সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: চিরস্থায়ী হবেন

Krishna Bose

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নেতাজির ভ্রাতুষ্পুত্র ডা. শিশির বসুর যোগ্য সহধর্মিণী, প্রাক্তন সাংসদ, নেতাজি রিসার্চ বুরোর চেয়ারপার্সন, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বিশারদ ও কলা সমালোচক কৃষ্ণা বসুর জীবনাবসান গভীর শূন্যতাবোধ সৃষ্টি করল। এই পত্রিকার পাতায় বিভিন্ন সময় প্রকাশিত তাঁর লেখা পাঠকদের সমৃদ্ধ করে এসেছে। প্রথম স্বাধীনতার দিনটির স্মৃতিচারণা, বাজপেয়ীজির সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ আলাপ, মহিলা সংরক্ষণ বিল চালু না হওয়ার আক্ষেপ, কাশ্মীর বিষয়ক উদ্বেগ নিয়ে নিয়মিত কলম ধরেছিলেন তিনি। 

তাঁর রাজনৈতিক জীবনও ছিল বর্ণময়। লোকসভার বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সদস্যা ও বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সংসদে তাঁর বক্তৃতা শাসক বা বিরোধী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। কৃষ্ণা বসুর লেখনী ছিল ঝরঝরে, দলীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতার তোয়াক্কা না করে অকপট বক্তব্য পেশ করতে অভ্যস্ত ছিলেন। 

২০০৮ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ধাঁচের গ্রন্থ ‘অ্যান আউটসাইডার ইন পলিটিক্স’-এ তিনি লিখেছিলেন: ...গুজরাত দাঙ্গা আমার সামনে এক ব্যক্তিগত সঙ্কট তৈরি করে দেয়। এই বিষয়ে বিজেপির ভূমিকায় আমি তীব্র বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু আমার দলে আমি একা ছিলাম। …সংসদে এই প্রশ্নে বিতর্ক ও ভোটাভুটির ঠিক আগে ও সংসদীয় দলের সভা ডাকে। মমতা প্রত্যেকের কাছে এক এক করে জানতে চান। তত দিনে সকলেই বুঝে গিয়েছেন মমতার নিজের মত কী। সেই অনুযায়ী স্বাভাবিক ভাবে সকলে সায় দিতে থাকেন এবং বলেন যে সরকারের সমালোচনা করা হোক কিন্তু সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়া হোক…. আমি ছিলাম একমাত্র বিরোধী কণ্ঠস্বর। আমি দাবি জানাই, দল এই প্রশ্নে সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিক… আমাকে সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে হুইপ দেওয়া হয়। দলত্যাগ বিরোধী আইনে, হুইপ অমান্য করলে সাংসদ পদ চলে যায়, সবাই জানে। হুইপ অমান্য করে সাংসদ পদ খোয়ানোর কথাও আমার মনে আসে। দলের কথা মানব কি না, এই প্রশ্ন বারে বারে আমায় যন্ত্রণা দিতে থাকে... এখন মনে হয় ২০০২ সালে হুইপ অমান্য করে সাংসদ পদ ছেড়ে আসাই আমার উচিত ছিল।

ডা. শিশির বসুর প্রয়াণের (৩০ সেপ্টেম্বর ২০০০) এক মাস পর আকাশপথে বোস্টন যেতে যেতে তাঁকে ঘিরে খণ্ড খণ্ড স্মৃতিচিত্র লিখেছিলেন কৃষ্ণা বসু (যে তরণীখানি)। চিরনিদ্রায় শায়িত শান্ত সৌম্য মুখশ্রী দেখে তিনি মনে মনে আইরিশ প্রার্থনা উচ্চারণ করেছিলেন: May God hold you in the palm of his hand till we meet again. হয়তো তাঁর সেই প্রার্থনা পূরণ হতে চলেছে। কৃষ্ণা বসুর অন্যতম প্রিয় বাউল গান ছিল ‘‘এই পৃথিবী যেমন ছিল তেমনি রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে এক দিন চলে যেতে হবে।’’ তাঁর নশ্বর দেহ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও কৃষ্ণা বসু বাংলার সাংস্কৃতিক মণ্ডলে চিরস্থায়ী হবেন।

সরিৎশেখর দাস

চন্দনপুকুর, ব্যারাকপুর

 

নোংরা মাঠ

সোদপুরের তীর্থ ভারতী পুকুর পাড় সংলগ্ন একটি মাঠ এখন শুধু নোংরা ফেলার জায়গা হয়ে গিয়েছে। একটি ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে ঠিক, কিন্তু নজরদারি এবং সচেতনতার অভাবে মাঠেই নোংরা ফেলা হচ্ছে। পুকুর পাড়ের উন্নয়নের সময় প্লাস্টিক যুক্ত ময়লা এনে উঁচু করার কাজ হয়েছিল, এখন সেখানে মাটি কম প্লাস্টিক বেশি হয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জোরে হাওয়া বা বৃষ্টি হয়ে জল জমে সেই প্লাস্টিক ড্রেনে জমছে। আবার আশপাশের অঞ্চলের ড্রেনের আবর্জনা এই মাঠেই সময় সময় স্তূপীকৃত করা হচ্ছে। বর্ষার শেষে মানুষ সমান উঁচু ঘাস বেড়ে উঠছে। পাড়ার ছেলেরা এখানে খেলাধুলো করত, এখন সেটা আর সম্ভব হয় না। 

হীরক শুভ্র মজুমদার

সোদপুর

 

স্টেশনে দরকার

মছলন্দপুর রেল স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম দু’টি। কিন্তু টিকিট কাউন্টার সব ক’টি এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে। এমনকি, টিকিট ভেন্ডিং মেশিন তিনটিও কাউন্টারের পাশে, এক নম্বরে বসানো। তিনটি কাউন্টার ও তিনটি ভেন্ডিং মেশিন একই জায়গায় না রেখে অন্তত দু’টি মেশিন দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসানো দরকার। এক নম্বরের মতো, দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মেও ‘পে অ্যান্ড ইউজ়’ শৌচাগার চালু করা অতীব জরুরি। বিশেষত, মহিলা যাত্রীদের খুব বিপদে পড়তে হয়।

দীপক ঘোষ

সাদপুর, মছলন্দপুর

 

উত্তরবঙ্গের রেল

‘নামমাত্র বরাদ্দে বিশ বাঁও জলে...’ (৬-২) শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়েছি। এ বারের কেন্দ্রের অর্থ বাজেটে উত্তরবঙ্গে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে এক পয়সাও বরাদ্দ হয়নি। উত্তরবঙ্গের রেলপথ সীমিত। বিগত ১৯৯২ এবং ২০১১ সালে রেলমন্ত্রী এবিএ গনিখান চৌধুরী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাতটি নতুন ব্রডগেজ রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিলেন। পর পর বেশ কয়েকটি অর্থবর্ষে রেল বাজেটে এই সব প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। কাজও কিছুটা শুরু হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল ডালখোলা-রায়গঞ্জ (৪৫ কিমি), রায়গঞ্জ-ইটাহার (২১ কিমি) ইটাহার-গাজল (২৫ কিমি) এবং কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর (২২ কিমি) ব্রডগেজ রেল প্রকল্প।

প্রায় প্রতি বছর বন্যায় ডালখোলার কাছে বিহারের কাটিহার জেলার তেলতা রেল স্টেশনের সন্নিকটে রেলপথ সেতু বিপর্যয়ের জন্য রেল চলাচল দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ-সহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের ৮টি রাজ্যের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এই কারণে রেল মন্ত্রক বিকল্প রেলপথ হিসেবে, মালদহের গাজল থেকে ভায়া ইটাহার-রায়গঞ্জ হয়ে ডালখোলা পর্যন্ত তিনটি ছোট ছোট রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল ২০১১ সালে। এই রেলপথগুলি তৈরি হলে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের দূরত্ব হ্রাস হবে। যাত্রী-ভাড়া এবং জ্বালানিরও সাশ্রয় হবে। এই প্রকল্পে ৮টি সেতুর মধ্যে দু’টি সেতুর নির্মাণকাজ শেষের পথে। রেলের পিঙ্ক-বুকে দেখলাম, এ বারের রেল বাজেটে এই সব প্রকল্পে এক পয়সাও বরাদ্দ করা হয়নি। রেলের বিধান অনুযায়ী, কোনও চালু রেল প্রকল্পে পরবর্তী বছরে অর্থবরাদ্দ না হলে, ওই স্কিমকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়।

রাধিকাপুর রেল স্টেশনে একটি নতুন রেল লাইন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। মাত্র ৮০০ মিটারের এই রেলপথ তৈরির কাজ শেষ হলে রাধিকাপুর-কলকাতা দিনের ট্রেন চালু হবে। এনএফ রেলের সদর দফতর থেকে তা জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, রেলের আর্থিক সঙ্কটের জন্য গত ১৯ অক্টোবর মাত্র ৫ কোটি টাকার এই রেল প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রেল মন্ত্রক বুলেট ট্রেন চালুর জন্য ১ লক্ষ ১০ কোটি টাকার আমদাবাদ-মুম্বই রেল প্রকল্পকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট রেল প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তপন কুমার চৌধুরী

রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর

 

ব্যবহৃত টিকিট

কলকাতা ও শহরতলির বাস স্টপগুলোয়, একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, ব্যবহৃত টিকিটের ছড়াছড়ি। যাত্রীরা বাস থেকে নেমেই টিকিট ফেলে দেন। এটাই অভ্যাস। প্রতি দিন হাজার হাজার যাত্রী ট্রামেবাসে যাতায়াত করেন, তা হলে ভাবুন, সামান্য একটা টিকিটের কারণে পরিবেশ কী ভয়ঙ্কর নোংরা হয়ে উঠছে! টিকিটটা রাস্তায় না ফেলে অনায়াসে নিজের কাছে রেখে দেওয়া যায় ও পরে উপযুক্ত জায়গায় ফেলে দেওয়া যায়, কিন্তু তা না করে আমরা এই কাজ করে চলেছি।

রবিশঙ্কর রায়

কলকাতা-৫৬

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন