E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: অন্ধকার এখনও

যদিও গ্রামেগঞ্জে বহু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এখন হয়েছে। শিক্ষার অগ্রগতি ঘটেছে, বিজ্ঞানেরও অগ্রগতি ঘটেছে। ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্ল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পদার্পণ করেছেন। ভারত গগনযান মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬

সিদ্ধার্থ মজুমদারের ‘আজকের দিনেও ডাইনি প্রথা’ (১৬-১২) শীর্ষক প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা। গ্রিক পুরাণে ‘সারসি’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল। জাদুবিদ্যায় সারসি এতটাই পারদর্শী ছিল যে, সে মানুষকে পশুতে রূপান্তরিত করার ক্ষমতা রাখত। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে বিচার করলে ‘সারসি’-র বাংলা প্রতিশব্দ হবে ‘ডাইনি’। ডাইনি সন্দেহে হত্যা শুধু ভারতে ঘটে না, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাসেও এর ব্যাপক উপস্থিতি আছে। আসলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া, জাতপাতের প্রাবল্য, অশিক্ষা, অপশিক্ষা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন ছুতো পেলেই উত্তেজিত ও হিংস্র হয়ে ওঠে, যা কাউকে ডাইনি বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং তাঁকে নির্যাতন করা বা হত্যা করার জন্য সবিশেষ দায়ী। অঞ্চলভেদে ডাইনি হত্যার অছিলা ভিন্ন হলেও আদতে এর পিছনে থাকে তীব্র নারীবিদ্বেষ। যদিও ডাইনি হত্যার ভারতীয় বৃত্তান্তে মাঝে মাঝে পুরুষের আর্তনাদও ফুটে বার হয়। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডাইনি তকমা পেয়ে থাকেন নারীরাই। বিশেষত দলিত, আদিবাসী বা জনজাতি সম্প্রদায়ের হতভাগ্য কোনও নারীর কপালে জোটে ডাইনি তকমা। প্রসঙ্গত, অনেক জায়গায় অসুরের মূর্তি, ডাকিনী-যোগিনীর মূর্তি জনজাতিভুক্ত মানুষের আদলে রূপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তাই অনুমান করা যায় যে, দলিত, আদিবাসী বা জনজাতিভুক্ত মানুষদের অশুভ শক্তির প্রতীক বা ‘ডাইনি’ বলে চিহ্নিত করার অভিপ্রায়টি খুবই প্রাচীন। যদিও গ্রামেগঞ্জে বহু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এখন হয়েছে। শিক্ষার অগ্রগতি ঘটেছে, বিজ্ঞানেরও অগ্রগতি ঘটেছে। ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্ল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পদার্পণ করেছেন। ভারত গগনযান মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ, এ দেশেই ডাইনি সন্দেহে নির্যাতন ও খুন এখনও ঘটে চলেছে। তাই, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সম্পর্কে জ্ঞান, আগ্রহ, ইতিবাচক মনোভাব এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির চেষ্টা না করলে, সর্বোপরি অশিক্ষা, কুসংস্কার দূর করতে না পারলে, এই অন্ধকার শেষ হতে বহু প্রজন্ম অপেক্ষা করতে হবে।

অজয় ভট্টাচার্য, বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা

সচেতনতা চাই

সিদ্ধার্থ মজুমদারের লেখা ‘আজকের দিনেও ডাইনি প্রথা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি সত্যিই আজও মানুষকে ভাবায়। অনাদি কাল ধরে ঘরের সুখ-শান্তি, কুটুম্বিতা, খুঁটিনাটি যাবতীয় দায়িত্ব মহিলারাই সামলে এসেছেন। কোনও ত্রুটি হলেই দোষের ভাগীদারও সেই তাঁরাই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের সব সময় দুর্বল ভাবাটা পৌরুষ বলেই ধরা হত। দ্বাদশ শতাব্দীতে গোবর্ধন আচার্য তাঁর ‘আর্য সপ্তশতী’ গ্রন্থে একটি শ্লোকে উল্লেখ করেছেন, “সখী ধীরে পা ফেলে চল। তোমার উদ্ধত আচরণ দেখে পল্লীপতি ডাকিনী বলে দণ্ডবিধান করতে পারেন।”

সেই আদম-ইভের গল্পে ইভের প্রলোভনের শিকার হওয়ার ঘটনা থেকে বদ্ধমূল ধারণা হয়— নারীরা সহজেই শয়তানের কবলে পড়েন। ধীরে ধীরে শুরু হল যৌন নির্যাতন, জুলুম, ভিত্তিহীন কুমন্তব্য, বাড়তে থাকে অন্ধবিশ্বাস। আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাইনি প্রথা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় আইনি পথে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা, এমন ঘটনার খবর পেলে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো, সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করলেও এখনও এই অমানবিক প্রথা সমূলে উৎখাত করা যায়নি। এর জন্য প্রয়োজন সমাজের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন এবং বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাধারা গড়ে ওঠা, যা নিঃসন্দেহে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সামাজিক সংগঠন, গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দ্বারাও জনসাধারণের মধ্যে এর প্রচার প্রয়োজন। প্রত্যন্ত গ্রামে বেতার, দূরদর্শন এখন বহুল প্রচলিত। বেতারে জনপ্রিয় বিষয়ভিত্তিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ধরনের সামাজিক কুপ্রথাসমূহের কুফল প্রচার করা যেতে পারে। তা ছাড়াও দূরদর্শনের বিভিন্ন ধারাবাহিক বা রিয়ালিটি শো-র মাধ্যমে সচেতনতার প্রসার সম্ভব।

গীতিকা কোলে, কলকাতা-৫২

দোষারোপ নয়

নবনীতা দত্তের প্রবন্ধ ‘নিজের কাজের দায় সন্তানের কাঁধে নয়’ (পত্রিকা, ৩-১) খুবই যুগোপযোগী। বর্তমানে অধিকাংশ দম্পতি চাকরি করেন, বা কর্ম উপলক্ষে বাইরে যান। বেশির ভাগই অণু পরিবার, তাই কাজের জায়গার মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বাড়িতে। এবং এ ক্ষেত্রে সফট টার্গেটটি হল সন্তান। তার পিছনে খাটতে খাটতে বাবা-মা নিজেদের ইচ্ছামাফিক জীবন যাপন করতে পারছেন না, নিজের কাজের জায়গায় উপযুক্ত সময় দিতে পারছেন না— এই সব অভিযোগ হামেশাই তাঁরা উগরে দিয়ে থাকেন। এক বারও বুঝতে চেষ্টা করেন না, শিশুটির কী হাত আছে এতে, তাকে তো পড়াশোনায় সাহায্য করতে, তার খাবারের ব্যবস্থা করে দিতেই হবে। এতে বাহাদুরি কিছু নেই। মা-পাখিও সন্তান বড় না-হওয়া পর্যন্ত ছানাদের মুখে খাবার জুগিয়ে যায়। জীবজগতের একই নিয়ম। আবার এর উল্টো দিকও আছে। কিছু সন্তান আছে সুযোগসন্ধানী, তারা বাবা-মায়ের পরিশ্রমের দাম দেয় না। কী করে বাবা-মা’কে চাপ দিয়ে নিজের চাহিদা পূর্ণ করা যায়, ছোট বয়স থেকেই শিখে যায় তারা। সে ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে বোঝানো যে তাঁরা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে লিপ্ত। তাই সব সময় তাঁরা সন্তানের সব চাহিদা মেটাতে পারবেন না, সে নিজেও একটু স্বাবলম্বী হোক। আবার কিছু বয়স্ক বাবা-মা আছেন, যাঁরা চান ছেলে-মেয়ে তাঁদের পাশে সারা ক্ষণ থাকুক, অন্যত্র কাজ করতে যাওয়ার দরকার নেই, সে যতই ভাল চাকরি হোক। তাঁদের মুখে সব সময় অভিযোগ লেগেই থাকে। তাঁরা মানতে চান না যে, তাঁদের সময় এক রকম ছিল, যখন তাঁরা বাড়ির কাছেপিঠে চাকরি পেয়ে সংসারের-নিজেদের মা-বাবার সব দায়িত্ব সামলাতে পেরেছেন। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। মোদ্দা কথা হল, নিজের কাজের দায় নিজেকেই নিতে হবে, অপরের কাঁধে চাপিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া ঠিক নয়। দোষারোপ কোনও সমাধান নয়।

সর্বানী গুপ্ত, বড়জোড়া, বাঁকুড়া

অপরিসর

ঝাড়গ্রাম শহরের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে লোধাশুলি-বাঁকুড়া পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কের উভয়মুখী রাস্তা। রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে সরকারি কার্যালয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান, দোকান, এমনকি বিদ্যালয়ও। আর এই রাজ্য সড়ক ধরেই অনবরত দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে নানা ধরনের যানবাহন। কিন্তু রাস্তা অপরিসর হওয়ার কারণে পথচারী এবং সাইকেল আরোহীদের রীতিমতো প্রাণ হাতে করে রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিভিন্ন বাঁকের কাছে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষত পুরনো ঝাড়গ্রামের শ্মশান কালীমন্দিরের কাছের বাঁকটিতে রাস্তা অপরিসর হওয়ার কারণে এটিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে আবেদন, রাজ্য সড়কটিকে উভয় দিকে আরও চওড়া করার ব্যবস্থা করা হোক।

কমলেন্দু ঘোষ, নতুনডিহি, ঝাড়গ্রাম

ভাড়ার ওঠানামা

কাঁকুড়গাছি থেকে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় যাত্রীসাথীতে ভাড়া পড়ল ২৬০ টাকা। কিন্তু ফেরার সময় এয়ারপোর্টের নিজস্ব যাত্রীসাথী কিয়স্ক থেকে যখন ক্যাব ঠিক করে দিল, ভাড়া হল ৪৫৩ টাকা। ক্যাবচালক বললেন, “এরা পার্কিং, ওয়েটিং সব ধরে ভাড়া তৈরি করছে। আমরা কম টাকাই পাব।” বললাম, যদি নিজে বুক করি? জবাব এল, “হয় বার বার বুকিং ক্যানসেল করবে, নয় এয়ারপোর্টে ঢোকার জন্যে অতিরিক্ত টাকা দাবি করবে।”

এমন অবস্থাই চলছে।

নীলাঞ্জন চৌধুরী, কলকাতা-৫৪

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Science Strange Superstitions

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy