‘শহুরে নকশাল: বার্তা রাজ্যকেও’ (৪-৯) শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় সরকার কিছু গণসংগঠনকে মাওবাদীদের ‘মুখোশ’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর আছে। এপিডিআর-এর দীর্ঘ দিনের কর্মী হিসেবে আমি কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি। অবশ্য এর আগেও রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার ও তৃণমূল সরকার এপিডিআর সম্পর্কে এই জাতীয় মন্তব্য করেছিল। আসলে এপিডিআর রাষ্ট্রের সন্ত্রাস ও নানা অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সর্বদা লড়াকু ভূমিকা নেয়। প্রয়োজনে রাষ্ট্রের দ্বারা আক্রান্ত সাধারণ মানুষকে আইনি সহায়তা দেয়। এটাই রাষ্ট্রের চক্ষুশূল হয়। কিন্তু এপিডিআর যখন কারও পক্ষে দাঁড়ায় তখন তার রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না। অতীতে কংগ্রেস সরকার আমলে সিপিএম, নকশাল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দলের কর্মীদের উপর রাষ্ট্রের আক্রমণের বিরোধিতা করেছে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলের কর্মীদের উপর আক্রমণের বিরোধিতা করেছে। বর্তমানে তৃণমূল সরকারের আমলেও একই কাজ করে যাচ্ছে। মাওবাদী কর্মীদের উপর আক্রমণের বিরোধিতা করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের দ্বারা সিপিআই (মাওবাদী) পার্টি নিষিদ্ধ করারও বিরোধিতা করেছি। অতীতে যেমন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করা হলে তার বিরোধিতাও করেছিলাম। কারণ এপিডিআর যে কোনও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে। এপিডিআর যে কোনও রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক মোকাবিলার পক্ষে। তাই এপিডিআর রাষ্ট্রের যে কোনও সন্ত্রাসের বিরোধিতা করবে, তা মাওবাদীদের উপর হলেও। রাষ্ট্রের সকল জনবিরোধী কার্যকলাপেরও বিরোধিতা করে চলবে। তার জন্য যদি আমাদের উপর রাষ্ট্রের সন্ত্রাস নেমে আসে, তাতেও আমরা ভয় পাই না। অতীতে জরুরি অবস্থার সময়েও এপিডিআর-এর উপর রাষ্ট্রের খড়্গ নেমে এসেছিল। তা মোকাবিলা করেই এপিডিআর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

 

ডিজিটাল দুর্ভোগ

আমি ২-৩-২০১৭ তারিখে ফর্ম ফিল আপ করেছিলাম ডিজিটাল রেশন কার্ড পাওয়ার জন্য, আর তা পেলাম ৩-৮-২০১৮, এই সময়ের মধ্যে আমি কোনও রেশন দ্রব্য পাইনি। মাঝে মাঝে মাথাপিছু ১৫০ মিলিলিটার করে কেরোসিন তেল দিয়েছে দয়া করে (আমার তিন ইউনিটের জন্য ৪৫০ মিলিলিটার), যাতে কোনও প্রয়োজন ঠিক ভাবে মেটে না। মন্ত্রীরা টিভি বা সংবাদপত্রে ডিজিটাল রেশন কার্ড বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ মন্তব্য না করে, মানুষ কী করে রেশন পাবে তার ব্যবস্থা করুন। নতুন কার্ড নিয়ে রেশন দোকানে গেলে বলে, আপনারটা অ্যালট করা হয়নি। যারা ভাগ্যের জোরে কার্ড পেল, তারা যাতে কার্ড পাওয়ার পরেই রেশন পায়, ব্যবস্থা করুন।

দেবপ্রসাদ সরকার

মেমারি

 

ভিন্ন নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি আগে ছিল Govt. aided school, এখন সেগুলি Govt. sponsored school-এ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) Renewal of recognition বাবদ কোনও fees এখন আর নেয় না, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক সংসদ (WBCHSE) সেখানে প্রতি দু’বছর Renewal of recognition বাবদ প্রত্যেক স্কুল থেকে চার হাজার টাকা ফিজ় নিচ্ছে। কোনও স্কুলের দেরি হয়ে গেলে ‘লেট ফাইন’ হিসেবে আরও দু’হাজার টাকা নেওয়া হয়। একই ব্যবস্থায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের এই ভিন্ন নিয়ম কেন?

রতন চক্রবর্তী

উত্তর হাবড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

 

জঞ্জালময়

ঝাঁ চকচকে সাউথ সিটি মলের গাড়ির প্রবেশপথের গা ঘেঁষে রয়েছে উঁচু প্রাচীর। তার পাশের সরু রাস্তাটাই পোদ্দারনগর। এই রাস্তা ধরে সোজা এলেই পৌঁছবেন পুকুরপাড়ে। পোদ্দারনগর-কাটজুনগর পুকুর। ধার ঘেঁষেই একটি জঞ্জাল ফেলার উন্মুক্ত ভ্যাট। রোজই এই ভ্যাট থেকে দুর্গন্ধময় আবর্জনা কাটজুনগরের রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ভ্যাটের গা ঘেঁষেই ‘পারলৌকিক ক্রিয়ার স্থল’, কাটজুনগর-পোদ্দারনগর পুকুর সংরক্ষিত কমিটির উদ্যোগে নির্মিত একটি স্থান। তার পাশেই একটি বিশ্রামাগার। এমন অস্বাস্থ্যকর জায়গায় কী করে পারলৌকিক ক্রিয়া বা বিশ্রাম করবেন মানুষ?

চন্দন দাশ

ইমেল মারফত

 

ব্যাঙ্কের দায়

চুঁচুড়ার স্টেট ব্যাঙ্কে একটি শাখায় আমার অ্যাকাউন্ট আছে। ফিক্সড ডিপোজ়িটের জন্য যথাসময়ে ২০১৮-র এপ্রিল মাসে ১৫এইচ ফর্ম ভর্তি করে জমা দিই। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ স্ট্যাম্প মেরে নেন, কিন্তু এন্ট্রি করেন না। যার ফলে ৩১ জুলাই আমার ফার্স্ট কোয়ার্টারের ইন্টারেস্টের উপর টিডিএস কেটে নেয় ২১০০ টাকা। আমি এক জন ৭০ বছর বয়স্ক বিধবা মহিলা, একা থাকি। আমাকে ব্যাঙ্ক থেকে বলছে, মাঝে মাঝে গিয়ে খবর নিতে হবে ট্যাক্স রিটার্ন পাওয়ার ফর্ম এসেছে কি না। আমার প্রশ্ন, ভুল করল ব্যাঙ্ক অথচ আমায় কেন বার বার যেতে হবে? ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কোনও দায় নেই খবর দেওয়ার?

সাধনা সরকার

চুঁচুড়া, হুগলি

 

পরের দিনেই

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা শুরু ১৯-১১-২০১৮ এবং NTSE পরীক্ষা ১৮-১১-২০১৮। NTSE পরীক্ষার পর দিনই টেস্ট পরীক্ষা শুরু হ‌ওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই NTSE পরীক্ষার ফর্ম ফিল আপে আগ্রহী হচ্ছে না। কারণ অনেক শিক্ষার্থীকেই দেড় থেকে দু’ঘণ্টা গিয়ে NTSE পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে, ফলে পরীক্ষা দেওয়া, পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া-আসার সময় নিয়ে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা লেগে যাবে। পরের দিন পরীক্ষা দেওয়া খুদে পরীক্ষার্থীদের পক্ষে যথেষ্ট অসুবিধাজনক। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, যাতে দুই পরীক্ষার মধ্যে ন্যূনতম এক দিন ফাঁকা থাকে।

সুমন্ত কোঙার

মুগুড়া, পূর্ব বর্ধমান

 

জিএসটি নম্বর

রাজ্যের মধ্যে ২০ লক্ষ টাকার কম ব্যবসা করলে জিএসটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেওয়ার কোনও দরকার নেই। কিন্তু আন্তঃরাজ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে জিএসটি নং চাইই চাই। অন্যথা পরিবহণ কোম্পানি পণ্য জমা নেবে না। উপরন্তু প্রতি মাসে ব্যবসার সমস্ত হিসাব জিএসটি অফিসে জমা করতে হবে। আমরা যাঁরা ছোট ব্যবসায়ী, তাঁদের আর্থিক ক্ষমতায় বার বার আইনজীবীর কাছে বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাছে দৌড়ানো সম্ভব নয়। তার চেয়ে বরং বছরে এক বার ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব আমাদের কাছে নেওয়া হোক, আর জিএসটি রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার বন্দোবস্ত হোক। আমাদের রাজ্যের বহু ছোট ব্যবসায়ী যাঁরা আন্তঃরাজ্য ব্যবসা করতেন, তাঁদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

সুজিত সাহা

কলকাতা-৯১