E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: দুই দলের দুই মুখ

পার্থক্য হল, লালকৃষ্ণ আডবাণীর স্বপ্ন ভেঙে নরেন্দ্র মোদী প্রতিষ্ঠিত একটি সাজানো দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধে অসন্তুষ্ট হয়ে নিজ হাতে দল গড়েছেন।

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৭:৫৮

দীপল ত্রিবেদীর ‘বাঙালি সত্তার লড়াই’ (১৩-৪) প্রবন্ধের সূত্রে কিছু কথা। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ঘটেছে, কিন্তু প্রবন্ধটি আগামী দিনেও সমান প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাটি থেকে মসনদে উঠে আসার লড়াই করেছেন। উভয়ের জীবন বর্ণময় এবং নিজস্ব রাজনীতির প্রতি আস্থাশীল। তবে তাঁরা উঠে এসেছেন বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার সূত্র ছাড়াই। কয়েক দশক জুড়ে নিজেদের পক্ষপুটে ভর করে রাজনীতিকে যে ভাবে গড়ে তুলেছেন, তাতে দলের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিসত্তাই বড় হয়ে উঠেছে। তাই ভারতে বিজেপি মানেই মোদীজি, আবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল মানেই দিদি, নির্বাচনের ফল যেমনই হোক না কেন, দলে এঁদের বিকল্প নেই।

তবে পার্থক্য হল, লালকৃষ্ণ আডবাণীর স্বপ্ন ভেঙে নরেন্দ্র মোদী প্রতিষ্ঠিত একটি সাজানো দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধে অসন্তুষ্ট হয়ে নিজ হাতে দল গড়েছেন। ধীরে ধীরে দলের রাশ ধরে একক কৃতিত্বে উঠে এসেছেন দীর্ঘ দিনের বামশাসিত পশ্চিমবঙ্গের মসনদে। তবে আত্মপ্রচারে দু’জনেরই জুড়ি মেলা ভার। দু’জনেই প্রচারের অন্যতম মুখ। তাই বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে শোভা পায় নরেন্দ্র মোদীর ছবি, আর বঙ্গে পনেরো বছর ধরে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। তবে এই সূত্রে বোধ হয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না ওড়িশার প্রসঙ্গটি তোলা। এক সময় দীর্ঘকাল নবীন পট্টনায়ক মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা সত্ত্বেও ভুবনেশ্বরের মতো শহরে কোথাও তাঁর ছবি দেখা যায়নি। আজ আত্মপ্রচার-বিমুখ এমন ব্যক্তি বিরল।

দলগত ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মোদীজি সাম্প্রদায়িক বিভেদের রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রয়োজনে ইডি বা সিবিআই-কেও কাজে লাগায় তাঁর সরকার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে সে পথে হাঁটেননি। সর্বোপরি, এত দিন ধরে তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো তৈরি। অনেক রাজ্য এমন দাতব্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও এ বিষয়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে আছেন। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জ ৬২টি দেশের ৫৫২টি সামাজিক প্রকল্পের মধ্যে ‘কন্যাশ্রী’কে সেরার শিরোপা দিয়েছে। সে দিক থেকে তিনি সারা বিশ্বের নজর কেড়েছেন। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সাথী। এখানে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা রয়েছে। বিনামূল্যে খাদ্য সাথী। সর্বোপরি লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তার সংখ্যাও সাম্প্রতিক কালে যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি বিজেপি-কেও প্রচারে এসে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ না-হওয়ার আশ্বাস দিতে হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেও নানা ভাতা প্রদান করেছেন তিনি। অতীতে বহু বার ভোটের ফলাফলে তার সুফলও পেয়েছেন।

অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনকল্যাণ নীতি নিয়ে বহু বার প্রশ্ন উঠেছে। আসলে তাঁর ঘরের চাবি তো আরএসএস-এর হাতে। তাই তাঁকে হুঙ্কার দিতে হয় ‘হিন্দু হিন্দি হিন্দুস্থান’। কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক নানান নীতি থাকলেও বিরোধীদের মতে, কতিপয় শিল্পপতির প্রতি তাঁর দরদ অনেক বেশি। ভারতবাসীকে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যক্ষেত্রে তা ফলপ্রসূ হয়নি। শিক্ষা ক্ষেত্রে গৈরিকীকরণও লক্ষণীয়। ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বহু মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

আমরা একটা স্বচ্ছ সরকার চেয়েছিলাম। পালাবদলের পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে সেই আশ্বাস পূরণ হবে কি না, সময় বলবে।

