‘‘তুই কি টুম্পা?’’

‘খাব না ও খাবুনি-র দ্বন্দ্ব…’ (৫-৮) শীর্ষক খবরে সেন্ট জ়েভিয়ার্সের ছাত্র হৃষীক কোলে-কে নিয়ে লেখাটা পড়তে গিয়ে আমার ছাত্রজীবনের কিছু ঘটনা মনে পড়ে গেল। পূর্ব মেদিনীপুরের একেবারে গ্রামের স্কুল থেকে পাশ করে যখন আশুতোষ কলেজে ভর্তি হয়ে হস্টেলে এলাম, প্রথম সম্ভাষণটাই ছিল, ‘‘আবার একটা মেদিনিপুরিয়া বাড়ল।’’ কথাটায় এমন একটা অবজ্ঞা ছিল, বেশ গায়ে লাগল। এর পর যখন ক্লাস করতে গেলাম, আমার পদবি দেখে সহপাঠীরা বেশ তাচ্ছিল্য আর কৌতুক মিশিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘‘তুই কি টুম্পা?’’ বেশ ঘাবড়ে গিয়ে মানেটা জানতে চাইলে শুনতে হল, ‘‘টিপিক্যাল আনকালচার্ড মেদিনিপুরিয়ান প্রোডাক্ট।’’ তার পর শুনতে হল ‘‘হ্যাঁ রে, তোদের গ্রামের প্রত্যেক বাড়ি থেকে নাকি বজ বজ আওয়াজ হয়?’’ আবার ধাক্কা খেয়ে মানে জানতে চাইতে বলা হল, তোরা তো মুড়িতে জল দিয়ে খাস, তাই। এই রকম নানা ভাবে হস্টেলে, ক্লাসে অনবরত উত্ত্যক্ত করা হত। আস্তে আস্তে মানিয়ে নিলাম। 

কিন্তু এমন অনেককেই জানি, যারা অসম্ভব মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র এই একটা কারণে নিজেকে গুটিয়ে নিত। কখনও কারও কারও মানসিক সমস্যাও দেখা দিত। হস্টেলে আমারই এক জুনিয়র এক বার ভেঙে পড়ে আমাকে বলেছিল, ‘‘দাদা, কেন যে মরতে গ্রামে জন্মালাম!’’ তথাকথিত কলকাতার বাংলা ভাষায় আমার খুব একটা সমস্যা ছিল না, কিন্তু অনেকেই ছিল প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। তাদের বাবা-মা অনেক কষ্ট করে অনেক আশা নিয়ে তাদের শহরে পড়তে পাঠাতেন। এক দিকে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, আবার এই সব অনভিপ্রেত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে। এই করতে গিয়ে অনেকেই জেরবার হয়ে যেত। অনেকেই পরিস্থিতি সামলে নেয়, অভাগা হৃষীক পারল না।

তুলসী প্রসাদ দাসমহাপাত্র

মৈতনা, পূর্ব মেদিনীপুর

অস্ত্র কারখানা

নান্দীমুখ শুরু হয়েছিল ঢের আগেই, এ বার তাতে সিলমোহর পরাল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি সরকার। ১৭৭৫ সালে নির্মিত দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪১টি অস্ত্র নির্মাণ কারখানার প্রায় ১লক্ষ কর্মচারীর ভবিষ্যত কর্পোরেটাইজ়েশন ওরফে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত পাকা হল বিপুল জনাদেশের আশীর্বাদে।

এই আয়ুধ কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা ও দক্ষতায়, স্থল-বিমান-নৌবাহিনীর অধিকাংশ ছোট-বড়-মাঝারি অস্ত্র, ট্যাঙ্ক-বিমান বিধ্বংসী প্রতিরোধী যন্ত্র, বোম, মিসাইল, লঞ্চার, গ্রেনেড, আর্মড ভেহিকল, প্যারাশুট সেনার বস্ত্র সাফল্যের সঙ্গে এ যাবৎ উৎপাদিত হয়ে এসেছে। এ বছরের ১৮ মার্চ দিনটি ডিফেন্স প্রোডাকশন উৎকর্ষের ২১৬ বছর উদ্‌যাপনের শুভারম্ভ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথামাফিক সাফল্যও কামনা করেছিলেন। চলতি অর্থবর্ষেও আয়ুধ বাহিনী উৎপাদন-লক্ষ্য (প্রোডাকশন টার্গেট) পূর্ণ করেছে। হাতেনাতে এই ‘উপহার’ পেতে চলেছেন তাঁরা।

দিকে দিকে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিরক্ষার ন্যায় সংবেদনশীল গোপনীয় বিষয় বেসরকারি পুঁজির হাতে কত দূর নিরাপদ, সংশয় জেগেছে বিভিন্ন মহলে। ব্যাঙ্ক-রেলওয়ে-ডাকবিভাগ-বিমান পরিষেবা-দূরসঞ্চার— বিশাল পতনশব্দ শোনা যাচ্ছে, সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে প্রচুর এস্টেট, স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিকাঠামো ও সম্পদসমৃদ্ধ আয়ুধ নির্মাণ কারখানাও। কর্পোরেট পুঁজির চোখ চকচক করাই স্বাভাবিক। 

ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। রাজ্যসভায় সরব হয়েছেন দোলা সেন। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। যে ভাবে মোদী-অমিত শাহ জুটি অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটাচ্ছেন, 

তাতে কি আর অর্ডন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নয়) ফ্যাক্টরির অন্তর্জলি যাত্রা রোধ করা যাবে ?

সরিৎশেখর দাস

সুকান্ত সরণি, ব্যারাকপুর

দানব মাছ

গত ৫-৭ তারিখে গাজলডোবার কাছে একটি ১০০ কেজির দানবাকৃতি মাছ ধরা পড়ল। মিডিয়া হইহই করল। মাছটি বিক্রি হল। এক মাছ বিশেষজ্ঞ বললেন, বোয়াল গোত্রের মাছ। হেলিকপ্টার ক্যাটফিশ। কিন্তু তিস্তার জলে ধরা পড়া মাছটি আসলে ছিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজ়ার্ভেশন অব নেচার-এর তালিকায় ‘লুপ্তপ্রায় প্রজাতি’র জায়ান্ট ডেভিল ক্যাটফিশ। স্থানীয় ভাষায় দানব বাঘাইড় বা বাঘাইর। এটি ধরাটাই অপরাধ, খাওয়া তো দূরের কথা।

শঙ্খমণি গোস্বামী

কলকাতা-১২২

নেতাজির জামা

গত ১০-৭ তারিখে আমরা পুরীর গোপাল বল্লভ রোডে অবস্থিত নেতাজি মিউজ়িয়াম দেখতে যাই। নেতাজির শয়নকক্ষে দেখলাম, একটি খাটের ছত্রির উপর কতকগুলি জামাপ্যান্ট (খাকি রঙের) অবিন্যস্ত ভাবে রাখা আছে। মিউজ়িয়ামের একমাত্র কর্মচারীকে প্রশ্ন করতে, তিনি বললেন, এগুলি নেতাজির ব্যবহৃত জামাকাপড়। একেবারে আনকোরা নতুন খাকি জামাপ্যান্ট কী ভাবে নেতাজির হতে পারে, আমার জানা নেই। তবু তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, ওগুলি নেতাজির,  তা হলে তাঁর পরিধেয় বস্ত্র কি আর একটু সুন্দর ভাবে সম্মানের সঙ্গে কাচের আলমারির মধ্যে রাখা যেত না?

সারণ্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা-২৬

গাছ কাটা হল

আমার সাত বছরের ছেলে ভিআইপি হলদিরামের পাশে অনুপমা হাউজ়িং কমপ্লেক্সের গেট থেকে স্কুলবাসে ওঠানামা করে। কমপক্ষে ১৫টা স্কুলের বাচ্চারা ওখানে দাঁড়ায়। প্রচুর গাছপালা ছিল ফুটপাতে, বেশ একটা মনোরম পরিবেশ ছিল। সম্প্রতি, কোনও অজ্ঞাত কারণে, সমস্ত গাছপালা কেটে ফেলা হল। প্রচণ্ড রোদে বাচ্চাগুলো স্কুলবাসে ওঠার আগেই কাহিল হয়ে পড়ছে।

অংশুমান সরকার

কলকাতা-৫২

নাম বদলে

মুজাফ্ফরপুর ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির নাম সীতামাড়ি এক্সপ্রেস করে দিয়ে, ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাকি সব আগের মতোই আছে, সেই ঝরঝরে বগি, প্রতিটি স্টেশনেই দাঁড়ানো। সময়ও একই লাগছে। 

হৃষীকেশ বসাক

কাঁকসা সুভাষ পল্লি, পশ্চিম বর্ধমান

সাবওয়ে চাই

হাতিবাগান মোড়ে সারা দিন গাড়ি চলে। সিনেমা হল ও দেকানের জন্য খুব ভিড়। ফুটপাত পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের দখলে, তাই রাস্তা দিয়েই চলতে হয়, রাস্তায় নেমেই গাড়ি ধরতে হয়। অবিলম্বে সাবওয়ে চাই

ডালিম কুমার দত্ত

কলকাতা-৬

অ্যাপ আছে

‘অ্যাপ হোক’ (৫-৮) চিঠিতে লোকাল ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাপ তৈরির আবেদন করা হয়েছে। ভারতীয় রেলের উদ্যোগে (সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফর্মেশন সেন্টার-এর তত্ত্বাবধানে) UTS নামক অ্যাপ আছে, যেখানে খুব সহজেই ওয়ালেট ব্যালান্স ব্যবহার করে, লোকাল ট্রেনের অসংরক্ষিত টিকিট কাটা যায়। সাধারণ টিকিট থেকে প্ল্যাটফর্ম টিকিট, এমনকি সিজন টিকিটও কাটার ব্যবস্থা আছে। এটি জ়োনভিত্তিক নয়, গোটা দেশেই সচল। বহু নিত্যযাত্রী ব্যবহার করেন।

প্রণয় ঘোষ

কালনা, পূর্ব বর্ধমান