১৩ ডিসেম্বরের কাগজে প্রকাশিত ছবিতে দেখলাম, ঈশা অম্বানীর বিয়েতে অনিল অম্বানী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাঁধে হাত দিয়ে ছবি তুলেছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কাঁধ জড়িয়ে এ ভাবে ছবি তোলা কি শোভন?

মৃণালকান্তি মিত্র

ইমেল মারফত

 

৮০ ডিগ্রি মদ

২০০৯-এর মে মাস থেকে জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত ‘চোলাই বলি’-র মর্মান্তিক মৃত্যুর যে তালিকা (২৯-১১) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের চা-বাগান অধ্যুষিত জেলা যেমন জলপাইগুড়ি বা আলিপুরদুয়ারের নাম নেই। উল্লেখ নেই দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো দারিদ্রপ্রবণ জেলার নামও। এর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ, এই সব গ্রামীণ গরিব অঞ্চলে কম শক্তির ৮০ ডিগ্রি আন্ডারপ্রুফ সরকারি দেশি মদ অল্প দামে বিক্রির ব্যবস্থা চালু আছে (আন্ডারপ্রুফ স্পিরিট, নির্ধারিত ১০০ শতাংশ প্রামাণ্য শক্তির অ্যালকোহলে নির্দিষ্ট মাত্রায় পরিস্রুত জল মিশিয়ে তাকে লঘু বা কম শক্তি করার প্রক্রিয়া)। দেশি মদ মূলত চার ভাগে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন পণ্যাগারে তৈরি করা হয়— ৫০ ডিগ্রি, ৬০ ডিগ্রি, ৭০ ডিগ্রি এবং ৮০ ডিগ্রি আন্ডারপ্রুফ শক্তিযুক্ত মাত্রায়। বিভিন্ন মাপের বোতলে তা পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ৮০ ডিগ্রি আন্ডারপ্রুফ দেশি মদে বা পেয় অ্যালকোহলে প্রামাণ্য শক্তির (প্রুফ অব স্পিরিট) মাত্রা মাত্র ২০ শতাংশ হওয়ায়, মদ হিসেবে এটি যেমন অনেকাংশে নিরাপদ, এর ধার্য শুল্কও সবচেয়ে কম। বিশেষত চা-বাগান এলাকায় সরকারি দেশি মদের দোকানে, গরিব শ্রমিক ও দিনমজুরদের কাছে কম অ্যালকোহলযুক্ত স্বল্প দামের দেশি মদের বিক্রির বিশেষ ব্যবস্থা চালু থাকায়, সেখানে বিষমদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা সচরাচর শোনা যায় না। 

কিন্তু দেশি মদে শক্তিযুক্ত মাত্রা অনুযায়ী যে হেতু আবগারি অন্তঃশুল্ক নির্ধারিত হয়— তাই মোটা রাজস্ব আদায়ের অনিবার্য স্বার্থে, উক্ত ৮০ ডিগ্রি দেশি মদের বদলে ৫০ ডিগ্রি, ৬০ ডিগ্রি, ৭০ ডিগ্রির মতো বেশি শক্তিযুক্ত দেশি বা বাংলা মদ তৈরি ও বিক্রির তাগিদ সরকারের বেশি থাকে। তাই নথিভুক্ত কিছু জেলা বা অঞ্চল ছাড়া, শহর ও শিল্পাঞ্চলের দেশি মদের দোকানগুলোতে, ৮০ ডিগ্রির সস্তা মূল্যের সরকারি বাংলা মদ বিশেষ পাওয়া যায় না কিংবা রাখা হয় না। 

দেখা গিয়েছে, ৫০ ডিগ্রি, ৬০ ডিগ্রি বা ৭০ ডিগ্রি দেশি মদে বেশ কিছু কাল ধরে নেশা করাও শরীরের পক্ষে খুবই হানিকর— যার শিকার হতে হয় বহু গরিব লোককেই। কিন্তু ৮০ ডিগ্রি দেশি মদে অ্যালকোহলের পরিমাণগত ভাগ অনেক কম থাকায়, এ ক্ষেত্রে সেই বিপদের আশঙ্কাও তুলনামূলক কম। 

অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের স্বার্থকে একটু দূরে সরিয়ে রেখে তাই কল্যাণকামী সরকারের কি কাম্য নয় ৮০ ডিগ্রির দেশি মদে প্রয়োজনে কোনও আবগারি শুল্ক না চাপিয়ে একে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে জোর দেওয়া? বিদেশি বা ভারতে তৈরি বিলেতি মদ যা ওভারসিজ় ও আইএমএফএল নামে সুবিদিত, বরং তার উপরে বর্ধিত শুল্ক বসিয়ে সেই রাজস্বের ঘাটতিকে অনেকটা ঠেকানো যেতে পারে।

পৃথ্বীশ মজুমদার

কোন্নগর, হুগলি

 

রেলের দোষ?

‘ফোন কানে তরুণীদের বাঁচিয়ে জখম যুবক’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত (১৪-১২) খবরের প্রেক্ষিতে জানাই, যে কোনও প্রকার সমস্যায় পড়লেই মানুষ ক্ষোভ জানাতে রেলকে বেছে নিয়েছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখের। অনেক সময় দেখা যায়, কারখানা বন্ধ, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কিংবা পাড়ার ঝামেলার ক্ষোভ এসে পড়ে রেলের উপর। কথায় কথায় রেল অবরোধ করে অগণিত মানুষকে বিপদে ফেলে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা চলছে বহু দিন ধরে। সাধারণ জনগণ নিয়ম ভেঙে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও, বাস্তবে দেখা গিয়েছে দোষ চাপানো হয় রেলের উপর। সাবওয়ে কিংবা ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও মানুষ রেল লাইন পারাপার করে অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। যে কোনও রকম দুর্ঘটনাই দুঃখের, কিন্তু একটু সচেতন হলেই মানুষ রক্ষা পেতে পারেন। নিজেদের দোষও তো দেখতে হবে। 

নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ

কলকাতা-১২২

 

পক্ষপাত কেন?

তিনটি রাজ্যে কংগ্রেস জিতল, তার পর কি তারা ইভিএম বা ইলেকশন কমিশন নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলেছে? অথচ প্রত্যেক বার হারার পর তারা ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলে! আপনারা এ নিয়ে কিছুই লিখলেন না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যখন রাহুল গাঁধী কথা বললেন, সেটাকেই প্রথম পাতায় বড় বড় করে ছাপলেন। এই কাজ অন্য কোনও দলনেতা করলে আপনারা আগাপাশতলা তুলোধোনা করতেন। 

বাপী শীট

বাঁকুড়া

 

প্রতিবাদ জানাই

আপনার সংবাদপত্রে ১৩-১২ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ ‘‘চলল তাণ্ডব, অভিযুক্ত কাউন্সিলরই’’ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। 

দুই ভাই জয়ব্রত ও সুব্রত দে-র বিরুদ্ধে অঞ্চলের সকল মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, আর্থিক প্রতারণার বহু অভিযোগ আছে। এরা কোনও রকম ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস বা এলাকার রাজনৈতিক বা সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে কোনও রূপ ভাবে জড়িত নয়। 

২৬ নম্বর রাধামধব দত্ত গার্ডেন লেন— বেলেঘাটা, এই অঞ্চলের জনৈক মহিলাকে শ্লীলতাহানি এবং অকথ্য গালিগালাজকে কেন্দ্র করে অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে ওদের গন্ডগোল হয়। যার সঙ্গে কোনও রকম ভাবে আমি বা আমার রাজনৈতিক সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ আপনাদের মতো একটি বিখ্যাত বহুল প্রচারিত দৈনিক, ঘটনার সত্যাসত্য যাচাই না করে আমার সম্পর্কে এই খবরটি প্রচার করলেন।

পবিত্র বিশ্বাস

কাউন্সিলর, ৩৩ নং ওয়ার্ড

বেলেঘাটা মেন রোড

 

প্রতিবেদকের উত্তর: প্রতিবেদনে পবিত্র বিশ্বাসের নাম লেখা হয়েছে কারণ, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলেঘাটা থানায় দায়ের হওয়া দু’টি অভিযোগপত্রের (প্রতিলিপি আছে) একটি দায়ের হয়েছিল পবিত্রবাবুর বিরুদ্ধেই। অভিযোগটি অভিযোগকারীর বয়ানেই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে। এ ব্যাপারে পবিত্রবাবুর সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তিনি যা বলেছিলেন, তা-ই উদ্ধৃত হয়েছে। সেখানে প্রতিবেদকের নিজস্ব বক্তব্য বা মতামত নেই।

পবিত্রবাবু পত্রে দাবি করেছেন, অভিযুক্ত জয়ব্রত এবং তাঁর দাদা সুব্রত দে ত়়ৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ‘কোনও রূপ ভাবে’ জড়িত নন। অথচ, বিষয়টি জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা জয়ব্রতের ছবি হোয়াটসঅ্যাপ করে জানান, ‘‘এক সময় এঁর সঙ্গে ঘুরত। ছবিটা ছাপুন। ওর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ। দলের নামে বদনাম করছে।’’ জয়ব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও ভাবে জড়িত না হলে, তিনি ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে ঘুরে ‘দল’-এর বদনাম করছেন, এই কথার মানে কী?

তরুণীকে হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে জয়ব্রত এবং সুব্রতকে গ্রেফতার করা হয়, তা লেখা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রসঙ্গত, ঘটনার পরে তরুণীর দায়ের করা অভিযোগপত্রও পবিত্রবাবুই হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিবেদককে পাঠিয়েছিলেন।

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

‘সন্তানকে দেখবে কে, অটিজ়ম উপনগরী গড়ছেন ব্যবসায়ী’ শীর্ষক সংবাদ প্রতিবেদনে (রাজ্য, পৃষ্ঠা ৫, ২৩-১২) সমাজকর্মী অমৃতা পাণ্ডার প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে ‘‘১৮০টি অটিস্টিক বাচ্চা তাঁর তৈরি সংস্থার ‘হোম’-এ থাকে।’’ ওই সংস্থা তাঁর তৈরি নয়। তিনি সংস্থার প্রোগ্রাম হেড। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।