Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: গাঁথা আছে হৃদয়ে

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:২৬

‘তদ্গত’ (কলকাতার কড়চা, ৪-৯) শীর্ষক রচনাটিতে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরিকল্পনাটি জানতে পারলাম। ধনঞ্জয় ভট্টাচাৰ্য তাঁর সঙ্গীতজীবন বাংলা ও হিন্দি গান দিয়ে শুরু করেন। তিনি ছিলেন বাংলার সঙ্গীতজগতের এক বিরল বহুমুখী প্রতিভা। বাংলা আধুনিক গান, নজরুলগীতি, শ্যামাসঙ্গীত, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত— সবেতেই ছিল তাঁর সমান দক্ষতা। এ ছাড়া তিনি যেমন গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতপরিচালক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন, ঠিক সেই রকম চলচ্চিত্র জগতে অভিনয়ের মাধ্যমেও দর্শক মনে দাগ কেটে গিয়েছেন।

১৯৪০ সালে গীতিকার প্রণব রায় রচিত ও সুবল দাশগুপ্ত সুরারোপিত ‘যদি ভুলে যাও মোরে, জানাব না অভিমান’ গানটি সেই সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যায়। ধনঞ্জয় ভট্টাচাৰ্য সুরারোপিত মহাপ্রস্থানের পথে ছবির গানগুলি নাকি সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। নব-বিধান, পাশের বাড়ি, লেডিজ় সিট প্রভৃতি পাঁচটি ছবিতে তিনি অভিনয় করে দর্শকদের মনে দাগ কাটেন। পাশের বাড়ি ছবিতে সলিল চৌধুরীর ‘ঝির ঝির বৃষ্টিতে’ গানটি যেমন আজও প্রবীণ শ্রোতাদের হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে রয়েছে, তেমনই আধুনিক বাংলা গান ‘ঝনন ঝনন বাজে, সুর বাহারে’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল।

Advertisement

কনিষ্ঠ ভ্রাতা, প্রবাদপ্রতিম শ্যামাসঙ্গীত শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্যের মধ্যে ভক্তিরসের সন্ধান পেয়ে ধনঞ্জয় ভক্তিমূলক গানের জায়গাটি পান্নালাল ভট্টাচার্যকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। পান্নালালের অকালমৃত্যুর পর ধনঞ্জয় আবার ভক্তিমূলক গানে ফিরে আসেন। এই চিরস্মরণীয় শিল্পীর গানগুলি সংরক্ষিত রাখা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

তপনকুমার বিদ

বেগুনকোদর, পুরুলিয়া

অবিস্মৃত

‘কথাশিল্পীর দেওয়া পাঁচ টাকাই তাঁর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার’ (রবিবাসরীয়, ৫-৯) নিবন্ধটিতে স্বপন সোম অল্প কথায় যে ভাবে এক কিংবদন্তি শিল্পীকে উপস্থাপন করেছেন, তা অনবদ্য। এই প্রসঙ্গে তাঁর জীবনের আর একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও সিদ্ধান্তে অবিচল। ষাটের দশকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর উদ্যোগে বন্যাত্রাণে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কলকাতায় একটি বৃহৎ জলসার আয়োজন করা হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় ধনঞ্জয়বাবুকে ওই জলসায় গান গাইতে বলেন। ধনঞ্জয় শর্ত দেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজের সই করা চিঠি তাঁর চাই। বিধানচন্দ্র রায় রাজি হলেন, এবং শেষ পর্যন্ত তা-ই হয়েছিল। এমনই দৃঢ় প্রত্যয় ছিল তাঁর।

নিবন্ধকার তাঁর বিখ্যাত গানের অধিকাংশই উল্লেখ করেছেন। তবে ‘বেসিক ডিস্ক’-এর আরও দু’টি জনপ্রিয় গান খুব মনে পড়ে। ‘জল ভরো কাঞ্চনকন্যা’ এবং ‘কাল সারারাত চোখে ঘুম ছিল না’। এ ছাড়া নজরুলগীতি ‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়’ ও ‘জগতের নাথ কর পার হে’ আজও অনেকেই শুনতে চান।

দুঃখের বিষয়, রেডিয়ো-টিভিতে ধনঞ্জয়ের গান আর বিশেষ শুনতে পাওয়া যায় না। শতবর্ষের আলোয় নিবন্ধকারের সঙ্গে তাই বলতে চাই, এই মহান সঙ্গীতপ্রতিভাকে আমরা বিস্মৃতির অতলে পাঠিয়ে দেব কি?

সাধন মুখোপাধ্যায়

অরবিন্দ নগর, বাঁকুড়া

অভিনেতা ধনঞ্জয়

বাঙালির অন্যতম প্রিয় গায়ক ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যকে নিয়ে স্বপন সোমের নিবন্ধ পড়ে সত্যিই ঋদ্ধ হলাম। আরও একটি তথ্য জানানোর জন্যই এই পত্র। ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য ওই নিবন্ধে উল্লিখিত ছবিগুলি ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন অভিনীত বাঙালির অতি পছন্দের একটি ছবিতে। তা ছিল ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মল দে পরিচালিত দম ফাটানো হাসির ছবি সাড়ে চুয়াত্তর। ছবিটিতে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য অন্নপূর্ণা বোর্ডিং হাউসের এক বাসিন্দা অখিলবাবুর চরিত্রে সুন্দর অভিনয় করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি ওই ছবিতে দু’টি গানও গেয়েছিলেন। তার একটি ছিল সমবেত কণ্ঠে গাওয়া— ‘আমার এ যৌবন’। অন্যটি একটি ভক্তিগীতি— ‘এ মায়া প্রপঞ্চময়’। ওই গানটিতে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য অভিনীত চরিত্র অখিলবাবুকেই পর্দায়, বোর্ডিং
হাউসে এক সন্ধ্যায় গানটি করতে দেখা গিয়েছিল।

সৌরীশ মিশ্র

কলকাতা-৯১

প্রথম ভক্তিগীতি

ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য সুরের জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কণ্ঠলালিত্য সঙ্গীতপ্রেমীদের আজও পৌঁছে দেয় স্বপ্নের রাজ্যে। তাঁকে নিয়ে স্বপন সোমের রচনাটি মনোগ্রাহী হলেও কিছু তথ্যবিচ্যুতি চোখে পড়ল। প্রথমত, “আশ্চর্য ভক্তিরসসিক্ত কণ্ঠে যত দিন পান্নালাল গেয়েছেন, ধনঞ্জয় কিন্তু বেসিক রেকর্ডে ভক্তিগীতি গাননি”— লেখকের এই বক্তব্য ভ্রান্ত। ধনঞ্জয়বাবুর সঙ্গীত জীবনে তাঁর দাদা প্রফুল্ল ভট্টাচার্যের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরই অনুপ্রেরণায় ধনঞ্জয় প্রথম বেসিক রেকর্ডেই ভক্তিগীতি গেয়েছিলেন, হিন্দিতে, ১৯৪৬ সালে সুবল দাশগুপ্তের সুরে। স্বামীজি (১৯৪৯) ফিল্মের গানটি প্রথম গাওয়া ভক্তিগীতি নয়। দ্বিতীয়ত, ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ছবির পরিচালক ছিলেন দেবকী বসু, এবং এটি বাংলা ছবি, যা মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৩ সালে। সুরকার কমল দাশগুপ্ত। রাইচাঁদ বড়ালের সুরে ধনঞ্জয় গেয়েছিলেন হিন্দি ছবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-তে। ধনঞ্জয় প্রথম যে হিন্দি ছবিতে কণ্ঠদান করেন, তা ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঝুঠি কসমেঁ। ১৯৫৪ সালে গেয়েছিলেন কস্তুরী ছবিতে, পঙ্কজ মল্লিকের সুরে, ‘কাহে হুয়া নাদান রে’, যা সাড়া ফেলেছিল। ১৯৬৪ সালে বিদ্যাপতি ছবিতে ধনঞ্জয়ের অনন্য কণ্ঠের নিবেদন, ‘মোসে রুঠ গয়ে বনওয়ারি’ ও ‘কখন হরব দুঃখ মোর ভোলানাথ’ হিন্দি ফিল্ম সঙ্গীতের জগতে ছিল এক অনুপম সংযোজন। সুরস্রষ্টা ছিলেন ভি বালসারা। বিজন পাল সুরারোপিত এক সুরত দো দিল ছবিটি স্মরণীয় হয়ে আছে ধনঞ্জয়ের মনভোলানো কণ্ঠের জাদুতে। সুতরাং, ধনঞ্জয় গেয়েছেন একাধিক হিন্দি ছবিতে। তৃতীয়ত, অসিত মণ্ডল প্রযোজিত ও অজিত গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ফিচার ফিল্ম জয় মা তারা মুক্তি পেয়েছিল মার্চ, ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৯-তে নয়।

সঞ্জয় সেনগুপ্ত

কলকাতা-৩১

জয়ের স্মৃতি

‘পঞ্চাশ বছরে ওভালে ফিরল জয়ধ্বনি’ (৭-৯) পড়ে স্মৃতিতে ডুব দিলাম। বিরাট কোহালির নেতৃত্বে চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড দলকে ১৫৭ রানে হারিয়ে দিয়ে ২-১ ম্যাচে এগিয়ে গেল ভারতীয় দল। একই মাঠে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বে ২৪ অগস্ট, ১৯৭১ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সিরিজ় জয়। এই দিনেই পত্রিকায় একটি সাদাকালো ছবি ছাপা হয়েছে, যেখানে ওয়াড়েকর এবং সেই ম্যাচে জয়ের নায়ক চন্দ্রশেখরের সঙ্গে আংশিক ভাবে দেখা যাচ্ছে দিলীপ সরদেশাইকে। ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে এক দিনের খেলার বিশ্বজয়ের মতো, ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয়ও বার বার সংবাদপত্রে উঠে এসেছে।

মনে পড়ছে আরও এক জয়ের কথা। সে দিন ছিল ৬ মার্চ, ১৯৭১। দ্বিতীয় টেস্ট, বিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। মাঠ, কুইন্স পার্ক ওভাল, পোর্ট অব স্পেন। জয়ের অন্যতম নায়ক দিলীপ সরদেশাই। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১১২ রান। ওপেনিং ব্যাটসম্যান গাওস্করের সেটা ছিল টেস্ট অভিষেক। করেছিলেন প্রথম ইনিংসে ৬৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ-জেতানো ৬৭ রান। জয় এসেছিল ১০ মার্চ। মনে আছে, কড়িকাঠে তারজালির অ্যান্টেনা টাঙানো ভালভ সেটের রেডিয়ো চালিয়ে মধ্যরাত অবধি রিলে শোনার স্মৃতি। ভারত সিরিজ় জিতে ঘরে ফেরে।

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-৫৭

আরও পড়ুন

More from My Kolkata
Advertisement