2 পুজো আসছে। পুজোর প্যান্ডেলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে থার্মোকলের ব্যবহার দেখা যায়। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য থার্মোকল একেবারেই পরিবেশ-বান্ধব নয়। তার ওপর থার্মোকলে আছে পলিস্টাইরিন নামক বিষ, যা মানবদেহের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। থার্মোকল মাটিতে মেশে না। আবার পুড়িয়ে দিলে যে গ্যাস তৈরি হয়, তা অত্যন্ত বিষাক্ত। এ দিকে থার্মোকলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, নদী-নালা-খাল-বিল-নর্দমা থার্মোকলে ভর্তি। পুজোর শেষে মণ্ডপসজ্জার থার্মোকলও যেখানে-সেখানে পড়ে থেকে পরিবেশকে দূষিত করে। 

অথচ মণ্ডপ সাজাতে সহজেই থার্মোকলের বিকল্প হতে পারে জলজ উদ্ভিদ শোলা। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় শোলা-শিল্পীরা রয়েছেন। এখন শুধু বিয়ের টোপর আর পুজোর ছোট ছোট উপকরণ ছাড়া শোলার ব্যবহার চোখেই পড়ে না। ডাকের সাজও বিলুপ্তির পথে। অথচ পশ্চিমবঙ্গের জলাভূমিতে প্রচুর পরিমাণে শোলা চাষ করা যায়। পরিবেশকে ক্ষতিকারক থার্মোকলের হাত থেকে বাঁচাতে, এখনই সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। 

জয়িতা কুণ্ডু (কুঁতি), সম্পাদিকা, মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতি মাধবপুর, হাওড়া

বুলেট ক্যাচিং

2 পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাদুকরের মৃত্যু’ (রবিবাসরীয়, ২৮-৭) শীর্ষক নিবন্ধ পড়ে ভাল লাগল। আমি এক জন জাদু-অনুরাগী এবং বাঙালির জাদুচর্চার বহু পুরনো সাক্ষী। অথচ বিস্মিত হলাম, ‘বুলেট ক্যাচিং’-এর মতো এই রকম একটা রোমহর্ষক এবং দুঃসাহসিক জাদুবিদ্যা, ভারতে শুধু নয়, এশিয়ার একমাত্র বাঙালি জাদুকর হিসেবে যিনি সাফল্যের সঙ্গে প্রদর্শন করেন, সেই ‘প্রিন্স শীল’-কে কোনও গুরুত্ব বা প্রাধান্য দেওয়া তো দূরে থাক, তাঁর নাম অবধি লেখায় উল্লেখ করা হল না। যদিও প্রতিবেদনটির সিংহভাগ ‘বুলেট ক্যাচিং’ নিয়েই লেখা। যাতে রয়েছে বিদেশি জাদুকরের খেলার বিবরণ ও কৌশলগত দিকগুলি নিয়ে আলোচনা। বর্তমান যুগের বন্দুক-পিস্তল এবং জাদু দেখানোর কৌশল অনেক উন্নত, এবং যেগুলো প্রতিবেদক লিখেছেন, এখন আর সম্ভব নয়। কারণ এখন সমস্তই দেখানো হয় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও উন্নত পদ্ধতির সাহায্যে। তাই যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।

যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের কথা বলেছেন, কিন্তু যিনি বেঁচে থেকে একমাত্র বাঙালি হিসেবে এখন খেলাটি করে চলেছেন, তাঁর নাম নেই। খেলাটি দীর্ঘ দিন উনি সাফল্যের সঙ্গে করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ‘বুলেট ক্যাচিং অ্যাক্ট ইন ইন্ডিয়া’ বলে সার্চ করে আমি প্রিন্স শীলের খেলাটি দেখতে পেলাম, যা একটি বিখ্যাত বিদেশি চ্যানেল দ্বারা সম্প্রচারিত। কলকাতার এই জাদুকর ভারত তথা বিশ্বের অনেক জায়গায় সাড়া ফেলেছেন। পেয়েছেন জাদুজগতের বিরল সম্মান ‘জাদুসম্রাট পি সি সরকার পুরস্কার’। সম্প্রতি জব্বলপুর থেকে জাদুজীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ ‘জীবন স্বীকৃতি’ পেয়েছেন। এই পুরস্কার সারা ভারতে প্রতি বছর এক জনই পেয়ে থাকেন।

মাত্র কয়েক মাস আগে কলকাতা ম্যাজিক মেলায় তাঁর এই খেলাটি দেখানোর কথা ছিল। সেই সময় লোকসভা নির্বাচনের জন্য বন্দুক ব্যবহারের ওপর পুলিশের কিছু বিধিনিষেধ ছিল, যার জন্য ওই অনুষ্ঠানে এই খেলাটি দেখানো যাবে কি না, সে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মেলার মূল আকর্ষণ ছিল এই খেলাটি, কারণ এ বারের থিম ছিল ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’। 

রণজয় বসু

কলকাতা-৬৪

 

কেন ক্ষুব্ধ

2 ‘অস্বাভাবিক’ (৮-৮) শীর্ষক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। লেখকের প্রশ্ন, কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারার এত সুযোগ-সুবিধা চেটেপুটে উপভোগ করার পরও কেন ভারতের অনুগত হল না? উত্তরটা হচ্ছে, কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। দীর্ঘকাল ধরেই কাশ্মীরে বলবৎ রয়েছে AFSPA (Armed force special power act) নামক এক কালা কানুন। এই আইনের বলে সেনাবাহিনী স্রেফ সন্দেহের বশে যে কাউকে গুলি করে মারতে পারে, যখন-তখন সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই কারও বাড়ি তল্লাশি করতে পারে। সেনাবাহিনী জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করতে পারে। সেনাবাহিনী যতই মানবাধিকার লঙ্ঘন করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা মামলা করা যাবে না। ফলে হত্যা, মারধর, রাত-বিরেতে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া, গুম করে ফেলা, পেলেট গান দিয়ে অন্ধ করে দেওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। তার ওপর রয়েছে যখন-তখন কার্ফু জারি, মোবাইল, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া। ফলে তাঁরা কখনওই ভারতকে আপন দেশ হিসাবে মেনে নিতে পারছেন না। কাশ্মীরিদের কাছে সরকারের দেওয়া বিশেষ সুবিধা হল ‘গরু মেরে জুতো দান’-এর শামিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বছর জুন মাসে কাশ্মীরে অত্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে একটি রিপোর্ট (Tyranny of a Lawless Law: Detention without charge or trial under the Jammu Kashmir Public Safety Act.) প্রকাশ করে, যাতে কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

সুজয় চন্দ

রায়পুর, উত্তর দিনাজপুর

 

ধরি মাছ...

2 এ তো দেখছি ‘‘স্বভাব যায় না ম’লে’’-র মতো ব্যাপার। রাজ্যসভায় কাশ্মীরে ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ নিয়ে ভোটাভুটি হল, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা তাতে অংশ না নিয়ে কক্ষত্যাগ করলেন, যা প্রায় বিজেপির প্রস্তাবের পক্ষে সিলমোহর দেওয়ারই শামিল। কংগ্রেস-সিপিআই-সিপিআই(এম)-এনসিপি-ডিএমকে-সমাজবাদী পার্টি-রাষ্ট্রীয় জনতা দল তো বটেই, বিজেপির জোটসঙ্গী জেডি(ইউ) পর্যন্ত এ প্রসঙ্গে একজোট থাকলেও সম্ভবত দিদিরই ‘অনুপ্রেরণা’য় তৃণমূল কংগ্রেস ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র রাস্তায় হাঁটল অবলীলায়। এ রকমটা তো আগেও ঘটেছে বহু বার। গুরুত্বপূর্ণ বিলের আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। টিভির পর্দায় দেখলাম দিদি বলছেন, তাঁর প্রশ্ন পদক্ষেপটির ‘যথার্থতা’ (ইংরেজিতে বলেছেন ‘মেরিট’) নিয়ে নয়, ‘পদ্ধতি’ নিয়ে। সাম্প্রতিক কালে তিনি বহু বার বলার চেষ্টা করেছেন তিনি কম ‘হিন্দু’ নন, বিজেপির তুলনায়। এটা কি তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ?

দেবাশীষ দত্ত, উত্তরপাড়া, হুগলি

জোফ্রা আর্চার

2 জোফ্রা আর্চারকে নিয়ে হইহই চলছে। কী জোরে বল করছেন তিনি, বল আছড়ে পড়ছে ব্যাটসম্যানের মাথায়, শরীরে! সবাই আতঙ্কিত! বেন স্টোকসের মতো খেলোয়াড় বলছেন, ভাগ্যিস ও আমাদের দলেই আছে! বড় বড় বোলার তাঁর প্রশস্তিতে পঞ্চমুখ। মনে পড়ছে হ্যারল্ড লারউডের কথা, যিনি এই একই রকম বল করে কী অসম্ভব নিন্দে কুড়িয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল এক জন খলনায়ক, যিনি ক্রিকেট খেলতে এসেছেন কোনও রকম নৈতিকতা ছাড়াই। এক সময়ে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে অবধি বলা হয়েছিল। তিনি রাজি হননি, এবং সম্ভবত সে জন্যই সেই অতুলনীয় প্রতিভাবান বোলারের টেস্ট কেরিয়ারও শেষ হয়ে যায়। সময়ের পরিবর্তনে মানুষের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, একই কারণে কাউকে বলা হয়েছিল ভিলেন, কাউকে বলা হচ্ছে অবিসংবাদিত নায়ক। অবশ্য আর্চার যে লুটিয়ে পড়া ব্যাটসম্যানের কাছে গিয়ে দাঁড়াননি, সে জন্য তাঁকে এখনও নিন্দে শুনতে হচ্ছে। কে বলতে পারে, সেই বিশ্লেষণও কোন দিন বদলে যাবে! 

রমেশ ভট্টাচার্য

বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা