সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিষণ্ণতা গ্রাস করছে আমাদের

এই লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের থেকে তাঁদের অবস্থার কথা, তাঁদের চারপাশের অবস্থার কথা জানতে চাইছি আমরা। সেই সূত্রেই নানান ধরনের সমস্যা পাঠকরা লিখে জানাচ্ছেন। পাঠাচ্ছেন অন্যান্য খবরাখবরও। সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন, এবং অবশ্যই আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা ম‌নোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি।

Dubai
দুবাই যেন ঘুমন্ত শহর। —নিজস্ব চিত্র।

দিন হোক বা রাত, দুবাই যেন সবসময়েই জেগে থাকতো। সেই দুবাই হঠাৎই যেন আজ কুম্ভকর্ণের ঘুমে আচ্ছন্ন।  

প্রথমে রাত আটটা থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত করার সময়কাল হিসেবে ঠিক করা ছিল এক রকম কার্ফু হিসেবে। তার পর সেই সময়কাল বেড়ে হয়ে গেল ২৪ ঘণ্টাই। গত সপ্তাহ পর্যন্ত দিনে একবার পরিবারের একজন দরকারি কাজে, বাজার করতে বা ওষুধ কিনতে বা টাকা তুলতে এক ঘণ্টার জন্য বেরতে পারতেন। সেটা এখন প্রতি তিন দিনে এক বার হয়েছে। টাকা তুলতে হলে সেটাই পাঁচ দিনে এক বার। প্রাণবন্ত শহরটা যেন হঠাৎ করে নিষ্প্রভ। রাতের বেলায় তো রাস্তা-ঘাট একেবারে পরিত্যক্ত, খাঁ-খাঁ করছে।

তুলনায় আরব আমিরশাহির বাকি রাজ্যগুলোর অবস্থা একটু ভাল। ২৪ ঘণ্টার লকডাউন হয়নি এখনও। রাত্রিকালীন কার্ফুই চলছে। ছয় সপ্তাহ হয়ে গেল, বাড়িতে বসেই কাজ করছি। কেউই জানি না কবে আবার অফিস যেতে পারব। আমি যেহেতু আবু ধাবিতে থাকি, তাই দিনের বেলায় দরকারে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি। তবে ধীরে-ধীরে কেমন একটা বিষণ্ণতা যেন গ্রাস করে নিচ্ছে আমাদের। সপ্তাহান্তের হৈ-হুল্লোড় নেই, পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান নেই, সিনেমা-শপিং-পপকর্ন সব যেন জীবন থেকে উধাও। এখন বুঝতে পারছি অদরকারি কত কাজে আমরা ডুবে থাকতাম।  

আরও পড়ুন: লকডাউন নেই, সারা বিশ্ব যা পারেনি, তাইওয়ান তা পেরেছে

আরও পড়ুন: মনে হচ্ছে এক দুঃস্বপ্ন দেখছি​

অন্য দিকে, অনেক কিছু ফিরেও এসেছে। মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্ট ধরে পুরনো, ভুলে যাওয়া বন্ধুদেরকে ফোন করা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া যেন আবার ফিরে এসেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সমবেত ভিডিয়ো কল। বহু বছরের নিয়ম পাল্টে আমিরশাহিতে গুগল হ্যাংআউটে ভিডিয়ো বা ভয়েস কল করা যাচ্ছে। জুম, টিমস— এগুলোও যোগ দিয়েছে। ‘বটিম’ বলে যেটা আমরা এতদিন পয়সা দিয়ে ব্যবহার করতাম, সেটা বিনা মূল্যে ব্যবহার করছি। মোদ্দা কথা, বর্তমান ভুলে অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাটি আবার শুরু করেছি।

কিন্তু জানি না এখানে আর কত দিন এ রকম ভাবে চলবে। দুবাই হল পর্যটনের জায়গা। সেখানে এমিরেটস আর এতিহাদ এয়ারলাইন্স পুরো বন্ধ। বন্ধ মেট্রোও। বাসে যাতায়াত করতে পয়সা লাগছে না, ট্যাক্সি অর্ধেক ভাড়াতে চলছে, কিন্তু চাপবে কে? সবথেকে কষ্টকর অবস্থা শ্রমিকদের। দূতাবাস এবং এনজিও থেকে তাদের সাহায্য করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা এর পর কী করবে? পর্যটন চালু হতে এখনও অনেক দেরি। প্রত্যেক দিনে প্রায় ৪০০ জন করে নতুন সংক্রমণের খবর আসছে। লোকজন অবশ্য নিয়ম মেনে চলছে যাতে আমরা এই সময় পেরিয়ে যেতে পারি।

সরকার, পুলিশ, প্রশাসন খুব ভাল-ভাবে অবস্থার সামাল দিচ্ছে। যে কেউ নিজের পরীক্ষা করাতে পারে, দেখতে পারে সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা। নতুন অ্যাপে জানা যাবে আমি করোনা সংক্রামিত কারও কাছাকাছি এসেছিলাম কি না। সব রকম প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে না দেখতে পাওয়া এই অণুজীবের আক্রমণ থেকে আমাদের বাঁচাতে।  

নতুন সময়ের অপেক্ষায় রইলাম আমরা সবাই। আবার যেন দুবাই-আবু ধাবি ফিরে আসে নিজের ছন্দে, নিজের পরিচয়ে। আবার যেন ফিরতে পারি আমার শহরে, সেই কলকাতায়।

কুণাল নন্দী, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন,  feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন