নানা সঙ্কটে দীর্ণ ভারতে এখন হিংসাকে ধর্মীয় বিদ্বেষের আগুনে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এই কারণে বুদ্ধদেব, মহাবীর, গাঁধীজি এবং আরও বহু মহাপুরুষ যাঁরা হিংসাশূন্য মানবসমাজ গঠনের অভিপ্রায়ে লিপ্ত থেকেছেন, তাঁদের জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনার বিশেষ প্রয়োজন। গাঁধীজির সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে দীপেশ চক্রবর্তীর ‘গাঁধীজি কেন প্রাসঙ্গিক’ (২-১০) শীর্ষক নিবন্ধে গাঁধীজির ‘হিন্দ স্বরাজ’ বইটি প্রসঙ্গে আলোচনা পড়লাম। ভারতীয় হিসেবে গর্ব হল যখন নিবন্ধটি পড়ে জানতে পারলাম, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিন্দ স্বরাজ’ পড়ানো হয় ‘‘কোনও ভারত সম্পর্কিত পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে নয়, গাঁধীজিকে পড়ানো হয় এমন সব পাঠ্যক্রমে যেখানে সমস্ত ছাত্রের সাধারণ শিক্ষার একটি ভিত্তি প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হয়। ফলে গাঁধীজির রচনার স্থান হয় প্লেটোর ‘অ্যাপলজি’ বা লক-এর ‘হিউম্যান আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ‘মার্ক্স-এঙ্গেলস’-এর ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ বা জন স্টুয়ার্ট মিল-এর ‘অন লিবার্টি’র পাশেই।’’ অধ্যাপক চক্রবর্তী ‘হিন্দ স্বরাজ’ সম্পর্কে লিখেছেন ‘‘সমগ্র বই জুড়ে গাঁধীজি বলছেন মানুষের আত্মিক ও সার্বিক অহিংসার সাধনা তার লোভ সংবরণের মধ্যে।’’ তবে একই সঙ্গে গাঁধীজি নিজের জীবনে অহিংসার যে অনুশীলন করেছেন, তা জানার পর নানা প্রশ্ন মনে জাগে। সেই জন্যেই এই চিঠি।

চিঠির সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমার সমস্ত প্রশ্ন তুলে ধরা সম্ভব নয়, কেবল একটি ঘটনার কথা বলব। ভগত সিংহের ফাঁসির হুকুম যখন হয়, তখন কলকাতায় একটি প্রতিবাদসভায় নেতাজি ও অন্যান্যদের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। সেই সভায় উত্তেজনা হতে পারে এই আশঙ্কায় হোম সেক্রেটারি এইচ ডব্লিউ এমারসন গাঁধীজিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। উত্তরে গাঁধীজি লেখেন: "I thank you for your letter just received. I knew about the meeting you refer to. I have already taken every precaution possible and hope that nothing untoward will happen. I suggest that there should be no display of police force and no interference at the meeting. Irritation is undoubtedly there. It would be better to allow it to find vent through meeting, etc."

ভগত সিংহের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীর ফাঁসির প্রতিবাদ আটকাতে গাঁধীজি এত সচেষ্ট কেন, আমি বুঝতে পারি না। ফাঁসিও তো দাঁতের বদলে দাঁত, নখের বদলে নখের মতোই ঘৃণ্য হিংসা! ‘হিন্দ স্বরাজ’ রচয়িতার কাছ থেকে কি ফাঁঁসি-প্রদানকারী বিদেশি প্রশাসকের প্রতি এই সমর্থন বিস্ময়কর নয়? 

পঙ্কজ পাঠক

বর্ধমান

 

সংশয় আছে

আমি সরকারি বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষিকা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরীক্ষক। বর্তমান দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা পাঠ্য বইয়ের অন্তর্গত দু’টি পাঠ্য বিষয় নিয়ে আমি ও আমার মতো অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই সংশয়গ্রস্ত। দশম শ্রেণির ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বোধ হয়। মূল গল্পটি সংগ্রহ করে উঠতে না পারায় এটি ছাপার ভুল কি না, তাও সুনিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এই গল্পের ১১ পৃষ্ঠায় ‘‘তবে তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী’’ এর পরে যে অংশটি আছে তা পূর্বের ঘটনাটির ক্রম-অনুযায়ী নয়। বরং ১২ পৃষ্ঠায় ‘‘এই কথাটাই ভাবছে তপন রাত-দিন’’ থেকে ‘‘রোস তোর মেসোমশাইকে দেখাই’’ পর্যন্ত অংশটি রাখা হলে সঠিক ক্রম রক্ষিত হয়। তার পর আবার ১১ পৃষ্ঠায় ‘‘মেসোমশাই কলেজের প্রফেসর’’ থেকে ১২ পৃষ্ঠার ‘‘কিন্তু গেলেন তো— গেলেনই যে’’ থেকে শেষ পর্যন্ত পরিগণিত হলে গল্পটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। মূল গল্পটি পাঠ করে এ বিষয়ে যদি কেউ আলোকপাত করেন তবে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। কারণ ‘কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?’ এর উত্তরে সঠিক ধারাবাহিকতা রক্ষা আবশ্যক। গল্পটি পড়ে তা বোঝা অসম্ভব।

দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মেঘের গায়ে জেলখানা’ প্রবন্ধ পাঠ করে স্পষ্টই বোঝা যায় যে এর প্রথমাংশটিতে বক্সা জেলখানার (দুর্গে) যাত্রাপথের এবং দুর্গটির বর্ণনা আছে (পৃষ্ঠা ১৩২ ‘ক্যাম্পের মতো’ পর্যন্ত)। এর পরে লেখক অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে দেশের জেলখানা ও কয়েদিদের সামগ্রিক অবস্থার একটা বর্ণনা দিয়েছেন (পৃ ১৩২ ‘‘জেলখানা না দেখলে দেশের একটা বড় দিক অদেখা থেকে যায়’’ থেকে পৃ ১৩৪ ‘‘জেলখানায় অসহ্য লাগে শাস্তির এই হেরফের’’ পর্যন্ত)। তার পর 

(পৃ ১৩৪ ‘‘কিন্তু এদের কারও জন্যেই তৈরি হয়নি বক্সার বন্দিশিবির’’) থেকে আবার বক্সার জেলখানার প্রসঙ্গে ফিরে এসেছেন লেখক। কিন্তু গত উচ্চ মাধ্যমিক ২০১৮ পরীক্ষায় আগত প্রশ্নটি (‘‘জেলখানাটা পাহাড়ের তিনতলা সমান একটা হাঁটুর ওপর’’— কোন জেলখানা? সেখানে সাধারণ কয়েদিদের উপর কী রকম অত্যাচার করা হত?) সংশয়ের উদ্রেক করে। বক্সায় সাধারণ কয়েদি থাকতই না, তা ছিল ‘এক বিশেষ জেলখানা’, সেখানে তাদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গই আসে না। অত্যাচারের প্রসঙ্গ আছে দেশের অন্যান্য জেলখানায় সাধারণ কয়েদিদের ক্ষেত্রে, যার বর্ণনা আগে আছে। আমাদের সংশয় ও প্রশ্ন: কিছু সহায়িকা গ্রন্থের ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে আমরা চলব না নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তির ওপর নির্ভর করব? এই বিষয়গুলি বিবেচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে সর্বমহলে অনুরোধ করছি।

বিতান মুখোপাধ্যায়

গভঃ বেসিক-কাম-মাল্টিপারপাস স্কুল, বাণীপুর, উ. চব্বিশ পরগনা

 

আপত্তিজনক

‘প্রাইভেট টিউশন’ (সম্পাদক সমীপেষু, ৩০-৯) শিরোনামে প্রকাশিত চিঠির প্রেক্ষিতে এই চিঠি। ১) পত্রকার বলেছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা, মিড ডে মিল বা কন্যাশ্রী-সহ একাধিক জনমোহিনী জালে শিক্ষকদের জড়িয়ে পড়ার কারণে তাঁদের পড়ানোর মান সন্তোষজনক থাকছে না। বক্তব্যটি যথেষ্ট আপত্তিজনক। একটি বিদ্যালয়ের সব চেয়ে বেশি এক অথবা দুই জন শিক্ষককে এই বিষয়গুলো নজর রাখতে হয়। সব শিক্ষককে নয়। তাই কোনও উচ্চ মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বা কন্যাশ্রীর কাজ পড়াশোনার মান-এ কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। আর এই যুক্তিতে তাঁদের টিউশন পড়ানোর ব্যাপারে সওয়াল করা হাস্যকর বলে মনে হয়। ২) বিনা পারিশ্রমিকে না পড়িয়ে স্কুল শিক্ষকদের বাড়তি অর্থ রোজগারকে সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে উৎসাহভাতা ছাড়া উৎসাহে ভাটা পড়বেই। এ প্রসঙ্গে আমার সবিনয় প্রশ্ন, পত্রকার কথিত জনমোহিনী কর্মকাণ্ডের জন্য আলাদা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হয় কি? যদি না হয় তা হলে পড়াশোনার মানের ক্ষতি ঘটিয়ে জনমোহিনী কাজে স্কুল শিক্ষকদের উৎসাহ আসে কোথা থেকে? ৩) গৃহশিক্ষক কারা, এ বিষয়ে একটি সাধারণ সরলীকরণ করে বলা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ বেকার ছেলেমেয়ে, গৃহবধূ, অবসর প্রাপ্ত কর্মী, বন্ধ হওয়া কলকারখানার বেকার শ্রমিক, উঠতি সেলসম্যান। পড়ানোর থেকে এঁদের সাম্মানিক উপার্জনের দরকারটাকেই বেশি করে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ভাল লাগুক না লাগুক, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার রেজ়াল্ট এখন বহু ক্ষেত্রেই টিউশননির্ভর। টিউশন কে পড়াচ্ছেন সেটা বড় কথা নয়। আসল সমস্যা, স্কুল থাকতেও, এবং স্কুলে শিক্ষকরা থাকতেও কেন আজ শিক্ষার্থীদের টিউশনে গিয়ে পড়তে হচ্ছে? এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা অনেক বেশি জরুরি বলে মনে হয়।

শঙ্খ অধিকারী

সাবড়াকোন, বাঁকুড়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন 

‘বধাই হো’ ছবিটির সমালোচনায় (আনন্দ প্লাস, পৃ ১৫, ২২-১০) পরিচালক অমিত রবিন্দরনাথ শর্মার এটি প্রথম ছবি বলা হয়েছে। তিনি এর আগেও পরিচালনা করেছেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।