দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হওয়ার পর যে প্রতিবেদনগুলি বেরিয়েছে, তার সঙ্গে কিছু সংযোজন করি। অনেক গানে সুরারোপও করেছিলেন। যেমন, শ্যামল গুপ্তের লেখা ‘একরাশ জোছনা এসে পড়েছে’, ‘ওই চোখের ওই চাওয়া’, ‘কেন ও অমন করে চলে গেল’, ‘একদিন দূর পাহাড়ের ধারে’, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা ‘ওগো সুন্দরী আজ অপরূপ সাজে সাজো’, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘ঝাউ বনটাকে পেরিয়ে’, ‘ও চরণ যেয়ো না তুমি’, শ্যামল ঘোষের লেখা ‘আজকে এই আকাশ’, বটকৃষ্ণ দে-র লেখা ‘আজ রবিবার’, অনল চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বোঝো না তো কেন’ প্রভৃতি এমন অনেক গান নিজের সুরে নিজেই গেয়েছিলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়।

এ ছাড়াও দ্বিজেনবাবু ১৯৬৩ সালে জীবন গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘দুই নারী’ ছবিতে সুরারোপ করেছিলেন। এই ছবিতে ‘রাত ফুরায় চাঁদ হারায়’, ‘আয় ঘুম আয় ঘুম মেঘের ভেলায়’, ‘ইয়ে হোটেল কসমপলিটান’, ‘তুমি কোথায় আমি কোথায়’ প্রভৃতি গানগুলি গেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায় ও দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়। এই ছবিতে গীতিকার ছিলেন পবিত্র মিত্র, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনল চট্টোপাধ্যায়। সম্ভবত ‘দুই নারী’ (১৯৬৩) ছবিটিই হল দ্বিজেনবাবু সুরারোপিত একমাত্র বাংলা ছবি।

বিশ্বনাথ বিশ্বাস

কলকাতা-১০৫

 

পাসবই

আমার নিকটবর্তী শহর রানিগঞ্জে ‘স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া’র আমি ১৯৮৭ সাল থেকে গ্রাহক। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ আমার পাসবইটি শেষ হয়ে গেলে, একটি নতুন পাসবই সংগ্রহ করতে আমাকে এই ৭২ বছর বয়সে কী ঝামেলা পোহাতে হয়েছে! নতুন পাসবইটি যিনি দিলেন, তিনি শুধু জমাখরচের পাতাটি কম্পিউটারে আপডেট করে, আমাকে প্রথম পাতাটি ছাপানোর জন্য অন্য কাউন্টারে যেতে নির্দেশ দিলেন। এ বার প্রথম পাতাটি ছাপার পর শুধুমাত্র স্ট্যাম্প লাগাতে অন্য কাউন্টার ও সেখান থেকে বার কোডটি লাগাতে আবার অন্য কাউন্টারে ছুটতে হল। সর্বশেষে পুরো পদ্ধতিটি সচল (অ্যাকটিভ) করার জন্য অন্য একটি কাউন্টারে যাওয়ার নির্দেশ পেলাম। অর্থাৎ একটি নতুন পাসবই পেতে আমাকে পাঁচটি কাউন্টারে ঘুরতে হল, এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট হল। কারণ প্রতিটি কাউন্টারে গিয়ে আমাকে তো দীর্ঘ লাইনের সবশেষে দাঁড়াতে হল। এই ব্যাঙ্কে পাসবই আপডেট করা আর এক যন্ত্রণা। আপডেট করার যন্ত্রটি ব্যাঙ্কের বাইরে। গ্রীষ্মের দুপুরে খোলা আকাশের নীচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যে কী কষ্টকর, সেটাও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করতে পারেন না বলে মনে হয়।

তন্ময় কাঞ্জিলাল

সিয়ারোশোল, পশ্চিম বর্ধমান

 

অন্য ল্যাডার

‘হোর্ডিং খুলতে হাইড্রলিক ল্যাডার’ (৬-১২) সম্বন্ধে বলি, শহরে উঁচুতে লাগানো বেআইনি ব্যানার, হোর্ডিং খুলতে বিপাকে পড়তে হয় পুরকর্মীদের। পর্যাপ্ত ল্যাডার না থাকায় অনেক সময়েই বিপজ্জনক ভাবে উঁচু ব্যানার-হোর্ডিং খুলতে লরির উপরে চেয়ার বা উঁচু কিছু বসিয়ে হোর্ডিং খোলা হয়, ফলে চেয়ার সরে গেলে দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের যাবতীয় কাজই করে পুরসভার জঞ্জাল দফতর। এ বার হাইড্রলিক ল্যাডার কিনতে চলেছে তারা।

এই প্রসঙ্গে বলি, আমি একটি বিশেষ ধরনের ‘টেলিস্কোপিক ল্যাডার’ উদ্ভাবন করেছি, যা ১২ ফুট থেকে ৪০ ফুট উচ্চতায় কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম, কোনও রকমের ঝুঁকি ছাড়াই (বিশেষ ধরনের ব্যাক সাপোর্ট, চাকা-সহ)। একটি হাইড্রলিক ল্যাডারের সমমূল্যেই ১০টিরও বেশি ‘টেলিস্কোপিক ল্যাডার’ কেনা যাবে, অথচ তা গুটিয়ে ১২ ফুট উচ্চতার ঘরেই সহজেই রাখা যাবে। ওই মডেল প্রদর্শনীর জন্য আমন্ত্রিত হয়েছে, ৩-৭ জানুয়ারি, ২০১৯ জালন্ধর, পঞ্জাবে অনুষ্ঠিত ১০৬তম জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে।

জিতেন্দ্র নাথ দাস

কলকাতা-৩

 

জোটের ক্ষেত্রে

‘গন্ধবিচার’ শীর্ষক চিঠি পড়ে জানা গেল, ‘‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলি যা-ই করুক না কেন, শক্তিশালী গণআন্দোলনই জনসাধারণকে কিছুটা রিলিফ দিতে পারে।’’ যদি শাসক দলের অপশাসনে গণআন্দোলনই একমাত্র রিলিফের ভরসা হয়ে দাঁড়ায়, তবে কি ভোটে অপদার্থ শাসক দলটিকে উচ্ছেদের কোনও প্রচেষ্টাই থাকবে না? বাস্তবে এই গণআন্দোলনই তখন জোট গড়ার সহায়ক হয়। সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের ফলাফলে গন্ধবিচার বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে কংগ্রেসের গর্ভ থেকে জন্মানো এ রাজ্যের শাসক দলের কাছে লাঞ্ছিত হয়েও তার সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রে গন্ধবিচার জরুরি।

দেবব্রত সেনগুপ্ত

কোন্নগর, হুগলি

 

ফুলচাষি

রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে তৈরি হওয়া কিসানমান্ডিগুলিতে কয়েক বছর হল ধান কেনাবেচা শুরু হয়েছে। ঠিক সেই রকম ভাবে ফুলচাষিদের উৎপাদিত ফল সরকারি উদ্যোগে সংগ্রহ করে কোলাঘাট বা হাওড়ার মল্লিক বাজারে বিক্রি করার ব্যবস্থা করলে চাষিরা উপকৃত হতেন। কারণ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ফুলচাষিরা বিকেলে ফুল তুলে রাত দুটো-আড়াইটে নাগাদ ট্রেনে বা বাসে বেরিয়ে পড়েন ফুল বিক্রির উদ্দেশে। কিন্তু নিজের ব্লকে হাতের কাছে সেই বিপণনের সুযোগ থাকলে কোলাঘাট বা মল্লিক বাজারের থেকে কিছু টাকা কম দামে বিক্রি করেও লাভ পুষিয়ে যেত। ভোরে সংগৃহীত ফুল কিসানমান্ডি থেকে সরকারি শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে করে ওই সব বাজারে এনে সরকারি ভাবে বিক্রি করলেই হল।

অরিন্দম চক্রবর্তী

বসন্তপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

 

নাটকে সিগারেট

অ্যাকাডেমিতে অভিনীত নাটকগুলির আমি নিয়মিত দর্শক। নাটক চলাকালীন শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত হলটির প্রবেশ পথ বন্ধ থাকে। মঞ্চে অভিনেতাগণ যথেচ্ছ ধূমপান করেন। এটি যেমন অস্বাস্থ্যকর তেমনি অপরকে ধূমপানে উৎসাহিত করে। পরোক্ষে ধূমপানের পক্ষে প্রচারও হয়। তা ছাড়া জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনে বিপদও ঘটতে পারে।

কল্যাণ কুমার রঞ্জিত

রাজাপুর, হাওড়া

 

অলডিন হাউস

শ্রীরামপুর কলেজের দ্বিশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রতিবেদন ‘উৎসবে মাতল ঐতিহ্যের কলেজ’ (৮-১২) শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জানাই, এই উৎসবের পাশাপাশি অনাদরে থেকে গেল এই কলেজের আঁতুড়ঘর।

১৮১৮ সালে গঙ্গার পারে রেভারেন্ড অলডিন সাহেবের বাড়িতেই মাত্র ৩৭ জন ছাত্রকে নিয়ে শ্রীরামপুর কলেজের যাত্রা শুরু করেন তিন মিশনারি— কেরি, মার্শম্যান আর ওয়ার্ড। ১৮২২ সালেই এই কলেজ বর্তমান ভবনে চলে আসে। 

অলডিন হাউস হাওড়া পুরনিগমের ওয়াটার ওয়ার্কসের জমিতে। কলেজ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিন ধরেই বলে আসছেন যে, ইচ্ছা থাকলেও অলডিন হাউস তাঁরা সংস্কার করতে পারছেন না, কারণ জমিটি হাওড়া পুরনিগমের।

দ্বিশতবর্ষ পূর্তিতে কলেজ ভবন আলোয় সেজেছে। এক বছর ধরে হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। কিন্তু সেই ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছে অলডিন হাউস।

সীতাংশু কুমার ভাদুড়ি

চাতরা, শ্রীরামপুর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।