরি ভাবে বেনেপুতুলদের প্রয়োজন ফুরোলেও, যাত্রামঞ্চে বা আসরে এঁদের অস্তিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রার ক্ষেত্রে কয়েক জন বিখ্যাত বেনেপুতুল— ছবিরানি, রাখালরানি, নিতাইরানি, বাবলিরানি প্রমুখ। যাত্রামঞ্চেও একের পর এক অপেরা কোম্পানিতে যখন মহিলা শিল্পী এসে পড়ছেন, তখন এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল একমাত্র ‘নট্টকোম্পানি’। এই দলের শেষ বেনেপুতুল ছিলেন চপলরানি। ১৯৭৬-৭৭ সাল নাগাদ তিনি অভিনয় ছেড়ে দিলে নট্টকোম্পানিও আর সেই ঐতিহ্য ধরে রাখেনি। পেশাদার যাত্রামঞ্চে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বেনেপুতুল হিসেবে অভিনয় করেছেন বিমলরানি (মুখোপাধ্যায়)। এ ক্ষেত্রে তাঁকেই শেষ বেনেপুতুল বলা যেতে পারে।
তবে অপেশাদার মঞ্চের কথা আলাদা। কিছু দিন আগেও সেখানে এঁদের অস্তিত্ব ছিল। আমার পিতা এবং পিতামহও ছিলেন সফল অপেশাদার মঞ্চের বেনেপুতুল। এ প্রসঙ্গে ১৯৯২ সালের ‘দেশ’ পত্রিকার ‘বেনেপুতুল’ শীর্ষক প্রতিবেদন দেখে নেওয়া যেতে পারে।
শঙ্খ অধিকারী সাবড়াকোন, বাঁকুড়া
গোপালচন্দ্র সেন
গৌতম ভদ্র প্রশংসনীয় ভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেনের সংক্ষিপ্ত জীবনচিত্র (রবিবাসরীয়, ১৩-৮)। এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই। কারণ সংবাদমাধ্যমে স্থান পাওয়ার সৌভাগ্য ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে বিরল। তথ্যগত দিক থেকে এই প্রতিবেদনে কিন্তু কিছু ভুল থেকে গিয়েছে। যেমন, তাঁর মৃত্যুদিন লেখা হয়েছে ‘৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭০’। তারিখটি সম্ভবত ৩০ নভেম্বর, ১৯৭১। শ্রীভদ্র’র উল্লিখিত তারিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক হেমচন্দ্র গুহ। তাঁর অবসরের পর (১৯৭১ সাল) অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন অস্থায়ী ভাবে সেই পদ গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় ভুল, লেখা হয়েছে, ‘আততায়ীর গুলিতে’ তাঁর মৃত্যু হয়। অথচ, মাথায় আঘাত ও দেহে ছুরিকাঘাতের দরুন মৃত্যু হয়েছিল বলে সংবাদে প্রকাশ।
অসীম রাহা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক, ১৯৭১, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ট্রেনের আকাল
সুদীর্ঘ কাল অপেক্ষার পর অবশেষে পূর্ব রেলওয়ে বিভাগের কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় ডাবল লাইন চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক মাস অতিক্রান্ত। মুর্শিদাবাদ জেলাবাসী অনেক আশা নিয়ে বুক বেঁধেছিলেন, এ বার বুঝি অবহেলিত এই লাইনে কিছু ট্রেন বাড়বে। কিন্তু ট্রেন কোথায়! আকালের দৃশ্যটা এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক। ১) আপ-এর দিকে রেজিনগর স্টেশন থেকে ৬৩১৩৩ রানাঘাট লালগোলা মেমু রয়েছে সকাল ৯টা ১৩-তে। পরের লোকাল ৩১৮৭৩ সেই দুপুর ১২টা ১৩, ২) ডাউনে রেজিনগর স্টেশন থেকে ৩১৭৭২ লালগোলা-রানাঘাট মেমু রয়েছে রাত ৮টা ৫৯-এ। পরের ট্রেন ৫৩১৭২ সেই রাত ১১টা ৪৭-এ। পূর্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সাবির চাঁদ রামপাড়া মাঙ্গনপাড়া হাইস্কুল, রেজিনগর, মুর্শিদাবাদ
জমা জলে রাস্তা
‘জেলা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা’ সংস্করণের ১৪ পৃষ্ঠায় একটি ছবির নীচে লেখা হয়েছে ‘জলে রাস্তা: ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত’ (২৯-৭)। কোথাকার রাস্তা সেটা পরিষ্কার নয়। পরিষ্কার হবে ২৬ জুলাইয়ের কাগজ খুললে। ১০ পৃষ্ঠায় ‘জেলা দক্ষিণবঙ্গ’ সংস্করণে একটি ছবির নীচে লেখা হয়েছে ‘জমা জলেই: দেগঙ্গা স্টেশন রোডের পাশে।’ একই জায়গার দুটো ছবি। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ রেল লাইন দিয়ে যাতায়াত করছেন, দুটো ছবিতেই কিন্তু স্পষ্ট।
মনিরুজ্জামান কলসুর, উত্তর ২৪ পরগনা
ভ্রম সংশোধন
‘ক্রস ভোটের অভিযোগে তপ্ত তৃণমূল’ প্রতিবেদনে (১৩-৮) মাননীয় সাংসদ শিশির অধিকারীকে অবমাননা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক একটি সংবাদ পরিবেশন করেছেন মাত্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে এসেছিলেন, তখন তাঁর হাতে একটি তালিকা আসে। সেখানে কিছু সাংসদের নাম উল্লেখ করে জানানো হয় ওই ব্যক্তিরা উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোট করেছেন। এটি যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ষড়যন্ত্রের চেষ্টা, সেটিও উল্লেখিত হয়েছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর জবানিতে বলা হয়েছে, যে তিনি এই সব অভিযোগ বিশ্বাস করেন না। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু রাজধানীতে সে সময়ে জলঘোলা হয়, তাই প্রতিবেদনটি লেখা হয়। তবে শিশিরবাবু যদি এতে আঘাত পেয়ে থাকেন, তা হলে আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।
ই-মেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়