সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: কাল ধরিত্রী দিবস

Environment

এই তো সে দিন, যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুধু চিনে সীমাবদ্ধ, বিশ্ব জুড়ে তখনও ছড়িয়ে পড়েনি, দশম শ্রেণির ক্লাসে ইংরেজ কবি টেড হিউজের লেখা ‘মাই ওন ট্রু ফ্যামিলি’ কবিতাটি আলোচনা করছিলাম। ছাত্রছাত্রীদের বলেছিলাম, আমাদের সত্যিকারের পরিবার হল এই প্রকৃতি এবং এর গাছপালা, জীবজন্তু, পাখপাখালি, সমস্ত কিছু। এই ক্লাসের এক মাসও পার হয়নি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সুনামির মতো দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল। বাড়িতে বসে ছাত্রছাত্রীরা এখন নিশ্চয়ই নিজেদের পরিবারের সঙ্গে এই বিশ্বপ্রকৃতিকেও উপভোগ করছ। অবশ্যই মনে পড়ছে ক্লাসে পড়া কবিতার কথা। 

কারণ ওই কবিতায় আছে: লোভী, অর্থপিপাসু মানুষই নগর-সভ্যতার পত্তনের জন্য নির্বিচারে, নিষ্ঠুর ভাবে গাছপালা কেটেছে, অরণ্য ধ্বংস করেছে। কবি স্বপ্নে দেখছেন, অরণ্যের অধিকার পেতে একদল ওক গাছ কবিকে ঘিরে ধরে এবং শপথ করিয়ে নেয় যে, তিনি একটি গাছ কাটা পড়ে থাকতে দেখলে যেন দুটি গাছ লাগান। স্বপ্ন ভাঙতেই কবির চৈতন্য হয়। উপলব্ধি করেন, প্রকৃতিই তাঁর আসল পরিবার।

এখন, এই মুহূর্তে আমরা বুঝতে পারছি, ক্রমবর্ধমান মানবসভ্যতায় ‘উন্নয়ন’-এর নামে দশকের পর দশক প্রকৃতিকে অবহেলা করে আজ আমরা এক ভয়াবহ বিপদে বিপর্যস্ত। এক সময় ইংল্যান্ডে ‘শিল্প বিপ্লব’-এর মাধ্যমে যে নগর-সভ্যতার সূচনা হয়েছিল, সেই থেকে বিজ্ঞান- আশ্রিত যন্ত্র-সভ্যতা, শিল্পোৎপাদনে কলকারখানা সৃষ্টি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ এবং তার পরও যুদ্ধোত্তর আণবিক পারমাণবিক শক্তি প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে পৃথিবীর পরিবেশকে দূষিত করে তার স্বাভাবিকতা নষ্ট করেছি। জড় জগতের বৈভব, প্রাচুর্য, বিলাসবহুল জীবনযাত্রার মোহে আমরা মেনে নিয়েছি ‘ইটের পরে ইট, মধ্যে মানুষ কীট’ নাগরিক জীবনকে। সৃষ্টি করেছি বিশ্ব উষ্ণায়ন। 

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গত ৪০ বছরে পৃথিবীর বন্যপ্রাণী জগৎ প্রতি দশকে প্রায় ১৭ কিমি হারে অপেক্ষাকৃত শীতল স্থানে সরে গিয়েছে। অথচ বিগত শতাব্দীতে পরিবেশকে বাঁচাতে আমাদের দেশে মেধা পটেকরের নেতৃত্বে ‘নর্মদা বাঁচাও’, ‘জঙ্গল বাঁচাও’ আন্দোলন, সুন্দরলাল বহুগুণার নেতৃত্বে ‘চিপকো আন্দোলন’, পক্ষী-বিশারদ সেলিম আলির নেতৃত্বে ‘সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন’ হয়েছে। 

বর্তমান শতাব্দীতে পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে ১৬ বছরের  সুইডিশ স্কুলছাত্রী গ্রেটা থুনবার্গের ‘ফ্রাইডেজ় ফর ফিউচার’ আন্দোলন সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 

কিন্তু, এ সব সত্ত্বেও, পৃথিবীর রাষ্ট্রপ্রধানদের টনক নড়েনি। উল্টে, বিশেষ করে ‘উন্নত’ দেশগুলি ‘সুপার পাওয়ার’ হওয়ার জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিকতা বিনষ্ট করে, বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তন করে পৃথিবীকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

কাল, ২২ এপ্রিল ‘ধরিত্রী দিবস’-এ (‘আর্থ ডে’), কবি টেড হিউজের কবিতাটির সুরেই  আমাদেরও পরিবর্তন ঘটুক। 

অরুণ মালাকার 

শিক্ষক, বেড়ামারা রামচন্দ্রপুর হাই স্কুল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

বোমা বৃত্তান্ত

চঞ্চলকুমার ঘোষের ‘জগন্নাথদেবের রান্নাঘর দেখেই ইকমিক কুকার’ (রবিবাসরীয়, ১২-৪) শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জগদীশচন্দ্র ও প্রফুল্লচন্দ্রের পরামর্শে উল্লাসকর বোমা তৈরি করেন। তা ঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হল, মুরারিপুকুরে বারীন ঘোষদের বাগানে বোমা তৈরি করেন বিলাতে রুশ ও ফরাসি বিপ্লবীদের কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হেমচন্দ্র দাস কানুনগো। ১৯০৬ সালে উল্লাসের বয়েস মাত্র ২১ বছর। উল্লাসের চিকিৎসায় ইন্দুমাধবের সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতা করেন উল্লাসকরের আত্মীয় ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়। 

তীর্থঙ্কর মিত্র 
হরিপাল, হুগলি

লেখকের উত্তর:  

আমি যে বইটি থেকে বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গটি এনেছি সেটি হল নলিনীকান্ত গুপ্তের লেখা ‘স্মৃতির পাতা’ (শ্রীঅরবিন্দ পাঠমন্দির, সন ১৩৭০)। সেখানে তিনি লিখছেন, ‘‘কাল— ১৯০৭ সালের শেষ। ১৯০৮ সালের আরম্ভ।
‘‘যে পাঁচজন বোমা তৈরি ও পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত, প্রফুল্লচন্দ্র চক্রবর্তী, বিভূতিভূষণ সরকার, নলিনীকান্ত গুপ্ত।
‘‘কর্ম হল বোমা তৈরি। এ যাবৎ কেবল প্রাথমিক গবেষণা চলছিল। এখন উল্লাসকর বললেন, ইউরেকা সব ঠিক আছে, এবার পুরোপুরি পাকা পরীক্ষা, একটা গোটা বোমা নিয়ে এ্যাকশন দেখাতে হবে।
‘‘বোমা তৈরি হল। পুরোপুরি একটা। উল্লাসকর প্রধান কারিগর। আমরা সহকারী।
‘‘বোমা বিস্ফোরণে মারা গেলেন প্রফুল্লচন্দ্র চক্রবর্তী। উল্লাসকর আহত। তার জামাকাপড়ে রক্তের দাগ। বারীনদা বললেন, ওকে বাঁচানো দরকার। সুতরাং তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। ডাক্তার দেখানোর জন্য। আমাদের বিপ্লবীদের বিশেষ একজন ডাক্তার নাম করা বিখ্যাত ইন্দুমাধব মল্লিক।’’
পত্রলেখক হেমচন্দ্র কানুনগো-র প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। উল্লাসকরের বোমা তৈরির সময় তিনি যুক্ত ছিলেন  কি না, আমার জানা নেই। 
তবে হেমচন্দ্রের প্রস্তুত প্রথম বোমাটি ফরাসি চন্দননগরের মেয়রের উপর নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু মেয়র বেঁচে যান। তাঁর দ্বিতীয় বিখ্যাত বোমা (পুস্তকাকৃতি এবং স্প্রিংযুক্ত) কিংসফোর্ডকে পাঠানো হয়। কিন্তু পুস্তকখানি না খোলায় কিংসফোর্ড রক্ষা পান। তৃতীয় বোমাটি ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী ব্যবহার করেছিলেন। (তথ্যসূত্র: সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, সাহিত্য সংসদ)।
বোমা তৈরির ব্যাপারে বিপ্লবীরা প্রথমে সিস্টার নিবেদিতার কাছে যান। তিনি জগদীশ বসুর কাছে পাঠান। জগদীশবাবু পাঠান প্রফুল্লচন্দ্রের কাছে।

ইকমিক

‘জগন্নাথদেবের রান্নাঘর...’ প্রবন্ধের সঙ্গে কিছু সংযোজন করতে এই চিঠি। শিশিরকুমার বসু ‘বসু-বাড়ি’ গ্রন্থে লিখেছেন, তাঁর মা বিভাবতী বসু ইকমিক কুকারে শ্বশুরমশাই জানকীনাথ বসুর জন্য রান্না করতেন। শিশিরকুমার বাল্যকালে দেখেছেন, জানকীনাথ শরৎচন্দ্র বসুর ১ উডবার্ন পার্ক বাড়ির দোতলার বারান্দায় মাটিতে বসে সেই রান্না উপভোগ করছেন, পাশেই শ্বেতপাথরের ডাইনিং টেবিল খালি পড়ে রয়েছে। ১ উডবার্ন পার্কে যে কোনও ব্রিটিশ দ্রব্য বা সরঞ্জামের উপর ছিল কড়া নিষেধ।

সুমন্ত্র বসু
কলকাতা-২৬

সুচিত্রার ফ্লপ

‘কেন নির্বাসন’ (১৫-৪)  শীর্ষক চিঠিতে সুচিত্রা সেন সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘‘উপর্যুপরি ফ্লপ ছবির ভিড়ে... শ্রীমতী সেনের মতো বুদ্ধিমতী নারী বুঝেছিলেন যে শেষের সে দিন সমাগত।’’ তার আগে ফ্লপ ছবির উদাহরণ দিতে গিয়ে লিখছেন, ‘‘এটাও রূঢ় বাস্তব যে, ১৯৭৩-১৯৭৮ এই ছ’বছরে সুচিত্রার হিট বাংলা ছবি একটিই, দেবী চৌধুরাণী। ফ্লপ পর পর চারটি: শ্রাবণসন্ধ্যা, প্রিয় বান্ধবী, দত্তা, প্রণয় পাশা।’’ এমন তথ্যপ্রমাণ তিনি পেলেন কোথায়?
১৯৭৩ নয়, ১৯৭৪ থেকে ’৭৮ অবধি পর পর পাঁচটি ছবির মধ্যে ১৯৭৪-এ ‘দেবী চৌধুরাণী’ সুপার ডুপার হিট (১৪ সপ্তাহ), ১৯৭৫-এ ‘প্রিয় বান্ধবী’ সুপার হিট (৯ সপ্তাহ), ১৯৭৬-এ ‘দত্তা’ ব্লকবাস্টার (২৩ সপ্তাহ)। (তথ্যসূত্র: ‘সম্পূর্ণ সুচিত্রা/ আনন্দলোক সংকলন’, আনন্দ)।
মনে রাখতে হবে, তখন সিঙ্গল স্ক্রিনিং-এর যুগ, একসঙ্গে তিন-চারটি হল-এ ম্যাটিনি ইভনিং নাইট, তিনটি শো চলত, তার চেয়ে বেশিও শো হত দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী।
১৯৭৪-এ শ্রাবণসন্ধ্যা আর শেষ ছবি ১৯৭৮-এ প্রণয়পাশা ফ্লপ। মাত্র দু’টি ছবি... এ তো হতেই পারে। তার ভিত্তিতে এই উপসংহার!

রথীন সেনগুপ্ত
কলকাতা-৩১

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন