‘চাকরিতে মহিলা সংরক্ষণের আশ্বাস’ (১৪-৩) শীর্ষক সংবাদ প্রসঙ্গে এ চিঠি। গত ১৩ মার্চ তামিলনাড়ুতে রাহুল গাঁধী ঘোষণা করেছিলেন, আগামী লোকসভা ভোটে তাঁর দল ক্ষমতাসীন হলে, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানো হবে। আর এক ধাপ এগিয়ে তাঁর মন্তব্য, মহিলাদের জন্য সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিপূর্বে ১৯৯৬ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া উত্তরপ্রদেশে এক জনসভায় অঙ্গীকার করেছিলেন, ক্ষমতায় এলে যুক্তফ্রন্ট সরকার, সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন এবং ৩০ শতাংশ সরকারি চাকরি সংরক্ষিত করবে। ক্ষমতাসীন হয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার ওই সব অঙ্গীকার অবশ্য বাস্তবায়িত করেনি। 

২০১৭-র ২০ সেপ্টেম্বর তদানীন্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, ‘‘২০১০ সালে রাজ্যসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাশের পর নানা কারণে লোকসভায় তা পাশ করানো যায়নি। লোকসভায় আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিলটি পাশ করুন। মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কংগ্রেস তা পূর্ণ সমর্থন করবে।’’ এর পর সনিয়ার নির্দেশে কংগ্রেসের পাঁচ মহিলা নেত্রী একযোগে মোদীর নারী-দরদি ভাবমূর্তিকে কটাক্ষ করে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন, ‘‘মহিলা সংরক্ষণ বিল যদি লোকসভায় পাশ করতে হয়, তবে তা ২০১৭-র শীতকালীন অধিবেশনেই করা উচিত। কারণ এটি সংবিধান সংশোধনী বিল হওয়ায় একে বাস্তবায়িত করা এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ২০১৭ সালে বিলটি পাশ না হলে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তা রূপায়ণ করা কঠিন হবে।’’ মোদী সরকার এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় লোকসভায় বিল পাশ হয়নি।

বস্তুত ওই বিল নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্যপন্থী একাধিক রাজনৈতিক দলের ঘোরতর আপত্তির দরুন, ১৯৯৬ সালে সংসদে বিলটি উত্থাপিত হলেও, বেশ কিছু পুরুষ সংসদের ব্যাপক বিরোধিতার জেরে লোকসভায় তা পাশ করানো যায়নি। ২০১০ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ জমানায় রাজ্যসভায় বিলটি পাশের সময়েও সংসদের উচ্চকক্ষে লঙ্কাকাণ্ড চলেছিল। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বর্তমানে বিজেপি দলের মধ্যেও ঘোর আপত্তি রয়েছে। কারণ ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত হলে, এ বারের লোকসভা ভোটে প্রার্থিপদ খোয়াতে হত অনেক পুরুষকেই। এই বিল নিয়ে অতীতে বহু বার সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে, কিন্তু সংসদের নিম্নকক্ষে তা পাশ করানো যায়নি। আদতে এই বিলকে সামাজিক সংস্কারের একটি জনমুখী দিক হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত নয় অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। বর্তমানে লোকসভায় মহিলা সদস্য সংখ্যা মোট আসনের ১১ শতাংশেরও কম। অবশ্য আসন সংরক্ষিত হলেই নারীর অবস্থানের রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে, তা নয়। তবু আইনসভার প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতার যে অভাব রয়েছে, কিছুটা অন্তত পূর্ণ হবে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯

অন্য দিকে, আমাদের দেশে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাবল্যের জেরে নারীকে শুধুমাত্র পরিবারের দেখভাল ও শুশ্রূষাকারী রূপে দেখার প্রবণতার দরুন, শ্রমশক্তিতে মহিলাদের যোগদানের হার প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেয়েদের শ্রমশক্তিতে নিয়োজিত থাকার নিরিখে বিশ্বের ১৩১টি রাষ্ট্রের ভিতরে ভারতের স্থান ১২১। তা ছাড়াও জি-২০ ফোরামভুক্ত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভারতের স্থান সর্বশেষ সারিতে। আইএলও-র এ সংক্রান্ত ২০১৭ সালের হিসাব থেকে জানা গিয়েছে, সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্র মিলিয়ে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি ভারতীয় মেয়েদের মধ্যে কর্মরত ছিলেন মাত্র ২৭ শতাংশ। এটা বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মহিলাদের কর্মশক্তিতে যোগদানের গড় হারের প্রায় অর্ধেক। একই সময়ে ভারতের পুরুষের শ্রমশক্তিতে যোগদানের হার ৭৯ শতাংশ, মহিলাদের হারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এ ক্ষেত্রে পুরুষ-নারীর হার সমান হলে দেশের জাতীয় আয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা। 

মহিলারা শ্রমশক্তিতে নিয়োজিত থাকলে পারিবারিক বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়া বা দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট মোতাবেক, চাকরি কিংবা নিজস্ব ব্যবসায় যুক্ত যে মেয়েরা, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে সাংসারিক ক্ষেত্রে তাঁদের মতামতের মূল্য অন্য নারীদের তুলনায় বেশি। পারিবারিক হিংসার অনুপাতও এঁদের ক্ষেত্রে কম। উপরন্তু এঁরা সন্তানসন্ততিদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বেশি ব্যয় করতে পারেন। এ সব কারণেই কর্মশক্তিতে মহিলাদের হার বৃদ্ধির জন্য সরকারি স্তরে যথোপযুক্ত প্রকল্প নেওয়া দরকার। সঙ্গে, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা জোরদার করাও জরুরি।

মানস কুমার রায়চৌধুরী

কলকাতা-২৬

পেনশন বন্ধ

আমি কেন্দ্রীয় পেনশনপ্রাপক। স্বামী চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, সেন্ট্রাল এক্সাইজ় অফিসে কর্মরত অবস্থায় এক দিনের ডিহাইড্রেশনে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ১২-১২-২০১৩ তারিখে হাসপাতালে মারা যান। অফিস সমস্ত রকম সাহায্যের পর পেনশন চালু করে দেয় ১১-০৩-২০১৩ থেকে, মাসে ৯,৭০০ টাকা। নোটবন্দির মাস (০৮-১১-২০১৬) থেকে হঠাৎ পেনশন বন্ধ হয়ে যায়। সিপিএ এবং দিল্লি অফিসে ফোন মারফত পুনরায় লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিলে বাকি সাত মাসের টাকা পাই। আবার পরের মাস থেকে আজ পর্যন্ত দু’বছর পেনশন বন্ধ, কোনও নোটিস ছাড়াই। দিল্লি অফিসে আমার পিপিপিও নম্বর শুনেই মহিলা কণ্ঠ ‘‘বাদ মে ফোন করিয়ে’’ বলে কল কেটে দেন। দিল্লি অফিসেও চিঠি দিই; তা হয়ে গেল তিন মাস। কোনও খবর নেই। আর্থিক দিকে দুর্বল। আর কত দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে?
কবিতা ঘোষ মখরমপুর, বীরভূম

ফেরত চাইছে

আমার বাবা কালীপদ চক্রবর্তী ভারত সরকারের পেনশনপ্রাপ্ত এক স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। গত ০৮-০৮-২০১৬ তারিখে মারা যান। সে সময় ব্যাঙ্কে মৃত্যুর প্রমাণপত্র জমা দিই এবং মা’র নামে একক হিসাব বই হয়। কিন্তু পারিবারিক (স্ত্রীর) পেনশনের যথাযথ কাগজ/প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ব্যাঙ্কও ওই মর্মে আমাদের জানায়নি বা বলেনি। মা, যথারীতি পেনশন পেয়ে আসছেন। তবে মা’র লাইফ সার্টিফিকেট বিগত বৎসরগুলিতে জমা করে গিয়েছি। 
ব্যাঙ্ক শাখা ডিসেম্বর ২০১৮-য় মা’র প্রাপ্য পেনশনটি বন্ধ করে দেয়, ওই কারণ দেখিয়ে। কাগজপত্র জমা হয়েছে, কিন্তু ব্যাঙ্ক বলছে গত ০৯-০৮-২০১৬ থেকে ৩১-১১-২০১৮ অবধি প্রাপ্য পেনশনটি ফেরত দিতে হবে। যার অঙ্ক ৭,৪৪,৯১৫। ওই টাকা ফেরত না দিলে পুনরায় পেনশন চালু করা যাবে না। যদিও এরিয়ার হিসাবে ওই টাকা পাওয়া যাবে। বর্তমানে ওই অঙ্কের টাকা মেটানো আমাদের পক্ষে একান্তই অসম্ভব। এই কথা বলতে কলকাতায় ব্যাঙ্কের প্রধান শাখায় গেলে, ওখান থেকে এই সমস্যার সমাধান ব্যাঙ্ক শাখাটিকেই করতে বলে। উল্লেখ্য, পারিবারিক পেনশন একই থাকে। আমার মা’র বয়স (প্রায়) ৮০। তাঁর চিকিৎসা খাতে প্রতি মাসে বহু অর্থ ব্যয় হয়, পরিবারের খরচ তো আছেই। এমতাবস্থায় বাঁচা-মরার সমস্যা।
শিবপদ চক্রবর্তী কাঁচড়াপাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা