নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত সুজাপুরে দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এক সময় ‘গনি খানের গড়’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় কংগ্রেসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী দাপট ছিল। কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে সেই জমি নড়বড়ে হতে শুরু করে। এর পরে লোকসভা নির্বাচনে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিললেও, তা যে স্থায়ী হয়নি, এ বারের বিধানসভার ফলই তা স্পষ্ট করে দিল। ৬০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিতলেন তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। কেন এই পরিস্থিতি, বিশ্লেষণ শুরু করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
মালদহের রাজনৈতিক পটভূমিতে এক সময় প্রয়াত নেতা গনি খান চৌধুরীর হাত ধরে সুজাপুর কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। পরবর্তীতে গনি পরিবারের রুবি নুর থেকে শুরু করে মৌসম নুর, আবু নাসের খান চৌধুরী (লেবু), ইশা খান চৌধুরী এই আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে এখানে প্রথম ধরাশায়ী হয় কংগ্রেস। সে বার কংগ্রেস প্রার্থী ইশাকে ১ লক্ষ ৩০,১৬৩ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তৃণমূলের আব্দুল গনি। তবে লোকসভা নির্বাচনে সুজাপুর কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করে কংগ্রেস এবং ৮৩,৬২৯ ভোটে লিড পায় তারা।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সুজাপুরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় মরিয়া ছিল। সংগঠন মজবুত করা, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা— সবই ছিল কৌশলের অংশ। কিন্তু বাস্তবে ভোটবাক্সে সেই প্রচেষ্টার প্রতিফলন মিলল না। উল্টে প্রায় ৬০,২৮৭ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন কার্যত কংগ্রেসকে কোণঠাসা করল। যেখানে তৃণমূল প্রার্থী এক লক্ষ ১২,৭৯৫ ভোট পেয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের ঝুলিতে পড়েছে ৫২,৫০৮ ভোট।
কংগ্রেসের এই ভরাডুবির পিছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ তৃণমূলে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বুথ স্তরে কর্মীর অভাব। তৃতীয়ত, নেতৃত্বের অভাব। জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব ফলের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ শুরু করেছে। কোথায় ঘাটতি ছিল, কেন ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা গেল না এবং ভবিষ্যতে কী ভাবে সংগঠন পুনর্গঠন করা যায়— তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ইশা খান চৌধুরী বলেন, ‘‘কেন এমন হল তা পর্যালোচনা করে দেখছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)