E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: বিকল্প পরিবহণ

ট্রামের নিজস্ব লাইন আছে, তার উপর যদি মালপত্র রাখা হয়, গাড়ি পার্কিং হয়, ট্রামের গতি রুদ্ধ হতে বাধ্য।

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৩

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রামের বিদায় ঘণ্টা অনেক দিন আগেই বাজিয়ে দিয়েছে। ট্রামের বিপক্ষে অনেক যুক্তি। আর্থিক ক্ষতি, গতি কম, রাস্তায় যানজট তৈরি করে, ট্রামলাইনে দু’চাকাধারীরা স্কিড করে যান ইত্যাদি। এর মধ্যে ট্রাম ডিপোর জমি বিক্রির কথাবার্তা হয়ে গেছে। দু’টি রুটে অনিয়মিত ট্রাম চলছে, বালিগঞ্জ-টালিগঞ্জ রুট অকারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এখানে প্রশ্ন তোলা যায়, ট্রামের কারণে যানজট হলে হাওড়া-শিবপুর বা বাঁধা ঘাটের ট্রাম তুলে দেওয়ার পরও যানজট এত বাড়ল কী করে? ট্রামের নিজস্ব লাইন আছে, তার উপর যদি মালপত্র রাখা হয়, গাড়ি পার্কিং হয়, ট্রামের গতি রুদ্ধ হতে বাধ্য। তবে ট্রামকে হেরিটেজ তকমা লাগিয়ে স্যালাইন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইউরোপ বা অন্য দেশের মতো আধুনিক গতিময় ট্রাম দরকার। সেখানে একই রাস্তায় ট্রাম, বাস, সাইকেল দিব্যি চলছে। কিন্তু এ রাজ্যে তার জন্য যে টাকা বিনিয়োগ করতে হবে, তা কোনও সরকারই দিতে আগ্রহী নয়। কারণ, এই বিনিয়োগ কোনও ভাবে ভোট কেনার কাজে লাগবে না।

কিছু দিন আগের একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। গোয়া এয়ারপোর্টে বসে ছিলাম কলকাতা ফ্লাইটের জন্য। এক জন সুইডিশ ভদ্রমহিলাও যাত্রী ছিলেন। তাঁর এক জন বন্ধু চেন্নাই থেকে কলকাতা আসবেন। দু’জনে তিন-চার দিন কলকাতা ঘুরে বেঙ্গালুরু হয়ে দেশে ফিরবেন। তিনি আমার কাছে কলকাতা সম্বন্ধে কিছু জানতে চাইলেন এবং তাঁর ওয়টস্যাপে লিখে পাঠাতে বললেন। পরে কলকাতার ট্রামে চড়া সম্ভব কি না জানতে চাইলে আমি তাঁকে এসপ্ল্যানেড ডিপোতে যেতে বলেছিলাম। কারণ, শুধু ওখান থেকেই দু’টি রুটের ট্রাম চলে। কলকাতা থেকে যাওয়ার সময় ট্রাম নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস ও কিছু ট্রামের ছবি-সহ মেসেজ পেয়ে মনে হল ট্রামকে রাখার জন্য আমরা কেন সব রকম চেষ্টা করব না?

অসিত মণ্ডল, হাওড়া

অটো নেই

কলকাতার উপকণ্ঠে ব্রহ্মপুরের শেখপাড়া এলাকাটি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের বাস। নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ড দেড় কিলোমিটার দূরে। যানবাহন বলতে অটো বা রিকশাই ভরসা। অথচ, অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই জনবহুল হয়ে উঠেছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বাসস্থান ও হাউজ়িং কমপ্লেক্স। শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে সর্বদাই দূরের জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত জুবিলি হাউজ়িং-এর গেট থেকে অটো ছাড়ত। কিন্তু বেহাল রাস্তার কারণে সেই পরিষেবা তুলে নেওয়া হয়। গত মাস দুয়েক হল রাস্তা সারিয়ে চওড়া করা হয়েছে। কিন্তু অটো পুনরায় চালু করা হয়নি। রিকশার ভাড়াও খুব বেশি। স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষ বেশ অসুবিধায় পড়েছেন।

এমতাবস্থায় এক জন প্রবীণ নাগরিক হিসেবে প্রশাসনের কাছে আবেদন, এলাকায় আবার অটো পরিষেবা চালু করা হোক।

অবনীন্দ্র মোহন রায়, কলকাতা-৯৬

রাস্তা সারাই

সম্প্রতি আমাদের পাড়ায় মাঝরাতে একটি রাস্তা খোঁড়ার গাড়ি এসে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানিয়ে খোঁড়ার কাজ বন্ধ করে দেয়। এর কিছু দিনের মধ্যেই কিছু শ্রমিক এসে বাকি রাস্তাটাও খুঁড়ে দিয়ে চলে গেছে। শোনা যাচ্ছে, রাস্তায় নতুন পিচ দেওয়া হবে। শুধুমাত্র আমাদের পাড়াতেই নয়, আশপাশের অনেক পাড়ার অবস্থাও একই রকম। এই পাড়া দিয়ে এমনিতেই প্রচুর বাইক ও গাড়ি যাতায়াত করে। কিন্তু এমন এবড়োখেবড়ো রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত তো বটেই, পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতেও সকলেরই অসুবিধা হচ্ছে। প্রশ্ন হল, রাস্তাটি কি নির্বাচনের আগে সারবে, না এ ভাবেই থেকে যাবে? প্রতি বছর ভোট সামনে এলেই রাস্তা সারানোর এমন ধুম পড়ে কেন?

সুমন দাস, কলকাতা-৩২

মোবাইলে ভোট

এখন তো প্রায় সকলের হাতেই রয়েছে মোবাইল। এমন একটি যন্ত্রকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের কথা কেন ভাবা হবে না? সমস্ত ভোটারের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে ধরে নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইভিএম বনাম ব্যালট পেপারের চিরায়ত বিতর্ক সমাপনের কথা ভাবা যেতেই পারে এর সাহায্যে। ধরা যাক, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন সাত সকালে একই সময়ে প্রত্যেক ভোটারের কাছে একটি ওটিপি পাঠাবে। সেই ওটিপি-র সংখ্যা ভোটারের মোবাইল ফোনে টাইপ করলেই পর্দায় এসে যাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন ক্ষেত্রের প্রার্থীদের নাম এবং নম্বর সমন্বিত একটি এসএমএস। নিজের পছন্দের প্রার্থীর নম্বরে ক্লিক করলেই সম্পন্ন হবে ভোটদান পর্ব। এই পদ্ধতিতে ভোট লুট করতে যত বাহুবলী দরকার, তা বাস্তবে সম্ভব নয়। অন্য দিকে, অসুস্থ, হাসপাতালে শয্যাশায়ী, জরুরি কাজে কর্তব্যরত থেকে শুরু করে লাইনে দাঁড়াতে অনিচ্ছুক ভোটারও নিজের ভোট নিজেই দিয়ে দেবেন। এমনকি বিদেশে থেকেও এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে অসুবিধা নেই। দুর্বৃত্তরা মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলিকে ভোটের দিন অকেজো করে দিতে পারে। প্রতিটি টাওয়ার চালু রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি জগতে হ্যাকারদের অবাধ বিচরণ। মোবাইল সংযোগ পরিষেবা দেয় যে সমস্ত সংস্থা, তাদের এ ব্যাপারে আগাম সতর্কতা নিতে হবে। পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে ইতিমধ্যেই আংশিক ভাবে অনলাইন ভোটের প্রয়োগ হয়েছে তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা দরকার যাতে এই নতুন পদ্ধতি ত্রুটিমুক্ত হয়।

অমিতাভ রায়, কলকাতা-৯৫

একাধিক সমস্যা

পানিহাটি পুরসভার অন্তর্গত ঘোলা এলাকার বাসিন্দা। ঘোলা বাজারের কাছে রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বড় বড় গর্ত, মেরামত ঠিকমতো হয় না। কোনও মতে ইট দিয়ে বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু তাতে চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদা আর জলে ভরে যায়।

এর পাশাপাশি নিকাশির অবস্থাও ভাল নয়। বৃষ্টির জল অনেক দিন ধরে রাস্তায় জমে থাকে, যার থেকে দুর্গন্ধ হয় এবং মশা জন্মায়। এতে ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া আবর্জনা ও ড্রেনের ময়লা প্রায়ই রাস্তায় ফেলে রাখা হয় এবং সময়মতো পরিষ্কার করা হয় না। অনেক জায়গায় কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রাখা হয়েছে, ফলে খোলা গর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

এই অবস্থায় প্রতি দিন কাজে যাওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা খুব কঠিন। এমন সমস্যা দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা করুক।

সমন্বয় ঘোষ, পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা

স্কাইওয়াক চাই

বালি এবং বালি হল্ট, দুই স্টেশন দিয়ে প্রতি দিন কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। বালি স্টেশন থেকে বেশ কিছুটা হেঁটে গিয়ে সঙ্কীর্ণ খাড়া উঁচু সিঁড়ি দিয়ে অনেকটা উঠে বালি হল্ট স্টেশনের দিকে পৌঁছতে হয়। এই ভাবে উপরে ওঠা কষ্টসাধ্য। বিশেষত বয়স্ক ও শিশুদের পক্ষে। সিঁড়ির কাছে আলো কম থাকায়, রাতের বেলায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে হাত-পা, ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে হাওড়া-হুগলি-দুই বর্ধমান জেলার সঙ্গে উত্তর কলকাতা-সহ নিউ টাউন, রাজারহাট প্রভৃতি অঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষাকারী স্টেশন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দু’টি। তাই দুই স্টেশনের মধ্যে দক্ষিণেশ্বরের মতো একটি স্কাইওয়াক নির্মিত হলে ভাল হয়।

স্বপন কুমার সিংহ, কালনা, পূর্ব বর্ধমান

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kolkata Tram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy