‘চমকে উঠেছিলেন সম্পাদক’ (২৮-৮) ও ‘শতবর্ষ পরও সমান প্রাসঙ্গিক’ (২৯-৮) শীর্ষক নাসিম-এ-আলমের নিবন্ধ দু’টি পড়লাম। মুসলিম সমাজ ও নারী জাগরণে ‘সওগাত’ পত্রিকার ভূমিকার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। কিন্তু কোন পটভূমিতে পত্রিকাখানি সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন প্রকাশ করেছিলেন এবং পত্রিকায় ছবি
ছাপা নিয়ে রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা উল্লেখ করেননি।

প্রসঙ্গত, ‘সওগাত’-এর পূর্বে ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত ‘আখবারে এসলামীয়া’, ১৮৯২ সালে ‘মিহির’ পত্রিকা, ১৮৯৭-তে ‘হাফেজ’, ১৮৯৮ ও ১৯০৩-১৯১১ তিন পর্যায়ে ‘কোহিনুর’ ১৮৯৯-তে ‘ইসলাম প্রচারক’, ১৯০৩-এ ‘নবনূর’, ১৯১৫-তে মৌলানা আকরম খাঁর সম্পাদনায় আল-এছলাম, ও সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকা সমূহ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু তা শিক্ষিত মুসলিম তরুণ সমাজের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। সৃষ্টিশীল লেখা প্রকাশের তাগিদ অন্তরে অনুভব করলেও তা প্রকাশের কোনও প্ল্যাটফর্ম ছিল না। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন তা উপলব্ধি করে সওগাত প্রকাশ (১৩২৫ বঙ্গাব্দ) করেছিলেন।

কিন্তু পত্রিকার জন্য লেখক-লেখিকার সন্ধান পাওয়া গেলেও, চিত্রশিল্পী পাওয়া যায়নি। মুসলমান ছেলেরা ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ কিংবা চর্চা থেকে বঞ্চিত ছিল ধর্মীয় ফতোয়ার কারণে। তাই পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষিত সমাজ এবং ছাত্ররা সওগাত পত্রিকার সম্পাদককে প্রশস্তিতে ভরিয়ে তুললেও, রক্ষণশীল মানুষেরা সমালোচনা শুরু করেন ছবি ছাপা ধর্মবিরোধী কাজ বলে।

ফরিদপুরের বিখ্যাত পির বাদশা মিঁয়া সম্পাদককে চিঠি লিখে জানান, সওগাত পড়ে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। কিন্তু নারী পুরুষের ছবি ছাপায় তা ঘরে রেখে ঈশ্বরের এবাদত করা যাবে না। সুরসিক সম্পাদক তাঁকে প্রত্যুত্তরে লেখেন, ‘‘নোটের উপর রাজার ছবি, রুপোর মুদ্রায় রাজার মূর্তি খোদিত থাকা সত্ত্বেও তা তাঁরা ঘরে রাখেন কী ভাবে? ধর্মপ্রচারকগণ সযত্নে সে সব নোট বা মুদ্রা তাঁদের জামার পকেটে রক্ষা করতেন এবং তা নিয়েই নমাজ ও অন্যান্য ধর্মকার্য সমাধা করতেন কোনও প্রতিবাদ শুনিনি। স্বর্ণযুগের মুসলমানেরা চিত্রশিল্পীকে চিন্তার বিকাশ এবং সৌন্দর্যবোধের উপকরণ হিসাবেই গ্রহণ করেছিলেন।’’ যুক্তি মেনে নিয়ে পির সাহেব তাঁকে গ্রাহক হিসাবে তালিকাভুক্ত করে পত্রিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন।

নিবন্ধকার ক্রীড়াজগতে সওগাতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেননি। সওগাত সম্পাদক মহামেডান খেলোয়াড়দের গাড়িতে তুলে লিন্ডসে স্ট্রিটের এক বিখ্যাত ফোটোগ্রাফারের স্টুডিয়োতে নিয়ে গিয়ে ফোটো তুলে খেলার বিবরণ ও ছবি-সহ সওগাতের বিশেষ সংখ্যা বার করেন। এই পত্রিকায় মঞ্চ ও চলচ্চিত্র বিভাগও চালু হয়েছিল।

বিমলকুমার শীট

বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর

 

টেস্টের প্রশ্নপত্র

‘স্কুলই টেস্টের প্রশ্নপত্র তৈরি করবে’— সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এই নির্দেশ (Memo no. D.S(Aca)/217/T/55 dated 30/08/2018)। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষের কারণ অনেক। প্রথমত, বিদ্যালয়-শিক্ষা গ্রহণের পর মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বসার আগে শিক্ষার্থী তথা শিক্ষকও অপেক্ষা করে থাকেন বাইরের কোনও সংস্থার প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যাচাই করে নেওয়ার জন্য। বর্তমান সময়ের সাজেশন-নির্ভর পড়াশুনার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার ক্ষেত্রেও এ পন্থা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে অভিভাবকদেরও মত। দ্বিতীয়ত, কোনও স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র স্কুল শিক্ষকরা নিজেরা করবেন, না কোনও বৈধ সমিতি থেকে নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সংশ্লিষ্ট স্কুলের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের উপর বর্তায়। তাই এ ক্ষেত্রে পর্ষদের এই নির্দেশনামা স্কুলের স্বাধিকার হরণেরই একটি নামান্তর। তৃতীয়ত, রাজ্যের বাস্তব চিত্র থেকে দেখা যায়, শহরতলি তো বটেই, মফস্সলগুলির অধিকাংশ বিদ্যালয়েই বিষয়ভিত্তিক কোনও স্থায়ী শিক্ষক নেই। কোথাও আংশিক সময়ের শিক্ষক দিয়ে বিষয়টি পড়ানো হয়, আবার কোথাও সে সুযোগটুকুও মেলে না। এ অবস্থায় পর্ষদের এই নির্দেশ একেবারেই বাস্তবসম্মত নয় এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে উপযোগী নয়। চতুর্থত, বেশির ভাগ বৈধ সংগঠনগুলো রাজ্যের বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর দ্বারা প্রশ্ন সেট করেন। তাই পর্ষদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজকেই বঞ্চিত করবে।

বলা হচ্ছে, এতে নাকি প্রশ্নপত্রের সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ হবে। কিন্তু ২০১৭ সালে বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে আসে। শাসক-ঘনিষ্ঠ একটি শিক্ষক সংগঠন নানা অনুমোদনহীন, অবৈধ সংস্থার নামে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে শাসক শিবিরের তকমাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করছিল। এই সংস্থাগুলোর ছিল না কোনও রেজিস্ট্রেশন ও প্যান। কার্যত এই সংস্থাগুলোর নামে কোনও রিটার্ন ফাইল জমা পড়েনি, দরকার হয়নি অডিট করানোরও। এই সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাঁরা কোনও রকম টেস্টের প্রশ্নপত্র তৈরি করেন না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আদায় করা লক্ষ লক্ষ টাকা কার পকেট ভরাল, তা জানা গেল না আজও। এখনও তদন্তের কোনও সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। উপরন্তু, ঘুরিয়ে বৈধ অনুমোদিত সংগঠনগুলির গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ ঘটাল পর্ষদের এই নতুন নির্দেশনামা।

শাসক দলের (সে বর্তমান হোক আর পূর্বতন হোক) স্নেহধন্য শিক্ষক সংগঠন তাদের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশ্নপত্র থেকে প্রচুর টাকা মুনাফা অর্জন করেছে— হয়তো সত্যি। কিন্তু কিছু প্রতিবাদী বৈধ সংগঠন এই প্রশ্নপত্র থেকে অর্জিত লভ্যাংশ মূলত সংগঠনের তহবিলে জমা করে আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি নির্বাহ করে থাকে। ফলে পর্ষদের এই অগণতান্ত্রিক নির্দেশনামায় মাথায় হাত তাদেরও।

অনিমেষ হালদার

শিক্ষক, ঝাপবেড়িয়া হাই স্কুল
(উ. মা.), দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

সমস্যা অনেক

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের সমস্ত স্কুলকে জানিয়েছে, প্রতিটি স্কুলকে বাধ্যতামূলক ভাবে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন নিজেদের শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের দিয়ে করাতে হবে এবং প্রশ্ন পাঠাতে হবে বোর্ডে। এতে সমস্যা অনেক। 

১) প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ও পক্ষপাতিত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে। যে-সব ছেলেমেয়েরা
টেস্টে পাশ না করতে পেরে হাঙ্গামা বাধায়, তারা ছাপাখানা অবধি পৌঁছে যেতে পারে।

২) বাইরের সংস্থার প্রশ্ন হলে, ছাত্রছাত্রীদের মনে যে ইতিবাচক চাপ ও আগ্রহ তৈরি হয়, তা ক্ষুণ্ণ হবে।

৩) এক শ্রেণির শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের টেস্টে সাজেশন লাগানোর টোপে টিউশনির
রমরমা বাড়বে।

৪) মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফলো করলেও স্কুল ভেদে প্রশ্নের স্ট্যান্ডার্ড নেমে যেতে পারে। যা পরীক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ‘ফেস’ করার সময় সমস্যায় ফেলবে।

৫) গ্রামের দিকে ভাল প্রিন্টিং প্রেস অপ্রতুল। ইউনিট টেস্টে বার বার ড্রাফ্ট চেকের পরেও ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র ছাপে। বিশেষ করে ইংরেজির বানান ও পদার্থ বিজ্ঞানের সাংকেতিক ভাষা ভুল ছাপার সম্ভাবনা প্রকট হবে। সমস্যায় পড়বে পরীক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই।

৬) সব চেয়ে বড় সমস্যা হল, প্রশ্ন ছাপার খরচ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে। বর্তমানে দশম শ্রেণিতে পরীক্ষা বাবদ ফি নেওয়া হয় মাত্র ১২ টাকা। তিন বার পরীক্ষার জন্য কাগজ কিনতে এই টাকায় কুলোয় না। সংস্থা থেকে প্রশ্ন কিনলে মাথাপিছু খরচ পড়ে ১০-১১ টাকা। কিন্তু, একই প্রশ্ন ছাপাতেই খরচ পড়বে ২০-২৫ টাকা। এত টাকা আসবে কোথা থেকে? স্কুলগুলিতে ঢাকের দায়ে মনসা বিকোনোর জোগাড় না হয়।

প্রণব কুমার মাটিয়া

পাথরপ্রতিমা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।