E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: কোনটা মাপকাঠি?

কিন্তু শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে গুজরাত রাজ্যের অবস্থান দুঃখজনক ভাবে নিম্ন। যেমন, রাজ্যটিতে মাধ্যমিক স্তরে (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) পড়ুয়ার সংখ্যা প্রত্যাশিত মাত্রার ৬১ শতাংশ‌, সর্বভারতীয় হার ৬৮.৫ শতাংশ।

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:০৮

‘বাঙালি সত্তার লড়াই’ (১৩-৪) শীর্ষক উত্তর-সম্পাদকীয়তে গুজরাতি সাংবাদিক দীপল ত্রিবেদী অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষ কেমন আছেন, সে বিষয়ে বলতে গিয়ে আর্থিক ভাবে ‘ভাইব্র্যান্ট’ গুজরাত রাজ্যের প্রসঙ্গ এনেছেন। সত্যিই গুজরাত আর্থিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ গতিশীল রাজ্যগুলির অন্যতম। লোকসংখ্যায় ভারতের সর্ববৃহৎ ২২টি রাজ্যের মধ্যে জনপ্রতি অভ্যন্তরীণ আয়ের (চলতি মূল্যমানে) নিরিখে ২০১৬-১৭ সালে রাজ্যটির স্থান ছিল নবমে, উচ্চ থেকে নিম্ন বিন্যাসে। ২০২৩-২৪ সালে গুজরাত উঠে আসে ষষ্ঠ স্থানে। প্রশংসনীয় অগ্রগতি। তামিলনাড়ু এবং তেলঙ্গানার অগ্রগতিও তারিফযোগ্য ছিল। এই দুই আর্থিক বছরেই রাজ্যের স্থান পঞ্চদশ।

কিন্তু শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে গুজরাত রাজ্যের অবস্থান দুঃখজনক ভাবে নিম্ন। যেমন, রাজ্যটিতে মাধ্যমিক স্তরে (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) পড়ুয়ার সংখ্যা প্রত্যাশিত মাত্রার ৬১ শতাংশ‌, সর্বভারতীয় হার ৬৮.৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষা স্তরে ১৮-২৩ বছর বয়সিদের মাত্র ২৪ শতাংশ পাঠরত, সর্বভারতীয় অনুপাত ২৮.৪ শতাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তথ্যের সময়কাল ২০২৪-২৫, উচ্চশিক্ষায় ২০১৯-২২। অনুপাতের মানানুগ রাজ্যবিন্যাসে গুজরাতের স্থান মাধ্যমিক শিক্ষায় ১৯তম, উচ্চশিক্ষায় সপ্তদশ।

স্বাস্থ্যের একক মাপকাঠি যদি জন্মকালীন প্রত্যাশিত আয়ু ধরা হয়, তবে ২২টি রাজ্যের মধ্যে গুজরাতের স্থান রাজস্থানের সমাসনে, ১৩ কি ১৪। গুজরাতবাসীর এই পরমায়ু ২০১৯-২৩ সময়কালে ছিল ৭০.৪ বছর (সর্বভারতীয় ৭০.৩)। সর্বোচ্চ প্রত্যাশিত আয়ু ছিল কেরলবাসীর (৭৫.১)। [তথ্যসূত্র: ভারতের ইকনমিক সার্ভে, ২০২৫-২৬]

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুই বিষয়ে, পশ্চিমবঙ্গ গুজরাত রাজ্য থেকে এগিয়ে ছিল, শিক্ষায় দ্বাদশ বা চতুর্দশ, স্বাস্থ্যে সপ্তম স্থানে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে যদি আয়ের সঙ্গে সমগুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হয়, তবে দেখা যাবে, গুজরাত মানব উন্নয়নে মডেল না হয়ে মাঝারি ধরনের রাজ্য, যেমন পশ্চিমবঙ্গ। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, আর্থিক ভাবে উন্নত ভারতের অগ্রণী দশটি রাজ্যের মধ্যে মানব উন্নয়নের নিরিখে একমাত্র গুজরাতই দলচ্যুত। প্রশ্ন হল, আমরা মানব উন্নয়নকে লক্ষ্য রেখে অগ্রসর হব, না শুধু আর্থিক অগ্রগতি?

আনন্দ পাঠক, কলকাতা-৬৫

ন্যায্য পাওনা

অমিতাভ গুপ্তের “‘ভদ্রলোক’-এর রাগ” (৬-৪) শীর্ষক প্রবন্ধটির পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। প্রবন্ধে কথিত দরিদ্র, প্রান্তিক মানুষেরাই যে তৃণমূল সরকারের ভোটব্যাঙ্ক, তা আজ সর্বজনবিদিত। সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলি স্বাভাবিক ভাবেই ওই সম্প্রদায়ের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে ধাবিত। সে ক্ষেত্রে ভদ্রলোকদের রাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর যে বর্ষিত হবে, তা-ও স্বাভাবিক ও গ্রাহ্য। কিন্তু লেখার যুক্তির তাল কেটে যায় যখন লেখক সরকারি কর্মচারীদের সরকার কর্তৃক মহার্ঘ ভাতার বঞ্চনাকে অনুমোদন করেন সীমিত আর্থিক সাধ্যে দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক প্রকল্পগুলি চালানোর স্বার্থে। কাটমানি, খেলা, মেলা, দুর্গাপুজোয় অনুদান, একের পর এক মন্দিরের সরকারি টাকায় প্রতিষ্ঠা, শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের দ্বারা পরিচালিত এনজিও-গুলিকে ফি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা দরিদ্র সাধারণের কোন স্বার্থরক্ষা করে, সে প্রশ্ন বাদ দিয়েও একটি সঙ্গত বিষয়ের অবতারণা করি।

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি কোনও চুক্তিভিত্তিক চাকরি নয়। আর ডিএ? তা বেতনের অংশ, মূল্যবৃদ্ধির সাপেক্ষে বেতনের অবক্ষয়ের ক্ষতিপূরণ। প্রতি মাসে নিয়োগকর্তা প্রতিশ্রুত বেতনটি কর্মচারীকে দেবেন না, এ-হেন বেয়াড়া আবদারকে প্রবন্ধে প্রচ্ছন্ন ভাবে সমর্থন করা হল। ডিএ কর্মচারীর আইনগত অধিকার, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আজ তা প্রতিষ্ঠিত।

এ কথা অনস্বীকার্য যে সরকার হল আদর্শ নিয়োগকর্তা। তার নির্ধারিত বেতন কাঠামো, ভাতা-সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান বেসরকারি মালিকদের অনুসরণ করতে বাধ্য করার দায় সরকারের। দেশের শ্রম আইনগুলোও তাই বলে। সরকারই যদি তার কর্মচারীকে বঞ্চনা করে তবে সে অনুরূপ বার্তা পাঠায় বেসরকারি মালিকদের। লক্ষণীয় বিষয় হল, প্রতিবেশী দু’টি রাজ্যেই সরকারি কর্মচারীরা ৫৮% মহার্ঘ ভাতা পান, এ রাজ্যের কর্মচারীরা পান ১৮% মাত্র।

স্বেচ্ছাচার ও বেহিসাবি দানখয়রাতি না করলে, কর্মচারীর ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা যেমন দেওয়া যায়, তেমনই জনহিতে নানা সামাজিক প্রকল্পও চালানো যায়। চাই শুধু সদিচ্ছা ও উদ্যোগ।

অর্জুন সেনগুপ্ত, কলকাতা-২৮

ভাতা-র খেলা

অমিতাভ গুপ্তর “‘ভদ্রলোক’-এর রাগ” প্রবন্ধ প্রসঙ্গে কিছু কথা। প্রবন্ধের শিরোনামের ঠিক নীচেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়ায় প্রকল্পের প্রাপকদের আনন্দ মিছিল’-এর যে ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ভোটারদের একটা বড় অংশই সংসারের প্রয়োজন মেটাতে এই ভাতা পাওয়ার জন্য উদ‌্গ্রীব। যুবকরাও যাতে এই ভাতা পাওয়ার জন্য উদ্‌গ্রীব হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখেই ‘শিল্পায়নে মন না দিয়ে’ বেকার যুবকদের ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল ভোট ঘোষণার আগে।

সম্ভবত এই একই কারণে বিজেপি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’কে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এ পরিণত করে টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি করে তিন হাজার টাকা, এবং কংগ্রেস দু’হাজার টাকার ‘দুর্গা সম্মান’-এর ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। বামফ্রন্ট জানিয়েছে, তারা তৃণমূল সরকারের দেওয়া কোনও ভাতা বন্ধ করবে না। এ ভাবে অনুগৃহীত ভোটারের উপর নির্ভর করেই যদি নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়, তবে কেন শুধু শুধু সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ কোনও সরকার করবে? বরং ‘সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়ার বদলে’ সেই টাকায় লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ অন্যান্য ভাতার বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ করলেই তো বেশি সংখ্যক ভোটারের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই অনুগৃহীত ভোটারের মন জয় করেই নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করে চলেছে।

ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার নিঃসন্দেহে পথপ্রদর্শক। এখন অন্যান্য রাজ্যের সরকারও সেই পথ অনুসরণ করতে এতটুকু দ্বিধা করছে না। এই সব জনমোহিনী ভাতা প্রদানের কর্মসূচি রাজ্যের ভবিষ্যতের পক্ষে কতটা সর্বনাশের, তা বোঝাটা বেশির ভাগ মানুষের পক্ষে যেমন কঠিন, ঠিক তেমনই কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষেও এর বিরুদ্ধে কথা বলাটাও ঝুঁকির হয়ে যায়। ফলে সমাজের অন্য শ্রেণিদের বঞ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার খয়রাতির পরিমাণ বাড়িয়েই চলেছে। এর শেষ কোথায় কী ভাবে, তা কেউ জানে না।

রতন রায়চৌধুরী, পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা

তীব্র আলো

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু দু’চাকা ও চারচাকার গাড়ি হেডলাইটে অতি উজ্জ্বল সাদা রঙের আলো ব্যবহার করছে। এর ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক এবং পথচারীদের চোখে অত্যন্ত অসুবিধা হয়। যাদের চোখে কোনও সমস্যা আছে, তাদের সমস্যা আরও বেশি। এর কারণে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। হেডলাইটে এত উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করা যায়?

কালী শঙ্কর মিত্র, ভদ্রেশ্বর, হুগলি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal government West Bengal Politics Gujarat Narendra Modi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy