Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: জয়ের পথ কী হবে

২১ নভেম্বর ২০২১ ০৪:১৩

দেবাশিস ভট্টাচার্যের “এ বার তবে ‘মাসুল পর্ব’” (১১-১১) প্রসঙ্গে কিছু কথা। সদ্যসমাপ্ত এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনের ফলাফলে কেন্দ্রের শাসক দল মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভায় ১৮টি আসন লাভ তাদের পালে হাওয়া সঞ্চার করেছিল। কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের মাসুল দিতে হবে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষে তা বোঝা সম্ভব হয়নি। সব দোষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নয়, তাঁদের কাছে ভুল বার্তা প্রেরণ করেছিলেন এ রাজ্যের দলীয় কর্মকর্তারা। ১৯৮৪-র লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেস ১৬টি আসন পেলেও বিধানসভায় খালি হাতে ফিরতে হয়। এটাই বাস্তব। কর্মকর্তারা তা তলিয়ে দেখেননি এক বারও।

বিজেপি একটি সর্বভারতীয় দল, তাদের নিজস্ব অনুশাসন মেনে চলতে হয়, সাংগঠনিক দিক থেকে বলিষ্ঠ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবুও কেন সাংগঠনিক কাঠামো জোরালো না করেই হেভিওয়েট নেতারা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলের জন্য এতটা তৎপর হলেন? লোকসভা ও বিধানসভা, দু’টি নির্বাচনের প্রেক্ষিত ভিন্ন ভিন্ন, এটা কি তাঁরা জানতেন না? এ রাজ্যে বামেদের আসন না থাকলেও ভোটের একটা অংশ নির্দিষ্ট আছে। সেই ভোট বিজেপির ঝুলিতে জমা পড়েছে বলেই দল ৭৭টি আসন পেয়েছে। কৌশলী বামেদের পরিকল্পনা বিধানসভা নির্বাচনে সফল হয়নি বটে, তবে বামেদের ঝুলিতে তাদের ভোট ফিরতে শুরু করেছে। শান্তিপুর, খড়দহ বিধানসভার ফলাফল সেই ইঙ্গিত দিয়েছে।

ধমকানি-চমকানিতে ভোটারদের প্রভাবিত করা যায় না, সেই অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কতটা প্রভাবিত করবে, ভবিষ্যৎ বলবে। আপাতত এটুকুই পরিষ্কার যে, আজও এ রাজ্যের মানুষের ভোট তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসেই বিভক্ত। বিজেপির ঝুলিতে সেই ৮-১০ শতাংশ। শুধু কুৎসা আর কটূক্তি করে একটা বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ দিবাস্বপ্ন। প্রয়োজন ছিল অসংখ্য যুবকের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহস জোগানো, যারা এ রাজ্যের শাসক দলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও বিজেপির ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছিল। আজ তারাই অসহায়ের মতো পুরনো দলে ফিরে যাচ্ছে। এদের মনোবল বৃদ্ধি করে সংগঠন মজবুত করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনের ফল একই হবে।

Advertisement

রাজা বাগচি

গুপ্তিপাড়া, হুগলি

তৃণমূলে নীরব

দেবাশিস ভট্টাচার্যের প্রবন্ধ গতানুগতিক ভাবে শুধু বিজেপি বিরোধিতার ধারাবাহিক সাতকাহন ফের শুনিয়েছে। বস্তুত, বর্তমানে প্রতিটি প্রবন্ধে দেখা যাচ্ছে, লেখকরা রাজ্য বিরোধী দল বিজেপি অথবা কেন্দ্রীয় বিজেপি শাসক দলের বিরোধিতায় যতটা সাবলীল, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের সমালোচনায় ততটাই অনীহা, কিংবা মোলায়েম সমালোচনা।

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে বিজেপির শোচনীয় পরাজয় শুধু বিজেপির ‘ঔদ্ধত্য’ ও ‘অহমিকা’-র ব্যাধি নয়। এর সঙ্গে আছে এনআরসি আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা। প্রকৃত পক্ষে, বিজেপির প্রতি বিরূপ, বিরক্ত মনোভাবের জন্য তৃণমূলের বিপুল জয় সম্ভব হয়েছে প্রতিটি নির্বাচনে। আর বিনা পরিশ্রমে কিছু পাইয়ে দেওয়ার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আকৃষ্ট জনসাধারণ তৃণমূলের পক্ষে নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। কিন্তু এতে সরকারি কোষাগার আরও ঋণের জালে আবদ্ধ হচ্ছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী পেট্রল-ডিজ়েলে ভ্যাটে ছাড় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এই সরকারের পেট্রল ডিজ়েলে জিএসটিতে যেতে অনীহার কারণও একই। সরকারি কর্মকাণ্ডে রাজ্যের অর্থনীতি ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে। সরকারি দফতরে দীর্ঘ দিন নিয়োগ বন্ধে শিক্ষিত যুবকদের হাহাকার কোনও প্রবন্ধে দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের বিরোধিতা করে লেখা প্রবন্ধের জন্য আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?

তপন কুমার দাস

কলকাতা-১২২

কেবল কোন্দল

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি দলের বাংলায় গতিপ্রকৃতি যে দিকে ছুটছে, তার ধস দেখে তাকে প্রথমেই দেবাশিস ভট্টাচার্য ‘মুষলপর্ব’ না বলে ‘মাসুল পর্ব’ বলে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন। এই বাংলার রাজনীতিতে বিজেপি কখনওই প্রাসঙ্গিক ছিল না। ২০১৪ সালে কংগ্রেস দলের দেউলিয়া অবস্থার সুযোগে কেন্দ্রের ক্ষমতায় বসে ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতের রাজ্য কব্জা করতে শুরু করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যার পুরোটাই লাভ করে নেয় লটারি পাওয়ার মতো, যদিও নির্বাচনের আগে পরে যে অসুস্থ উন্মাদনা দেখা গিয়েছে, যত অর্থ অদৃশ্য পথে লেনদেন হয়েছে, তা বিগত ৭০ বছরে এই দেশ দেখেনি। বিজেপি এ বার আসছে, এই বলে মিডিয়াতে যে ঝড় তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাতে প্রভাবিত হয়ে কিছু নেতানেত্রী বিজেপিতে নাম লেখান। ফলে গ্রহণযোগ্যতা ও সুবিধা ভোগের জন্য এক সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে ওঠে বিজেপির রাজ্য দলীয় সংগঠনে। পরবর্তী উপনির্বাচনগুলিতে কিন্তু সমগ্র ভারতেই বিজেপির ধস নামা শুরু হয়েছে, যার মাত্রা বাংলায় খুব বেশি। ফলে আদি এবং নব্য বিজেপির কোন্দল আরও তীব্র হয়েছে। ভাড়া-করা সৈন্য দিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ এবং দলে সংহতি বজায় রাখা যে মারাত্মক কঠিন, বাংলার বিজেপি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

মৃত্যুঞ্জয় বসু

কলকাতা-৩০

অসৌজন্য

উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট আসন্ন। রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিজেপি তৎপর। তবে কৃষক আন্দোলনের জেরে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-বিরোধী হাওয়া বইছে। আরএলডি নেতা জয়ন্ত চৌধরি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের মহাপঞ্চায়েত গড়ে ভাল সাড়া পেয়েছেন। যে হেতু ওখানে জাঠ ও মুসলিমদের আধিক্য রয়েছে এবং বিগত এক বছর ধরে সেখানে কৃষক বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে, তাই অস্বস্তিতে বিজেপি সরকার। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর সংস্থা পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেন্টারের (পিএসি) সমীক্ষা অপশাসনে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে শীর্ষে স্থান দিয়েছে। সরকারের কাজকর্মে মানুষেরও অনেক ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। তা প্রশমিত করতে ‌‌মাঠে নেমে পড়‌ছেন নরেন্দ্র মোদী ও যোগী আদিত্যনাথ। উত্তরপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক সফরের আয়োজন করা হয়েছে। অনুমান, যোগী ও মোদী মিলে এখন উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন, প্রতিশ্রুতি দেবেন। ভোটের পরে তার কী হবে, তা হয়তো উত্তরপ্রদেশের মানুষ বুঝে গিয়েছেন।

কুমার শেখর সেনগুপ্ত

কোন্নগর, হুগলি

অসহিষ্ণুতা

‘কৃষি ও খাদ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে সমানে টক্কর’ (১০-১১) শীর্ষক সংবাদ আশ্বস্ত করে যে উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এটা দেশের পক্ষে শুভ। ঠিক একই ভাবে যখন “আন্দোলনের ‘আ’ জানে না বিজেপি: মুখ্যমন্ত্রী” (১০-১১) শীর্ষক সংবাদ দেখি, মনে হয় দম্ভের অহমিকা প্রকাশের এক প্রতিযোগিতাও যেন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে চলছে। ১৯৯০ সালে বানতলায় নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তাচ্ছিল্য ভরে বলেছিলেন, “এমন তো কতই হয়”। একই ভাবে ২০০৬-এ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিরোধীদের প্রতি বলেন, “আমরা ২৩৫, ওরা শুধু ৩৫”। আজ সেই দম্ভের প্রতিধ্বনি শোনা গেল। অসহিষ্ণুতা কি রাজনীতির সৌজন্যকে ম্লান করে না?

মিহির কানুনগো

কলকাতা-৮১



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement