‘গঙ্গার হার্টের অসুখ, হচ্ছে দাঁতের চিকিৎসা’ (৯-১) প্রতিবেদনের সূত্রে কিছু কথা। গত তিন দশক ধরে চলছে গঙ্গার দূষণ মুক্তির নামে কমিটি, টাস্ক ফোর্স, মন্ত্রক গঠন। শুরু গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান ১৯৮৬-তে। গঙ্গার দূষণমুক্তি ও অবিরল প্রবাহের জন্য সরকারি স্তরে ব্যবস্থা করার পরিবর্তে পরিবেশ-বিরোধী কাজ হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কেবলমাত্র গঙ্গার পার্বত্য ধারায় নির্মিত বাঁধের সংখ্যা ১৬। নির্মীয়মাণ বাঁধ ১৩। অগ্রাহ্য করা হয়েছে আইআইটি, ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট-সহ মান্য সংস্থার সুপারিশ। 

‘পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার অবস্থা ভাল নয়’ প্রসঙ্গে বাস্তব চিত্র রয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল-এর কাছে, অগস্ট ২০১৮-য় কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্টে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা উলুবেড়িয়া, হাওড়া, দক্ষিণেশ্বর, বহরমপুর, শ্রীরামপুর এবং ত্রিবেণীতে যথাক্রমে ২২০০০, ২৪০০০, ২৪০০০০, ২৮০০০০, ৫০০০০, ১১০০০ (আদর্শ মাত্রা প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২৫০০-এর কম); বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড ৩.৫৫, ৩.৭৫, ৪.৪৪, ৩.৬, ১০.১, ৪.০ (আদর্শ পরিমাণ ৩ মিলিগ্রাম/লিটার-এর কম, পানীয় জলের ক্ষেত্রে ২ মিলিগ্রাম/লিটার-এর কম)। 

গঙ্গার নির্মলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কয়েকটি কাজের নমুনা জানা যাবে ৩১ অগস্ট ২০১৮ ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে। নমামি গঙ্গে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ২৩% খরচ হয়েছে, এর মধ্যে নিকাশি গঠনের জন্য ১১৪টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ২৭টি নির্মাণ হয়েছে, খরচ হয়েছে ১৯%, বনসৃজনের জন্য খরচ হয়েছে ৪৮%। আর একটি নমুনা: গঙ্গার দূষণমুক্তির জন্য নমামি গঙ্গে প্রকল্পে জল সম্পদ মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট অপর ১০টি মন্ত্রকের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু মউ স্বাক্ষরকারী সকল মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি প্রকট। ৭ অক্টোবর ২০১৬-র এক গেজ়েট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ন্যাশনাল গঙ্গা কাউন্সিল বছরে ন্যূনতম এক বার, প্রয়োজনে একাধিক বার আলোচনায় বসবে। অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত এক বারও ন্যাশনাল গঙ্গা কাউন্সিলের মিটিং হয়নি।

গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের, বাস্তবে দূষণমুক্তির জন্য সদিচ্ছা না থাকলে, গঙ্গার দশা সঙ্গিন।

নন্দগোপাল পাত্র

সটিলাপুর, পূর্ব মেদিনীপুর

বাউন্স লাইটিং

আমার ‘অপরাজিত থেকে’ (১৬-১২) শীর্ষক চিঠির উত্তরে ‘উৎস নির্দেশ’ (৮-১) চিঠি লিখেছেন প্রভাত দে। ‘অপরাজিত’ থেকেই যে সিনেমাটোগ্রাফার সুব্রত মিত্র বাউন্স লাইটিংয়ের ব্যবহার শুরু করেছিলেন, এই তথ্যের স্বপক্ষে প্রথম সূত্রটির উল্লেখ প্রভাতবাবু নিজেই করেছেন। ‘মন্তাজ’ পত্রিকায় মৃণাল সেনের নেওয়া সুব্রত মিত্রের সাক্ষাৎকারে যেখানে আবিষ্কর্তা স্বয়ং বলেছেন যে ‘অপরাজিত’ থেকেই তিনি বাউন্স লাইটিং নিয়ে কাজ করেছেন। এ ছাড়া সৌম্যেন্দু রায়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত আলোচনায় একাধিক বার উঠে এসেছে ‘অপরাজিত’ ছবিটিতে সুব্রত মিত্রের প্রথম ‘বাউন্স লাইটিং’ ব্যবহারের কথা বা অ্যারিফ্লেক্স ক্যামেরায় প্রথম আউটডোর শুটিংয়ের কথা (ভারতবর্ষে)। তা থেকেও জেনেছি। 
সত্যজিৎ রায়ের সব ক’টি ছবির প্রোডাকশন কন্ট্রোলার অনিল চৌধুরী সত্যজিৎ রায়ের প্রতিটি নির্মাণশৈলী খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ‘অপরাজিত’ ছবির নির্মাণ প্রসঙ্গে তাঁর অমূল্য স্মৃতিকথনটি (‘অপরাজিত-র কথা’) প্রকাশিত হয়েছিল ‘এক্ষণ’ পত্রিকায় (শারদীয়া: ১৩৯১) ‘অপরাজিত’-র চিত্রনাট্যের সঙ্গে সহায়ক লেখা হিসেবে। সেই লেখাটির নবম অনুচ্ছেদের (পৃ ৩৪৩) চতুর্থ প্যারায় অাছে— ‘‘এইবার আলো করবার ব্যাপারে সুব্রতবাবুর পরীক্ষা। দিনের বেলায় ঘরের ভেতর চলতে ফিরতে দেওয়ালে বা মেঝেতে কোনো ছায়া পড়বার কথা নয়। ...সুব্রতবাবু ভেবে-চিন্তে একটা নতুন পন্থা অবলম্বন করলেন। স্টুডিও-র আলো সোজা না ফেলে উল্টো দিকে সাদা কাপড়ের উপর ফেলা হল, যাতে আলো ওই কাপড়ে পড়ে প্রতিফলিত হয়। ফলে দিনের কোনো দৃশ্যেই ঘরের ভেতর ছায়ার চলাফেরা দেখা গেল না।’’ প্রভাতবাবু এবং তাঁর সহমতাবলম্বীরা একটু ‘নতুন পন্থা’ শব্দ দু’টি খেয়াল করবেন প্লিজ।

প্রভাতবাবু ‘অপুর পাঁচালি’ থেকে একটি টুকরো লাইন ‘‘... ‘অপরাজিত’তে সুব্রত-র এই প্ল্যানটা এত চমৎকার কাজ দেয়...’’ উল্লেখ করে প্রমাণ করতে চাইলেন যে সত্যজিৎ কোথাও বলেননি, ‘বাউন্স লাইটিং’-এর শুরু ‘অপরাজিত’ থেকে। এই লাইনটার আগের কয়েকটি লাইন (‘অপুর পাঁচালি’, পৃ ১১৯) একটু দেখে নেওয়া যাক— ‘‘বাঙালিটোলার এইসব বাড়ির নকশা মোটামুটি একই রকমের। ভিতরে ঢুকলে প্রথমেই পড়বে উঠোন, আর সেই উঠোন ঘিরে সার সার ঘর। উঠোনের উপর খোলা আকাশ। আলো যেটুকু পাবার তা ওই আকাশ থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। এই যে ছায়াহীন আলো, স্টুডিয়োর সেটের মধ্যে এর আভাস চাই। তার জন্য সুব্রত ঠিক করে যে, স্টুডিয়োতে বংশী যে নকল বাড়ি বানাবে, তার উঠোনে লাগাবে একটা চাদর, যাতে আলোটা সেই চাদরে প্রতিফলিত হয়ে উঠোনে এসে পড়ে। তার এই প্ল্যানটা...।’’ সত্যজিৎ কিন্তু এক বারও লিখলেন না যে এই ‘প্ল্যান’টি ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের সময়েও কাজে লাগিয়েছিলেন। ওই বইটিতেই ‘পথের পাঁচালী’ ছবি নির্মাণের স্মৃতিকথাতেও সত্যজিৎ কোথাও এই ‘প্ল্যান’ কাজে লাগানোর কথা এক বারের জন্যেও আমাদের জানাননি। অর্থাৎ ‘পথের পাঁচালী’তে বাউন্স লাইটিংয়ের ব্যবহার হয়নি।
কাজেই ঘটনার বহু দিন বাদে (১৯৮৫/১৯৮৯) দেওয়া কোনও ইন্টারভিউতে যদি সত্যজিৎ কোনও স্মৃতিবিভ্রম ঘটিয়েও থাকেন, তার জন্যে কিন্তু বাস্তবটা পাল্টে যায় না।

সোমনাথ রায়
কলকাতা-১৫

বন্ধ হয়ে যেত

‘শোকের হাত ধরেই ফিরল সিঙ্গুর বিতর্ক’ (২৮-১২) পড়লাম। প্রয়াত প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিধানসভায় ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর) বলেছেন, ‘‘সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানা না হওয়ার ঘোষণার ১০ বছর পরে দাঁড়িয়ে গোটা বাংলাই এখন অনুভব করছে, তার ফলে রাজ্যের কী ক্ষতি হয়েছে।’’ সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির প্রস্তাবিত কারখানা শেষে গুজরাতের সানন্দে স্থানান্তরিত হয়, কারণ কোনও অশান্তি ছাড়াই গুজরাত সরকার কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত টাটা শিল্পগোষ্ঠীর হাতে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, কারণ ন্যানো গাড়ি সারা দেশে বাজার পায়নি। সুতরাং সিঙ্গুরে যদি ন্যানোর কারখানা চালুও হত, ভবিষ্যতে তা বন্ধই হয়ে যেত। ফলে বাংলার অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হত। বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়তেন। মানুষকে ঠিক ভাবে না বুঝিয়ে, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা না করে, গায়ের জোরে জমি অধিগ্রহণ করে বামফ্রন্ট সরকারই ন্যানো গাড়ির কারখানা স্থাপনে নানা প্রতিবন্ধকতা, অশান্তির সৃষ্টি করেছিল। নিজেদের দোষটা বামপন্থীরা কোনও সময়ে দেখতে পান না, এটাই সমস্যা।

সমর দাস
চুঁচুড়া, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

• ‘এশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা’ (রবিবাসরীয়, ২০-১) নিবন্ধে ২০০৬ সালে মারা যাওয়া কচ্ছপটির নাম ‘আদিত্য’ লেখা হয়েছে। আসলে তা হবে ‘অদ্বৈত’। 
• ‘নিজের মুখোমুখি’-তে (সম্পাদকীয়, ২১-১) লেখা হয়েছে, ব্রেক্সিট-এর জন্য প্রয়োজনীয় ‘ডিল’ ৩১ মার্চের মধ্যে আইনসভায় পাশ করা দরকার। আসলে ওই তারিখটি হবে ২৯ মার্চ।  
অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।