সূর্যকান্ত মণ্ডল, কলকাতা-৮৪

একপেশে

দীপল ত্রিবেদীর ‘বাঙালি সত্তার লড়াই’ প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বলি, পশ্চিমবঙ্গ যে এই নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বিজেপির প্রভাবমুক্ত ছিল, তার অন্যতম প্রধান কারণ বাঙালি সমাজের ধর্মভিত্তিক বিভাজনের প্রতি ঐতিহাসিক অনীহা। এই সামাজিক-মানসিক বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব একক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হলে তা বাঙালি সমাজের দীর্ঘ দিনের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা— বিশেষত হিন্দু বাঙালির অবদানকে অস্বীকার করার শামিল। এ কথাও স্বীকার্য যে, কমিউনিস্ট মতাদর্শের দীর্ঘ প্রভাব এই ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রবন্ধকার কিছু সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছেন— যেমন দারিদ্রসীমার ঊর্ধ্বে থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, জিএসডিপি বৃদ্ধির হার ইত্যাদি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়াও প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এক সময় অন্যান্য রাজ্য থেকে শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে বাংলায় আসতেন, কারণ এখানে কর্মসংস্থান ও মজুরির হার তুলনামূলক ভাবে বেশি ছিল। বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। আজ বাংলার শ্রমিকরা পর্যাপ্ত কাজের অভাব এবং কম মজুরির কারণে বাধ্য হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এমনকি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক আর্থিক অনুদানের ঘোষণা সত্ত্বেও তাঁরা ফিরে আসতে অনিচ্ছুক, কারণ অন্য রাজ্যের তুলনায় এখানকার আয় অনেক কম।

প্রবন্ধে তৃণমূল আমলে দুর্নীতির প্রসঙ্গ কিছুটা এলেও তার গভীরতা যথাযথ ভাবে প্রতিফলিত হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ বা পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির ঘটনাগুলি নিঃসন্দেহে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা বহুলাংশে হ্রাস করেছে। আর জি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড কেবল ধর্ষণসংক্রান্ত অপরাধ নয়, বরং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্তর্নিহিত দুর্নীতির মারাত্মক পরিণতি। এর ফলে এই ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ প্রদান সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘসূত্রতা প্রদর্শন অব্যাহত।

নিশ্চয়ই, দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ তুলে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পদক্ষেপ। এর ফলে যেমন প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হন, তেমনই বাজারে অর্থ প্রবাহ বাড়িয়ে অর্থনীতিকেও সক্রিয় করে তোলা হয়। কিন্তু সরকারের আয় বৃদ্ধির সুদৃঢ় ভিত্তি না থাকলে এই ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। আর সেই আয় বৃদ্ধির প্রধান উপায় হল শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। এই রাজ্যে সেই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও দেখা যায়নি।

তড়িৎ দাস, কলকাতা-৬

তীব্র শব্দ

উত্তর কলকাতার খান্না, হাতিবাগান অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় সারা দিন কিছু মানুষ রাস্তায় বসে উচ্চৈঃস্বরে লাউডস্পিকার/ মাইক বাজান। এই অঞ্চলে অসংখ্য মন্দির তৈরি হয়েছে। সেখানে প্রায় সারা দিনই মাইক বাজে। যেমন, মনমোহন বোস স্ট্রিট ও শ্রী অরবিন্দ সরণির সংযোগস্থলে সম্প্রতি তৈরি হওয়া মন্দিরে সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে, কখনও কখনও রাত বারোটা-একটা পর্যন্ত মাইক বাজে। এই তীব্র শব্দ শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

শিবব্রত রায়, কলকাতা-৬

বাস নেই

শ্রীরামপুর থেকে প্রতি দিন অসংখ্য মানুষ কলকাতায় যাতায়াত করেন। বর্তমানে এই যাতায়াতের প্রধান ভরসা লোকাল ট্রেন। কিন্তু ট্রেনে অত্যধিক ভিড়ের কারণে বয়স্ক, অসুস্থদের যাতায়াত করা দুঃসাধ্য। রেল অবরোধ বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হলে শ্রীরামপুর কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। অথচ, জি টি রোডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থাকা সত্ত্বেও বাস পরিষেবার অভাবে সাধারণ মানুষ সেই সুযোগ নিতে পারছেন না। আগে হাতেগোনা বাস চললেও বর্তমানে তা অনিয়মিত বা পুরোপুরি বন্ধ।

দেবাশিস চক্রবর্তী, মাহেশ, হুগলি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee Narendra Modi TMC BJP West Bengal Politics West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy