হীরালাল সেনকে নিয়ে লেখা (‘বিক্রি করে দিতে হয় প্রাণের চেয়ে প্রিয় ক্যামেরাও’, পত্রিকা, ১৫-৬) নিবন্ধের প্রেক্ষিতে এই পত্র। লেখা হয়েছে, হীরালাল সেন ক’টি ছবি, ক’টি তথ্যচিত্র তুলেছেন, তার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এটি সর্বাংশে সত্য নয়। চলচ্চিত্র সাংবাদিক এবং গবেষক কালীশ মুখোপাধ্যায় তৎকালীন নানা পত্রপত্রিকা ঘেঁটে হীরালাল সেনের চলচ্চিত্রের তালিকা দেন (চিত্রভাষ, ২য় বর্ষ, ১ম সংখ্যা, ১৯৬৭)। তাতে দেখা যায়, ১২টি কাহিনিচিত্র, ১০টি সংবাদচিত্র, ৮টি তথ্যচিত্র, ৩টি প্রচারচিত্র তিনি নির্মাণ করেন। যদিও এ কথা ঠিক, অগ্নিকাণ্ডে হীরালাল সেনের চলচ্চিত্রের সমস্ত প্রিন্ট পুড়ে যাওয়ায় ছবির কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু তাঁর ছবির বিবরণ ছড়িয়ে আছে নানা পত্রপত্রিকায়। তা থেকেই ছবির তথ্যাদি পাওয়া যায়। 

হীরালাল সেনের কাহিনিচিত্রের দৈর্ঘ্য ৫০ থেকে ২৫০০ ফুট পর্যন্ত ছিল। তাই হীরালাল সেনের ছবি পূর্ণাঙ্গ ছিল বলেই অনুমান করা যেতে পারে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম জনক তাঁকেই বলা চলে। হীরালাল সেনের পাশাপাশি সসারামের ক্ষেত্রে এই দাবি তোলা হয়। সসারামের চিত্র নির্মাণের প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য করা যায় না। কিন্তু সে প্রচেষ্টা বিচ্ছিন্ন এবং বিক্ষিপ্ত। শ্রীসেনের কাহিনিচিত্র এবং সংবাদচিত্র ছিল পূর্ণাঙ্গ। তাঁর সংবাদচিত্রকে গ্রাহ্য করত বলেই ইংরেজ সরকার তাঁর ছবি বাজেয়াপ্ত করেছিল। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে টাউন হলের সভার উপর এবং সুরেন্দ্রনাথকে নিয়ে শোভাযাত্রার উপর শ্রীসেন সংবাদচিত্র নির্মাণ করেন। 

চলচ্চিত্র সাংবাদিক রবীন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘হরিশ্চন্দ্র’ই ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ছবি। এতে তখনকার দিনের বিখ্যাত শিল্পী গহরজান ও হোরমুজি তানত্রী অভিনয় করেন (চিত্রবীক্ষণ: নভেম্বর, ১৯৬৮, ২য় বর্ষ, ২য় সংখ্যা)। দাদাসাহেব ফালকের ১৯১৩ সালে নির্মিত ‘হরিশ্চন্দ্র’কে ভারতের পূর্ণাঙ্গ ছবি বলে ধরা হয় এবং সেই হিসেবেই সারা ভারতে চলচ্চিত্রের শতবর্ষ পালিত হয়। 

বিখ্যাত চিত্রপরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন-এর হীরালাল সেনকে চলচ্চিত্রের প্রথম পথিকৃৎ হিসাবে স্বীকৃতি দান সর্বজনীনতা পায়নি। যদি পেত, তা হলে তো ১৯০৪ সালে ২৩ জানুয়ারি ক্লাসিকে ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’ প্রদর্শিত হয়েছিল বলে, সেই সাল-তারিখই ভারতে চলচ্চিত্রের যাত্রার প্রথম দিন হিসাবে মান্যতা পেত। দাদাসাহেব ফালকের নামে ভারতে চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারের মতো হীরালাল সেনের নামেও সরকারি পুরস্কার ঘোষিত হত, বা অন্য ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হত। কিন্তু তা হয়নি।

শুধু মাত্র গবেষকদের মধ্যেই থেকে গিয়েছে হীরালাল সেনের অবদানের কথা। অনুরোধ, হীরালাল সেনকে মর্যাদা এবং সম্মান দেওয়ার কথা ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেন ভাবে।

দীপক বিশ্বাস, ইন্দ্রপ্রস্থ, খাগড়া, মুর্শিদাবাদ

 

একই নামে

আমার ‘স্বতন্ত্র ও স্মরণীয়’ শীর্ষক চিঠির (৫-৬) একটি বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে (‘অন্য কাগজ’, ১৬-৬) বুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘১৮৮৩ সালে আনন্দবাজার পত্রিকা-র কোনও অস্তিত্ব ছিল না।’’ ফলে তথ্যগত বিভ্রান্তি ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে পত্রিকাটির আবির্ভাব পর্বের ইতিহাস জানা দরকার। ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট-এর আওতার বাইরে থাকার কারণে বাংলা ‘অমৃতবাজার’ হঠাৎ করে ইংরেজি পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়। আর তখন (বৈশাখ ১২৮৫) থেকেই ‘আনন্দবাজার’ নামে চার আনা দামের একটি বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে থাকে। এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ‘অমৃতবাজার’-এরই কর্তৃপক্ষ। হেমন্তকুমার ঘোষ ছিলেন প্রথম সম্পাদক। পরে সম্পাদনার দায়িত্ব নেন তাঁর ভাই মতিলাল। এ ব্যাপারে অন্য আর এক ভাই শিশিরকুমার ঘোষের অবদানও স্মরণীয়। পত্রিকাটি প্রকাশিত হলে, এক ‘সৌজন্য কপি’ ইংরেজ সরকারের কাছে পাঠানো হয়। সরকারের তরফে মন্তব্য করা হয়েছে, ''We have received for the first time a new weekly paper in Bengali, styled the Ananda Bazar Patrika and published in calcutta. The present issue (25.3.'79) is no 46 of the first volume. It bears a separate title, but is in effect, a Bengali edition of the Amrita Bazar Patrika.'' এতে নির্দ্বিধায় প্রমাণিত হয়, ১৯২২ নয়, ‘আনন্দবাজার’ নামে একটি পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে উনিশ শতকের শেষে। উল্লেখ্য, পত্রিকাটি কিন্তু জনমানসে তেমন দাগ কাটতে পারেনি। ১৮৮৭-র মাঝামাঝি এটি প্রায় একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে, যুক্ত হয় ‘শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকা’-র সঙ্গে। ১৮৯৯-এর অগস্ট মাস থেকে এটি ‘শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া’ ও ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’— এই দুই নামেই প্রকাশিত হতে শুরু করে। বিশ শতকের প্রথম দিকে পত্রিকাটির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকলেও, কয়েক বছর বাদে তা ছিল বড়ই অনিয়মিত। ফলে তখনই নতুন চিন্তাভাবনার সূত্র ধরে একটি দৈনিক বাংলা পত্রিকা চালাবার উদ্যোগ করা হয়। আর এ ভাবেই ১৯২২-এর ১৩ মার্চ, প্রকাশের জগতে দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র প্রথম আবির্ভাব।

শেষে তাই বলি, পত্রলেখক যে তথ্যবিভ্রান্তির কথা বলেছেন, তা কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি যে অংশটিকে, (‘আমাদিগের বিবেচনায় স্ত্রীলোকের জন্য...’ ইত্যাদি) ‘অমৃতবাজার’-এ প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন, ইতিহাসের নিরিখে তা ভাষান্তরিত হয়ে গিয়েছে। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ তখন অবশ্য দৈনিক সংবাদপত্র ছিল না, ছিল সাপ্তাহিক। (তথ্যসূত্র: উনিশ শতকের বাংলা সংবাদ-সাময়িক পত্র, স্বপন বসু, পুস্তক বিপণি, পৃ ৪৩৯)।

বাণীবরণ সেনগুপ্ত, শ্যামনগর, উত্তর ২৪ পরগনা

 

আয়ুষ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন এক জন সিনিয়র আয়ুর্বেদ মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমে আয়ুষ অর্থাৎ আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিয়োপ্যাথি প্রভৃতি চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত করার স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে নীতি আয়োগের সমর্থনের (‘এমবিবিএস-এ আয়ুষ ঢুকছেই, বলছে নীতি আয়োগ’, ৩-৬) তীব্র প্রতিবাদ জানাই। 

এমবিবিএস-এর পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলিই এক জন ছাত্রের পক্ষে পড়ে পাশ করা কঠিন। এর সঙ্গে আয়ুষের অন্তর্গত চিকিৎসাবিজ্ঞানগুলি পড়ানো বা অবহিত করার সুপারিশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। দুর্ভাগ্যের বিষয়, অনেক সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে মাননীয় মন্ত্রী ও বহু সরকারি আমলাও আয়ুর্বেদ চিকিৎসাকে কয়েকটি গাছগাছড়ার টোটকার সমন্বয় বলেই মনে করেন। প্রসঙ্গত, আয়ুর্বেদ চিকিৎসার বিশালতার কারণে এক জন শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্পূর্ণ আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শিক্ষা তথা প্র্যাক্টিস করা সম্ভব নয় বলেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিজ্ঞানকে আটটি শাখায় (শল্য, শালাক্য, প্রসূতি ও কৌমারভৃত্য, কায়চিকিৎসা, অগদতন্ত্র, বাজীকরণতন্ত্র, ভূতবিদ্যা ও রসায়নতন্ত্র) ভাগ করা হয়েছে। এই আটটি শাখার জন্যই কলকাতায় ১৯১৬ সালে অষ্টাঙ্গ আয়ুবের্দ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের অ্যালোপ্যাথির ব্রিজ কোর্স পড়ানো এবং এমবিবিএস-দের আয়ুষ পড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলেই মঙ্গল।

বেণীমাধব দাস অধিকারী, দেউলি, পশ্চিম মেদিনীপুর

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

‘স্মৃতিচিত্রে অমলাশঙ্কর’ (কলকাতার কড়চা, ১-৭) লেখার সঙ্গে ছবিটি উদয়শঙ্করের খুড়তুতো বোন কনকলতার। এখানে অমলাশঙ্করের একটি ছবি মুদ্রিত হল। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।