উপমুখ্যমন্ত্রী থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর দৌড়ে আছেন উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত পুরনো, নতুন বিজেপি বিধায়কেরা। বিধানসভার প্রচার পর্বে এবং আগেও বারবার উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মোদী-শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির রাজ্য নেতারা। সে কারণে বিজেপির মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের যোগদান চোখে পড়ার মতো থাকবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের দাবি, ২০০৯ সালের নির্বাচনে দার্জিলিং লোকসভা আসনে জয়ের পর থেকে উত্তরবঙ্গ বিজেপিকে কখনও খালি হাতে ফেরায়নি। গত বিধানসভা ভোটে উত্তরবঙ্গই বিজেপিকে বেশি সংখ্যক আসন দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তথা আরএসএসের ভিতও উত্তরবঙ্গে তুলনামূলক মজবুত। বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের থেকে নির্বাচিত কেউ না হলে উত্তরবঙ্গের কোনও বিধায়ক উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ পান, তা চাইছেন দলের নেতাদের বড় অংশ।
বিজেপি মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় থাকতে পারেন শঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মণ, নিশীথ প্রামাণিকের মতো বিধায়কেরা। বিদায়ী বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক ছিলেন শঙ্কর। এ বারও শিলিগুড়ি থেকে রেকর্ড ভোটে জিতেছেন শঙ্কর। শুভেন্দু অধিকারীর ‘আস্থাভাজন’ শঙ্কর উত্তরবঙ্গের অলিখিত রাজধানী শিলিগুড়ি থেকে দ্বিতীয় বার নির্বাচিত।
দলের প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা সঙ্ঘের ‘নিজস্ব লোক’ দীপক বর্মণ দ্বিতীয় বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থেকে। আবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও এ বারে মাথাভাঙা থেকে বিধায়ক হয়েছেন। অমিত শাহের প্রাক্তন ডেপুটি নিজের পূর্বপদের ধারে-ভারে মন্ত্রিসভায় জায়গা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেছেন বলে অনেকের দাবি।
মন্ত্রিত্বের মাপকাঠিতে জেলার ভারসাম্যও আসবে। মালদহের মতো এক সময়ের কংগ্রেসের দুর্গে এ বার বিজেপি অর্ধেক আসন পেয়েছে। উত্তরের কিছু জেলা যেমন আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিঙে বিজেপি সব আসন জিতেছে। মন্ত্রিসভা গঠনের আগে সেই জেলাগুলির কথাও ভাববে বিজেপি নেতৃত্ব। রয়েছে ভোট ব্যবধানের হিসাব এবং জনজাতি বিন্যাসও।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি থেকে রেকর্ড ভোটে জিতেছেন সঙ্ঘের ‘ঘরের ছেলে’ আনন্দময় বর্মণ, পর পর দুই বার বিশাল ব্যবধানে জিতেছেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ও। চা বলয়-সহ নানা প্রান্তের প্রচুর আদিবাসী ভোট পেয়েছে বিজেপি। চা বাগান থেকে পরপর দুই বার নির্বাচিত হয়েছেন নাগরাকাটার পুনা ভেংরা, কুমারগ্রামের মনোজ ওরাওঁ, আদিবাসী প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন কোচবিহারের মালতি রাভা রায়, তপনের বুধরাই টুডুও।
নবীন মুখে করণদিঘীর বিরাজ বিশ্বাস আইনজীবী এবং এবিভিপি-র দাপুটে নেতা। আবার বিদায়ী উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর মতো ওজনদার নেতাকে হারিয়ে বিধানসভায় যাওয়া অজয় রায়ের মতো বিধায়কেরাও রয়েছেন। ভোটের ঠিক আগে কোচবিহারে নিয়ে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি রথীন বসুকে লড়িয়ে জিতিয়েছে বিজেপি। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী উৎপল ব্রহ্মচারীকে ভোটে দাঁড় করিয়ে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে চমক দিয়েছিল বিজেপি। তিনি জিতেছেনও।
সবমিলিয়ে কারা মন্ত্রিসভায় যাচ্ছেন তা নিয়ে চর্চা চলছে। যদিও টিকিট দেওয়ার মতো মন্ত্রী বাছাইয়েও আরএসএসের মতামত থাকবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)