কুন্তল চক্রবর্তীর ‘ভারসাম্য প্রয়োজন’ (সম্পাদক সমীপেষু, ১২-৩) শীর্ষক চিঠির সূত্রে কিছু কথা। পত্রলেখক পাড়ার মুদি দোকানদারদের ব্যর্থতার দায় অনলাইন বাণিজ্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে হ্যারি গর্ডন সেলফ্রিজ-এর উক্তি ছিল ‘ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে গ্রাহকই সর্বদা ঠিক’। এর অর্থ হল গ্রাহকের চাহিদা জুগিয়ে চলতে না পারলে, দোকান হোক বা ব্যবসা, প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে।
এক সময় আমরা বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতাম পাড়ার মুদিখানার দোকান থেকে। তাতে মাঝেমধ্যে ধার-বাকিতে জিনিস পাওয়া যেত বটে, কিন্তু অসুবিধাও ছিল বিস্তর। তাঁরা দোকান খুলতেন তাঁদের মর্জিমতো। দোকান খোলার সময়ের কোনও ঠিকঠিকানা ছিল না, প্রায়ই দেরি করে খুলতেন। তাঁরা জিনিস বিক্রিতে আদৌ উৎসাহী ছিলেন না, না কি নেহাতই অভ্যাসবশে দোকান খুলতেন ও বন্ধ করতেন, সে প্রশ্ন বহু বার উঠেছে। এর সঙ্গে পালা-পার্বণ থাকলে, দোকানের ঝাঁপ বন্ধই থাকত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক কালে ই-কমার্স পরিষেবা একেবারেই অন্য রকম। এখন বাজার ধরার লড়াই। ফলে, ঝড়, জল, পুজোপার্বণ— যা-ই হোক না কেন, অ্যাপের সাহায্যে কোনও কিছু অর্ডার করলে তা ঠিক পৌঁছে যায় বাড়ির দোরগোড়ায়। চাল ডাল থেকে শুরু করে পেনসিল, খাতা এমনকি জামাকাপড়ও মিলছে সময়মতো। কিছু অ্যাপ তো আবার দশ-পনেরো মিনিটেই সব জিনিসপত্র বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। পুরো ব্যাপারটি একটি সর্বাঙ্গীণ কাঠামোর মধ্যে আসায়, বহু মানুষই মুদিখানায় যাওয়ার পুরনো অভ্যাস ছেড়ে নতুনকে বরণ করে নিয়েছেন সানন্দে। ফলে মুদিখানাগুলি এখন মাছি তাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
তপন পাল, কলকাতা-১৪০
দূষণহীন ভোট
নির্বাচন আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। কিন্তু এই উৎসব অনেক সময় পরিবেশের উপর বড় চাপ তৈরি করে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই সকল রাজনৈতিক দলের কাছে এক আন্তরিক আবেদন— এই নির্বাচন হোক পরিবেশবান্ধব। আগে নির্বাচনের সময় এত প্লাস্টিক বা ফ্লেক্স ব্যবহার হত না। কিন্তু গত কয়েক দশকে প্রচারের ধরন বদলেছে। এখন সর্বত্র প্লাস্টিক ব্যানার, ফ্লেক্স, পোস্টার, লিফলেটের ছড়াছড়ি। একটি বড় নির্বাচনে হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশির ভাগই মাটিতে পচে না। এগুলো জমে থেকে মাটি, জল এবং বাতাস দূষিত করে। এ ছাড়া প্রচারের জন্য অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার, ডিজ়েল পোড়ানো এবং মাইকের শব্দ— সব মিলিয়ে পরিবেশের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। এই সমস্যা নতুন নয়। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলি চাইলে খুব সহজেই পরিবেশবান্ধব প্রচার করতে পারে। যেমন— প্লাস্টিক ফ্লেক্সের বদলে পচনশীল ব্যানার কাপড় বা কাগজের ব্যানার ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় লিফলেট কমিয়ে মোবাইল ও সমাজমাধ্যমের দ্বারা প্রচার করা, সৌরশক্তি ব্যবহার করা, বা সাইকেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ি দিয়ে প্রচার চালানো। এতে খরচও কমবে, পরিবেশও বাঁচবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— ইস্তাহারে পরিবেশ ও জলবায়ুর কথা রাখা। আজ আমরা বায়ুদূষণ, জলসঙ্কট, অতিরিক্ত গরম, হঠাৎ বৃষ্টি ও বন্যার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তাই প্রতিটি দলের উচিত তাদের পরিকল্পনায় গাছ লাগানো, জল সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট কথা বলা। পরিবেশ রক্ষা এখন আর আলাদা কোনও বিষয় নয়— এটি আমাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। যদি রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ এক সঙ্গে সচেতন হয়, তা হলে একটি স্বচ্ছ, সবুজ ও দায়িত্বশীল নির্বাচন সম্ভব। এমন একটি নির্বাচন গড়ে তোলা হোক, যা শুধু গণতন্ত্রকেই শক্তিশালী করবে না, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করবে।
সন্দীপন সরকার, পাল্লারোড, পূর্ব বর্ধমান
হৃত গণতন্ত্র
প্রেমাংশু চৌধুরীর ‘দেশের জন্য সুখবর নয়’ (১২-৩) প্রবন্ধটি সময়োচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ। কখনও ভাবা গিয়েছিল রাজনীতির গগনে এমন আঁধার নেমে আসবে? সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তিরা এই ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়বেন? এই অবক্ষয়ের জন্য কারা দায়ী? রাজনেতা, না রাজকার্যের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক পদাধিকারী? রাজনৈতিক নেতারা দলীয় স্বার্থেই কাজ করেন। মিথ্যা বলেন। দোষ আড়াল করেন। মিথ্যা আশ্বাস দেন। ক্ষমতা দখলের জন্য হরেক ফন্দিফিকির খোঁজেন। ভেদাভেদের রণকৌশল রচনা করেন। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে, তাকেই দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেন। বর্তমান রাজনীতিতে এ সব সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু উদ্বেগ তখনই বাড়ে, যখন প্রশাসনিক পদাধিকারী কর্তব্য থেকে সরে দাঁড়ান। বিদ্যা-বুদ্ধি, পদমর্যাদা জলাঞ্জলি দিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে ফেলেন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? কার কাছে ন্যায়বিচার চাইবেন? ক’জন পারেন রাজশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে? রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। শাসক ও বিরোধী দলের ক্ষমতার লড়াইয়ে বলি হন সাধারণ নাগরিক। কেন্দ্রীয় সরকারের লড়াই আজ আর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নয়, যেন রাজ্যবাসীরই বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক কালের এসআইআর প্রক্রিয়া তারই জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে, পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপের হলাহলে মানুষের প্রাণ আজ ওষ্ঠাগত।
গণতান্ত্রিক দেশে মানুষই শেষ কথা বলেন, এটি ঠিক কথা। তবে সাংবিধানিক কর্তাব্যক্তিরা যদি পাশে না থাকেন, সেই গণতন্ত্র শেষ পর্যন্ত প্রহসনের রূপ নেয়। দেশের শাসনব্যবস্থা তখন শোষণে পরিণত হয়ে যায়। এর থেকে দুরবস্থা আর কী-ই বা হতে পারে?
বাবুলাল দাস, ইছাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা
বাদ ইরান?
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফিফা এবং ইরানের ফুটবল নিয়ামক সংস্থা এ বিষয়ে সদর্থক মনোভাব দেখালেও, আয়োজক দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনীহায় বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে (‘ইরানের জাতীয় দল চায় বিশ্বকাপে খেলতে’, ১৪-৩)।
প্যারিস অলিম্পিকে পদক তালিকায় আমেরিকা শীর্ষে থাকলেও ফুটবলে ফিফার ক্রমতালিকায় ষোলো নম্বরে এবং ইরান মাত্র তার থেকে পাঁচ ধাপ পিছিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানের জনগণের অসীম আগ্ৰহ এবং প্রত্যাশা। এমতাবস্থায় ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না পারলে শুধুমাত্র সে দেশের মানুষই নন, সকল ফুটবলপ্রেমী হতাশ হবেন এবং কিছুটা হলেও বিশ্বকাপ তার জৌলুস হারাবে। খেলাধুলায় শিখরে থাকা একটি দেশের তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দেশের খেলোয়াড়দের প্রতি এমন মনোভাব পোষণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং ক্রীড়াজগতে এক খারাপ নজির হয়ে থাকবে।
ধীরেন্দ্র মোহন সাহা, কলকাতা-১০৭
ওভারব্রিজ
পূর্ব রেলে নৈহাটি-ব্যান্ডেল শাখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হল গরিফা। এটি শিয়ালদহ এবং হাওড়া যাওয়ার একমাত্র যোগসূত্র। অথচ, গরিফা স্টেশনে কোন ওভারব্রিজ নেই। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লাইন টপকে পারাপার করেন। গরিফা স্টেশনে অবিলম্বে একটি ওভারব্রিজ নির্মিত হোক।
প্রসূন কুমার স্বর্ণকার, হালিশহর, উত্তর ২৪ পরগনা
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)