সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: সমস্যা অন্যত্র

Population
ছবি: সংগৃহীত

অলকা মালওয়াদে বসুর ‘সবার ভালর জন্য?’ (১১-২) শীর্ষক নিবন্ধকে আক্রমণ করে, দু’টি চিঠি: ‘জনসংখ্যা বিল’, ‘জনবিস্ফোরণ’ (১৮-২) প্রকাশিত হয়েছে। এক পত্রলেখক লিখেছেন “সৃষ্টির আদি থেকে মানুষ জেনে এসেছে, মাথা গুনতি বাড়লে বরাদ্দ কমে। এই সাদা কথাটা বুঝতে অর্থনীতির গম্ভীর তত্ত্ব বা অঙ্কের সিঁড়িভাঙা সরল করতে লাগে না।’’ অপর জন লিখেছেন “বর্তমানে জনবিস্ফোরণ ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা। …১২৫ কোটিরও বেশি লোকসংখ্যার বিপুল বোঝা অবশ্যই ভারতের উন্নয়নের অন্তরায়।’’ 

অথচ, একটু গভীরে ভাবলেই বোঝা যাবে, লেখিকা অলকা মালওয়াদে বসু সঠিক ভাবেই লিখেছেন, “জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই ভারতে উন্নয়ন হচ্ছে না, এই কথাটাকে বহু ভাবে প্রশ্ন করা যায়।’’ অনাহার অপুষ্টি দারিদ্র বেকারত্ব ইত্যাদি সমস্যার জন্য জনসংখ্যার বিস্ফোরণকে মূল দায়ী ভাবলে, আসল সমস্যাটিকেই এড়িয়ে যাওয়া হবে। পত্রলেখকদের মতো বহু বিভ্রান্ত মানুষ সব কিছুর জন্য জনসংখ্যার দোহাই দেন। কিন্তু পৃথিবীতে সম্পদের পরিমাণ মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয়ে গিয়েছে—এটা আজ পর্যন্ত কোনও কর্পোরেট অর্থনীতিবিদও প্রমাণ করতে পারেননি। এই পোড়া দেশ ৩০০০ কোটি টাকা খরচ করে মূর্তি বসাতে পারে কিন্তু মাত্র দেড়শো কোটি মানুষের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে পারে না। এটাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত রূপ, যেখানে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজনকে সামনে না রেখে, কেবল মুনাফার ভিত্তিতে উৎপাদন ব্যবস্থাকে চালনা করা হয়।

পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে মনে করা হয়, চাহিদার মাপকাঠি হল বাজার, আর বাজার নির্ভর করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপরে। কিন্তু এক জন মানুষের শীতকালে সোয়েটার কেনার ক্ষমতা নেই, তার মানে এটা নয় যে তাঁর সোয়েটারের চাহিদা নেই। পুঁজিবাদ বাজারকে বিচার করে মানুষের প্রয়োজন দিয়ে নয়, মানুষের কেনার ক্ষমতা দিয়ে। আবার মুনাফার স্বার্থে নিজেই লোক ছাঁটাই করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে। কাজেই, দারিদ্র বেকারত্ব অপুষ্টি অশিক্ষা ইত্যাদির জন্য মূল দায়ী জনসংখ্যার আধিক্য কখনওই নয়, বরং ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ উৎপাদন ও অসম বণ্টন ব্যবস্থা।

আজ দেশের ৭৩% সম্পদের মালিক দেশের জনসংখ্যার ১% ধনকুবের, গত ১ বছরে যাঁদের সম্পদ বেড়েছে ৪.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। ভারতে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা এখন ১০১ জন, যাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০.৯ লক্ষ কোটি টাকা। অন্য দিকে প্রদীপের নীচে নিকষ কালো অন্ধকারের মতো সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক স্তরের ৬৭ কোটি ভারতবাসীর সম্পদ গত ১ বছরে বেড়েছে ১%। তা হলে দেশের প্রধান সমস্যা কি জনসংখ্যা বৃদ্ধি? না কি সমস্যার আসল কারণ কোটি কোটি মানুষের পরিশ্রমের ফসল মুষ্টিমেয় মালিকের পকেটে গিয়ে ঢোকা?

দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেটাই কি একমাত্র সমস্যা? তথ্য বলছে, ১৯৯১ সালে ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল দশ বছরে ২৩.৯%, ২০০১-এ তা কমে হয়েছে ২১.৫%, ২০১১-র সেন্সাস দেখিয়েছে পরবর্তী দশ বছরে এই বৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ১৭.৬%। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টকে ভিত্তি করে এক দল সমীক্ষক দেখাচ্ছেন, সারা পৃথিবীতেই এখন নতুন সমস্যা হচ্ছে কর্মক্ষম তরুণের সংখ্যা কমে আসা। ভারতও সে দিকেই যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞেরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা দেখাচ্ছেন, ২০৬০-এর মধ্যে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে কমবে। ফলে কর্মক্ষম মানুষেরই অভাব দেখা দিতে পারে। একটি গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান-সহ সব ভারতবাসীর ক্ষেত্রেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পৌঁছে যাবে ‘রিপ্লেসমেন্ট রেট’-এ। অর্থাৎ জন্মহার এবং মৃত্যুর হার প্রায় একই দাঁড়াবে।

আর এক সমীক্ষা বলছে, হিন্দুদের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি যখন ০.৭% হারে কমেছে, মুসলমানদের মধ্যে কমেছে ০.০৮% হারে। সমীক্ষাটি দেখায়, জন্মহার ধর্ম বা বর্ণের উপর নয়, নির্ভর করে আর্থিক পরিস্থিতি, শিক্ষা, সামাজিক পরিস্থিতি ইত্যাদির উপর। মেয়েদের শিক্ষা, কন্যা সন্তানের সঠিক যত্ন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতির সঙ্গে জন্মহার কমার সরাসরি সম্পর্ক আছে। হিন্দুদের মধ্যে বাৎসরিক জন্মহার ২.২% এবং মুসলমানদের ১.৫৬%— বললে পুরো বলা হল না। দেখা যাচ্ছে, গরিব এবং তথাকথিত নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানদের গরিব অংশের জন্মহার এক। 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নানা দেশ, যারা এখন বৃদ্ধের সংখ্যার ভারে চিন্তিত, তাদের সন্তান উৎপাদনের গড় হার এক জন মহিলা পিছু ১.৬। সেখানে ২০১৫-১৬’র ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি অ্যান্ড হেলথ সার্ভে’ (এনএফএইচএস) দেখিয়েছে, ভারতে এই হার এক জন মহিলা পিছু ২.৩। কিন্তু এই পরিসংখ্যানে পুরোটা বোঝা যাবে না, কারণ পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীর’সহ বেশ কিছু বড় রাজ্যে শহরাঞ্চলে এই জন্মের হার মহিলা পিছু ১.৭ থেকে ১.৯-এর মধ্যে। একমাত্র উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাতের মতো রাজ্যে তা বেশি।

কাজেই, ভারতের প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলির সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কোনও সম্পর্ক নেই। শুভনীল চৌধুরী ও শাশ্বত ঘোষ লিখিত ‘হিন্দুরা সংখ্যালঘু হচ্ছেন না’ (১৭-২) শীর্ষক নিবন্ধে এটি স্পষ্ট দেখানো হয়েছে। আশা করব আনন্দবাজারের পত্রলেখক ও পাঠকেরা কোনও মিথ্যা প্রচারের ফাঁদে পা দিয়ে কোনও ভ্রান্ত ধারণা মনে পোষণ করে রাখবেন না।

রুদ্র সেন

কলকাতা–২৮

বিমায় জিএসটি

‘স্বাস্থ্য বিমার ক্লেমে পোর্টালের ভাবনা’ (১৭-২) শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে বলি, বিমা গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ‘কমন’ পোর্টাল তৈরির প্রস্তাব খুব ভাল, কিন্তু স্বাস্থ্য বিমায় সর্বাগ্রে প্রয়োজন— জিএসটি রহিত প্রিমিয়াম। অনেকেই পরনির্ভরতা থেকে বাঁচার জন্য স্বাস্থ্য বিমার আশ্রয় নেন। এটি একটি সামাজিক সুরক্ষা। কোনও ভোগ্যপণ্য নয় বা বিনিয়োগ নয়। তা সত্ত্বেও ভারত সরকার প্রিমিয়ামের উপর অমানবিক ভাবে ১৮% হারে জিএসটি চাপিয়ে দিয়েছে। আইআরডিএ-র চেয়ারম্যান কখনও বলছেন, বিমার গ্রাহকদের কুপন দেওয়া হবে— জিমে গিয়ে ব্যায়াম করতে পারবেন। এক বারও বলছেন না, সরকারের জিএসটি-টা স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামের উপর থেকে প্রত্যাহার করা উচিত। 

অরুণ ভাণ্ডারী

রামচন্দ্রপুর, হাওড়া

 

দুটো আলাদা

‘টাকা দিচ্ছে সরকার, কিন্তু ক্যানসারে কত’ (১৯-২) শীর্ষক প্রতিবেদনে পড়লাম, এক জন প্রস্তাব দিয়েছেন, জননী সুরক্ষা যোজনার বিধিবদ্ধ সুবিধাসমূহ ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করা হোক। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় এক সামাজিক বিনিয়োগ; তাদের সুস্বাস্থ্যে অর্থনীতির স্বাস্থ্য ফেরে। কিন্তু ক্যানসার রোগীদের স্বাস্থ্য খাতে কৃত সরকারি ব্যয় হল ব্যক্তিবিশেষের রোগযন্ত্রণা উপশমে সমাজের এক সহানুভূতিমূলক দাক্ষিণ্য— দু’টি এক নয়। তা ছাড়া, অন্য রোগে আক্রান্তেরা কী দোষ করলেন? মানুষ তো শুধু ক্যানসারেই মারা যান না। 

চামেলি পাল

বাটানগর

 

গীতিকারও

‘মঞ্চেও অভিনয় করেছেন তিনি’ (রবিবাসরীয়, ২৩-২) প্রসঙ্গে জানাই, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা ছবিতে গানও লিখেছেন। কয়েকটি উদাহরণ: ‘বিদগ্ধ যৌবন’, ‘বঁধু অনেক কাঁদায়ে’ (শিল্পী ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি ‘রাইকমল’), ‘হাঁসুলি বাঁকের কথা বলব কারে’ (শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছবি ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’), ‘এই খেদ মোর মনে’, ‘কালো যদি মন্দ তবে’ (শিল্পী রবীন মজুমদার, ছবি ‘কবি’), ‘এক ঘেঁটু তার সাত বেটা’ (শিল্পী মান্না দে ও সহশিল্পীবৃন্দ, ছবি ‘গণদেবতা’)।

হীরালাল শীল

কলকাতা-১২

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন