টিফিন নিয়ে বরাবরই চিন্তায় পড়তে হয়। সকালে অফিস যাওয়ার তাড়াহুড়োর মধ্যেও এমন কিছু তৈরি করতে হবে, যা সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। এ দিকে আবার ইরানে যুদ্ধের জন্য রান্নার গ্যাসে টান পড়েছে। তাই মেপে খরচা করতে গ্যাসও। সব শর্ত মেনে কোন টিফিন বানাবেন, যা ছোট থেকে বড়— যে কোনও বয়সিরাই ভালবেসে খাবে?
ছানা আর ডালের পরোটা
এমন পরোটা ঠান্ডা হলেও খাওয়া যায়। ছবি:সংগৃহীত।
গম, রাগি, জোয়ার যে কোনও আটাই বেছে নিতে পারেন পরোটা তৈরির জন্য। মুগ বা মুসুর ডাল সেদ্ধ করে রাখুন। ছানা এবং ডাল সেদ্ধ দিয়ে আটা মেখে নিন। যোগ করুন স্বাদমতো নুন, একটু জিরে, ধনেপাতা কুচি। দিতে পারেন কাঁচালঙ্কা কুচিও। পাতলা করে পরোটা বেলে অল্প তেল বা ঘিয়ে সেঁকে নিন। আবার পরোটার বদলে তেল ব্যবহার না করে রুটির মতো সেঁকেও নেওয়া যায়। সঙ্গে বানিয়ে নিন রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি ধনেপাতার চাটনি।
গ্যাস বাঁচাতে পুরনো পন্থায় ফিরতে পারেন। ভাত রান্নার সময় ডাল ভরা পুঁটলি হাঁড়িতে ফেলে দিলে, ভাপেই তা সেদ্ধ হয়ে যাবে।
সব্জির ইডলি
রকমারি সব্জি দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ইডলি। ছবি:সংগৃহীত।
সব্জি দিয়ে চটজলদি ইডলি বানিয়ে নিন। সঙ্গে রাখুন ঝোল ঝোল ঘুগনি বা আলুরদম। দক্ষিণ ভারতে ইডলির সঙ্গে সম্বর খাওয়া হলেও, ওড়িশার কোনও কোনও জায়গায় ইডলির সঙ্গে ঘুগনি বিক্রি করা হয়। ইডলি-ঘুগনি বা ইডলি—আলুরদমের যুগলবন্দিও মন্দ হবে না। রাতভর চাল-ডাল ভেজানোর ঝক্কি এড়াতে চাইলে সুজি, টক দই এবং জল মিশিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। মিহি করে কুচোনো রকমারি সব্জি তার মধ্যে যোগ করুন। গাজর, পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কার পাশাপাশি সুইটকর্নও দিতে পারেন। বিশেষত ছোটদের জন্য বানালে তারা এটি পছন্দ করবে। সব শেষে যোগ করুন এক চা-চামচ ফ্রুট সল্ট বা আধ চা-চামচ বেকিং সোডা। মাইক্রোওয়েভ অভেনে ২ মিনিটেই ইডলি তৈরি হয়ে যাবে। মাইক্রোওয়েভ অভেনে ইডলি তৈরির জন্য আলাদা ছাঁচ থাকে। তেল ব্রাশ করে সুজির মিশ্রণ ঢেলে ২-৩ মিনিট মাইক্রোওয়েভ মোড চালু রাখলেই ইডলি তৈরি হবে।
অঙ্কুরিত ছোলা-বাদাম মাখা
অঙ্কুরিত ছোলা-বাদাম সেদ্ধ অথবা কাঁচা মশলা দিয়ে মাখিয়ে নিন। ছবি: এআইসহায়তায় প্রণীত।
অঙ্কুরিত ছোলা-বাদাম প্রেশার কুকারে নুন দিয়ে সেদ্ধ করে নিন।পাতিলেবুর রস, সৈন্ধব নুন, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা কুচি, চাটমশলা দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন। চাইলে এতে সেদ্ধ আলুও যোগ করতে পারেন। আলু যোগ করলে পাতিলেবুর রসের বদলের তেঁতুলের ক্বাথও দিতে পারেন, স্বাদ বাড়বে। সঙ্গে জিরে-শুকনো লঙ্কা দিয়ে তৈরি ভাজা মশলাটি দিতেই হবে। সমস্ত উপকরণ ভাল করে মাখিয়ে নিন। গ্যাস বাঁচাতে ছোলা এবং বাদাম মাইক্রোওয়েভ অভেনেও নুন দিয়ে সেদ্ধ করে নেওয়া যায়। তবে প্লাস্টিক নয়, মাইক্রোওয়েভে রান্নার কাচের পাত্রই ব্যবহার করুন।
রুটি রোল
বানিয়ে ফেলুন রুটি রোল। ছবি: সংগৃহীত।
রুটিতে মাখন বা ঘি মাখিয়ে নিন। শুকনো করে তৈরি আলুর তরকারি বা আলু ভাজা রুটিতে রোল করে দিন। পনিরের টুকরো, পেঁয়াজ, শসা দিয়েও রোল বানাতে পারেন। সঙ্গে থাক একটু আচার আর ধনেপাতার চাটনি। খুদের জন্য সঙ্গে একটু সস্ও দিতে পারেন। সঙ্গে টিফিনে থাকুক অল্প বাদাম আর মরসুমি ফল।
ডিমের স্যান্ডউইচ
টিফিনে থাকুক ডিমের স্যান্ডউইচ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
অর্ধসেদ্ধ বা নরম থাকা ডিম দিয়েই স্যান্ডুউইচ বানাতে পারেন। ডিম অর্ধ সেদ্ধ (হাফ বয়েল) করে নিন। ডিমের পোচ বা জল পোচও করতে পারেন। জল পোচে তেলের বদলে জল ব্যবহার হয়। জলে নুন দিয়ে ডিম ফাটিয়ে এমন ভাবে দিতে হবে যাতে কুসুম ঘেঁটে না যায়। তার পর ঢাকা দিয়ে ২-৩-মিনিট রাখলেই জল ফুটে উঠে ডিম সেদ্ধ হয়ে যাবে। তখন জল ঝরিয়ে ডিমটি তুলে নিলে চলবে। ডিমের কুসুমটি যেন হালকা নরম থাকে, সেই পর্যন্ত তা সেদ্ধ করতে হবে। তার পরে পাউরুটি সেঁকে মাখন লাগিয়ে নিন। একটি পাউরুটির উপর ডিমটি রেখে ছুরির সাহায্যে কেটে দিন। নরম কুসুম ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে। নুন, গোলমরিচ, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা ছড়িয়ে অন্য একটি পাউরুটি উপর থেকে দিলেই স্যান্ডউইচ তৈরি হয়ে যাবে। এই ভাবে স্যান্ডউইচ করলে আলাদা করে মেয়োনিজ় না দিলেও চলবে।