Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: সিঁদুর খেলা ও সংস্কার

সিঁদুর খেলা নারীদের স্পষ্টতই দু’টি ভাগে ভাগ করে দেয়। এক দল ভাবেন, আমরা সৌভাগ্যবতী। অন্য দল উপলব্ধি করেন, আমরা নই।

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৮ ০০:০০

হিন্দু রীতি অনুযায়ী দশমীতে দেবী বিসর্জনের আগে সধবা নারীরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। বিদায়ের বিষণ্ণ আবহে এই বর্ণময় অনুষ্ঠানটি একটু অন্য মাত্রা এনে দেয় ঠিকই, কিন্তু এই অনুষ্ঠানে বিধবা নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার সমাজ স্বীকৃত না হওয়ায় একদল নারী যখন শুধু সধবা হওয়ার উচ্ছল আনন্দে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠে গাল, গলা, কপাল রাঙিয়ে তোলেন, তখন শুধু স্বামী নেই এই অপরাধেই(?) হয়তো বা কোনও স্বামীহারা দেবী বিদায়ের পূর্ব মুহূর্তটি নিভৃতে কাটাতে বাধ্য হন। তাঁদের মনের বেদনা বুকের হাহাকার শরৎচন্দ্রের আমলে যেমন ছিল আজকের স্মরণজিৎ চক্রবর্তী, প্রচেত গুপ্তদের আমলেও তেমনই রয়েছে। সিঁদুর খেলা নারীদের স্পষ্টতই দু’টি ভাগে ভাগ করে দেয়। এক দল ভাবেন, আমরা সৌভাগ্যবতী। অন্য দল উপলব্ধি করেন, আমরা নই। অথচ যাঁরা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন একমাত্র তাঁরাই পারেন দীর্ঘ দিনের এই অচলায়তন ভেঙে স্বামীহারাদেরও এই আনন্দানুষ্ঠানে শামিল করতে। সংস্কার বশে তাঁদের কেউ সিঁদুর না মাখতেই পারেন কিন্তু দেখতে আসতে আপত্তি কিসের? আর কুনজর? আজকের শিক্ষিত নারীরা যাঁরা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন, তাঁরাও কি বিশ্বাস করেন বিধবারা থাকলে তাঁদের কুনজর লাগবে? দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা সংস্কার ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারাটাও সমাজ প্রগতির লক্ষণ।

সমীর কুমার ঘোষ

কলকাতা-৬৫

হারিয়ে যাবে

‘পুজোর গান নয়, হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পীরা’ (আনন্দ প্লাস, ১২-১০)— এমনই বলছেন সুরকার শান্তনু মৈত্র। তিনি ‘সা-রে-গা-মা’ সেটে তাঁর অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন। এই টিভি অনুষ্ঠানে আমরা প্রধানত তরুণতরুণীদের দেখতে ও শুনতে পাই প্রতিযোগিতামূলক আসরে। তারা নিজেদের সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে যোগ্যতা প্রমাণে আগ্রহী। তবে লক্ষ্য করছি এই আসরে সঙ্গীত পরিবেশনের চেয়ে দর্শনীয় ‘স্টেজ শো’-তে কে কত বেশি পারদর্শী। শ্রীমৈত্রকে এমনও বলতে শুনেছি, বছর দুই আগে, এক প্রতিযোগীকে: ইউ গট টু আনলার্ন ক্লাসিকাল মিউজ়িক (তোমাকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ভুলতে হবে)। সে যে অল্প বয়স থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে শিক্ষা গ্রহণ করে লাভবান হয়েছে, তার কণ্ঠ সঙ্গীত পরিবেশনের শেষে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভিত্তিকে এক বাক্যে উড়িয়ে দেওয়াতে বেশ হতবাক আমি। লতা মঙ্গেশকর যে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং চর্চা রাখতেন আমরা এমনই জানতে পারি। প্রতিযোগীটির সুগায়ন অবশ্য উড়িয়ে দেননি বিচারকেরা। সে উত্তীর্ণ হয়, কিন্তু পরবর্তী রাউন্ডগুলোয় সে তার গানের রকম ও চলন বদলায় এবং ‘স্টেজ শো’ দেওয়ায় নজর দেয়। তাতেও সে উত্তীর্ণ হয়। ফোকাস বা নজর যদি এই দিকেই হয়, তা হলে গানের শিল্পীরা হারিয়ে যেতেই পারে।

এই প্রসঙ্গে দেবজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুজোর জলসা, হাসির আসর’ প্রতিবেদনটি মনে পড়ে গেল (১০-১০)। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: ‘‘মুম্বই থেকে অভিনেতা, গায়কদের এনে শুধুমাত্র হিন্দি নাচ-গানের আসর বসানো শুরু হল। তার বিশাল মঞ্চ, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ঘরোয়া জলসাকে ভুলিয়ে দিল। গান হয়ে উঠল ‘দেখার জিনিস’।’’ ‘সা-রে-গা-মা-পা’র প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গীতশিল্পী অপেক্ষা বিভিন্ন সাজ ও অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে অল্প-বিস্তর ‘বলিউডি’ বা ‘ফিল্মি’ চটুল নৃত্য-সহ সঙ্গীত পরিবেশনে বেশি প্রচেষ্ট হতে হয়। শুধু ভাল গান গেয়ে বিচারকদের মন ভিজিয়ে প্রথম দিকের রাউন্ডে যদি বা উতরানো যায়, পরের দিকে মুশকিল। ‘দেখার জিনিস’-এ বেশি জোর ও নজর দেওয়া হলে, যথার্থ গানের ‘শিল্পীরা হারিয়ে’ যাওয়া বিচিত্র নয়।

সুমনশঙ্কর দাশগুপ্ত

কলকাতা-৬০

হেমন্তের মূর্তি

নীল আকাশের নীচে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে আছেন সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে পূর্ণাবয়ব মূর্তি রূপে। কিন্তু খুবই দুঃখের এবং পরিতাপের বিষয় যে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিটি দিনের পর দিন রাতের অন্ধকারে ঢেকে থাকে। কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। এবং মূর্তির সংলগ্ন অংশটিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নয়। এ হেন অবহেলা দেখে চোখের জল এসে যায়। সেই জন্য কলকাতা পুরসভা ও পূর্ত দফতরের কাছে সবিনয় নিবেদন, অবিলম্বে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিটির জন্য সুসজ্জিত আলোর ব্যবস্থা করা হোক। সেই সঙ্গে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের (জন্ম: ১৬ জুন ১৯২০/ মৃত্যু: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯) জন্মশতবর্ষের কথা মাথায় রেখে মূর্তিটি নানান ভাবে আকর্ষক করে তোলা হোক।

বিশ্বনাথ বিশ্বাস

কলকাতা-১০৫

পুজোর গান

‘সপ্তমীতে সপ্তপদী’ (রবিবাসরীয়, ১৪-১০) শীর্ষক শ্রদ্ধেয়া হৈমন্তী শুক্লর নিবন্ধ পড়ে এই চিঠি। পুজোর গান সম্পর্কে যা বলেছেন, সবই নিত্যবৃত্ত অতীতের কথা। বর্তমান সম্পর্কে আপনি বলেছেন, ‘‘এখন বড় কষ্ট হয়। শিল্পীর সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পুজোর গান শোনার সেই উন্মাদনা আর শ্রোতাদের মধ্যে দেখি না।’’ এখন কি সে ভাবে পুজোর গান বার হয়? যেখানে পুজোর কোনও নূতন গানই বার হয় না, সেখানে পুজোর গান শোনার জন্য শ্রোতাদের উন্মাদনা থাকবে কী ভাবে?

সত্যকিংকর প্রতিহার

যমুনা দেশড়া, বাঁকুড়া

পুজোর ক’টা দিন

এ বছর পুজো কাটালাম জামশেদপুরে। শুনেছি সংখ্যায় প্রায় তিনশোর বেশি দুর্গাপুজো এখানে হয়। ষষ্ঠী থেকে ক্রমাগত এ-দিক ও-দিক ঘুরে বেড়াই। টাটা এরিয়ার রাস্তাঘাট মসৃণ, মনোরমও। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। গাড়ি চলাফেরায় নিয়মের অভাব। তবে তাকে কেন্দ্র করে কলকাতার মতো একটুতেই ঝগড়া নেই এখানে।

শুধু বাঙালিরাই নয়, বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকজন এখানে দুর্গাপুজো করেন। আর বেশির ভাগ পুজোই অনুষ্ঠিত হয় মাঠে, অনেকটা জায়গা নিয়ে। মাঠের চার পাশে থাকে নানা রকমের দোকান আর বাচ্চাদের বিনোদনের নানা খেলনা। এখানে একটা পুজো দেখলাম ১০০ বছরে পদার্পণ করল।

বিদেশে বা আবাসনের সব পুজোতেই দেখেছি পুজোর ক’দিন ধরে চলে খাওয়াদাওয়া। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘মিলনি’ নামে এখানকার বাঙালিদের এক ক্লাব আছে, সেখানেও চলছে পুজো। খুব ভাল খাওয়া হয় এখানে। কলকাতার বড় বড় ক্লাবের মতো এই ক্লাবেও আছে রেস্তরাঁ। তবে ব্যতিক্রম, এখানে সবাই আসতে পারেন। অন্য জায়গায় দেখেছি পুজোর ক’দিন বিশেষ করে দিনের বেলায় সবাই আসেন বাঙালি সাজে। ছেলেরা পাঞ্জাবি আর মেয়ে-বৌরা শাড়ি। কিন্তু এখানে দেখছি তার উল্টোটা। একমাত্র অষ্টমীতেই দেখলাম শুধু পাঞ্জাবির সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। সন্ধ্যাবেলা বেশির ভাগ মণ্ডপেই চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বোঝা যাচ্ছে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অনেক দিন ধরেই চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যত দিন এই অনুষ্ঠান থাকবে পাড়ার বাচ্চারা বড় হবে এক সু-সংস্কৃতির মধ্যে। না হলে টিভির ভয়ঙ্কর গ্রাস পুরোপুরি গিলে নেবে।

সুপ্রিয় রায়

গড়িয়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

গত ১৪ অক্টোবরের শব্দছকের ‘সমাধান’ অংশে ভুলবশত ‘ইমাম’ শব্দের বদলে ‘ইমান’ মুদ্রিত হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

Durga Puja Vijaya Dashami Ritual Widow
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy