১ নং, না ৫৩ নং?

হাতে পেলাম পূর্বা প্রকাশন সংস্থা থেকে প্রকাশিত শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত/ ‘‘বর্ণপরিচয়’’/ বিলুপ্ত প্রথম ও শেষ সংস্করণের দুর্লভ পাঠ উদ্ধার/ অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য সম্পাদিত। মূল্য—১৫০ টাকা। 

পড়ে ফেললুম প্রথম থেকে শেষ পাতা, খুব ভাল ভাবে খুঁটিয়ে পড়লুম ‘বর্তমান সংস্করণের বিজ্ঞাপন’ এবং ‘বর্তমান সংস্করণের নিবেদন’ অংশখানি। সে অংশের নাটকীয় উপস্থাপনা: ‘‘কথাটা শুনে পাঠক মাত্রেই অবাক হবেন! বর্ণপরিচয়-এর ‘প্রথম সংস্করণ’! হ্যাঁ, কথাটা সত্য।...যে-বইয়ের দুর্লভ প্রথম সংস্করণ বিদ্যাসাগর-গবেষক, ঊনবিংশ শতাব্দীর গবেষক, অথবা কোন রবীন্দ্র-গবেষক সন্ধান পেলেন না— সেই বইয়ের বিলুপ্ত প্রথম সংস্করণের পাঠ খুঁজে পাওয়া গেল!’’—এই অবধি পড়েও মনে আশা জেগেছিল।

তার পর এ কথা-সে কথা, নানা আলোচনা শেষে জানা গেল, অনেক কাল আগেই বিনয়ভূষণ রায়, ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ভাগের যে ৫৩তম সংস্করণটির সন্ধান দিয়েছেন, সেটিকে ‘বর্তমান সংস্করণের নিবেদন’ অংশে সম্পাদক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য ‘প্রথম সংস্করণ’ বলে দাবি করেছেন। প্রথমত, ৫৩তম সংস্করণের পাঠটিকে যদি প্রথম সংস্করণের পাঠ মেনে নিই, তা হলে তাকে ‘দুর্লভ’ আখ্যা দেওয়ার কী অর্থ?

‘ত্রিপঞ্চাশ সংস্করণ’ তো ‘বর্ণপরিচয়’ তথা বিদ্যাসাগর-অনুরাগী সাধারণ পাঠকের কাছেই আছে। বিনয়ভূষণ রায়ের, বিদ্যাসাগর এবং বর্ণপরিচয় বিষয়ক আলোচনায় বারে বারে ছাপা হয়েছে, ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ভাগের ৫৩তম সংস্করণের মলাট পাতা বা বর্ণপরিচয়ের পাতাগুলি। তার পর যখন ২০০৯ সালে বইটির ফ্যাকসিমিলি সংস্করণ প্রকাশ করে বেঙ্গল শেল্টার, তখন ‘বিনিময় মূল্য এক টাকা’, যথেষ্ট সুলভ। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে তা কী করে দুর্লভ হয়! 

এ বার আসি ‘বর্ণপরিচয়’-এর পুরনো সংস্করণ প্রসঙ্গে। আগ্রহী পাঠকমাত্রেই জানেন, ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে, ড. আশিস খাস্তগিরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘বাংলা প্রাইমার সংগ্রহ’ (১৮১৬-১৮৫৫)। এতে সঙ্কলিত হয়েছে ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ভাগের একাদশ সংস্করণ এবং দ্বিতীয় ভাগের অষ্টম সংস্করণ, উভয়ের প্রকাশকাল ১৮৫৮। আশ্চর্যজনক ভাবে অমিত্রসূদনবাবু এই ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ভাগের একাদশ সংস্করণ বিষয়ে নীরব। কেন কে জানে? আর এটা তো প্রায় অসম্ভব যে ‘বাংলা প্রাইমার সংগ্রহ’ গ্রন্থটি তিনি দেখেননি।

৫৩তম সংস্করণকে প্রথম সংস্করণ প্রতিপন্ন করার জন্য, তিনি ২০১৬ সালের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘বিদ্যাসাগর রচনা সমগ্র প্রথম খণ্ড প্রথম ভাগ’ গ্ৰন্থের ‘বর্ণপরিচয়’-এর গ্রন্থপরিচয় অংশের বক্তব্যটিকে সাক্ষ্য হিসেবে মেনেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘বিদ্যাসাগরের জীবিতকালে প্রকাশিত বর্ণপরিচয় প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগের কোনো সংস্করণ আজ অলভ্য।’’ এর পরেই সম্পাদক মহাশয় লিখছেন, ‘‘বলে রাখা ভালো, বিদ্যাসাগরের জীবৎকালেই কিছু জাল বর্ণপরিচয় ছাপা হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবৎকালেও তাই। আমাদের গবেষণা জাল-জালিয়াতিদের নিয়ে নয়।’’ তা হলে কি ‘বাংলা প্রাইমার সংগ্রহ’ গ্রন্থে সঙ্কলিত ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ভাগের একাদশ ও দ্বিতীয় ভাগের অষ্টম সংস্করণটি দেখে তিনি ঠিক চিনতে পেরেছেন এবং তা ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি? তা হলেও তো সেই বিষয়ের অবতারণা জরুরি ছিল।

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির মতো প্রকাশন সংস্থা এত বড় ভুল করেছে? আকাদেমির তৎকালীন সচিব সনৎকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য: ‘‘লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরি থেকে আনা হয় বর্ণপরিচয়-এর ফটোকপি যা এ দেশে এতাবৎকাল দুষ্প্রাপ্য ছিল। এই কাজে বিশেষ ভাবে আমাদের সহায়তা করেছেন আকাদেমির সভাপতি শ্রীনীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।’’

‘বাংলা প্রাইমার সংগ্রহ’ বইটি ২০০৬ থেকে নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছি, বর্ণপরিচয়ের এ যাবৎ পাওয়া প্রাচীন সংস্করণ জ্ঞানে এই গ্রন্থে সঙ্কলিত একাদশ ও অষ্টম সংস্করণকে মেনে এসেছি। এখন কোনটিকে মান্য করব? ৫৩তম সংস্করণকে প্রথম সংস্করণ মানলে একাদশ সংস্করণটির কী হবে? আর একাদশ সংস্করণটিকে মান্যতা দিলে, ৫৩তম সংস্করণ কিছুতেই প্রথম সংস্করণ হতে পারে না। যদিও ‘বিজ্ঞাপন’ থেকে ‘নিবেদন’ এবং বই-মলাটের চতুর্থ পৃষ্ঠায় সম্পাদক থেকে প্রকাশকের দাবি, ‘‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগের প্রথম সংস্করণ ও বিদ্যাসাগর কর্তৃক সংশোধিত জীবনের শেষ সংস্করণের দুর্লভ পাঠ এই প্রথম আবিষ্কৃত ও পুনর্মুদ্রিত।’’

যদিও ‘প্রথম সংস্করণ’ এবং ‘প্রথম সংস্করণের পাঠ’ বিষয় দু’টি ভিন্ন, দ্বিতীয়টির অর্থ পুনর্মুদ্রণ। অস্পষ্টতা এখানেও, যদিও সম্পাদক স্পষ্টতই জানেন, ত্রিপঞ্চাশ সংস্করণ প্রথম সংস্করণ নয়, খুব জোর সেটা প্রথম সংস্করণের ৫৩তম পুনর্মুদ্রণ। এখন একাদশ সংস্করণকে (১৮৫৮) যথার্থ যুক্তি দিয়ে সম্পাদক বা অন্য কেউ যদি ‘জাল বর্ণপরিচয়’ প্রমাণ করেও দেন, তা হলেও বিজ্ঞাপনে সাড়া জাগানো ‘প্রথম সংস্করণ’ অভিধাটি এই ৫৩তম সংস্করণের প্রাপ্য নয়।

এই ভ্রান্তির নিরসন হোক। এটি বিদ্যাসাগরের পরিভাষায় ‘ত্রিপঞ্চাশ সংস্করণ’, শ্রীযুক্তবিনয়ভূষণ রায়ের সৌজন্যে প্রাপ্ত।

আবীর কর

রঘুনাথপুর, ঝাড়গ্রাম

বৃত্তি পেলাম না

আমি ২০১৫ সালে মাধ্যমিক, ২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বর্তমানে হুগলি জেলার সিঙ্গুর মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের (বি এসসি অনার্স, গণিত) ছাত্র। ২০১৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছ’টি লেটার ও স্টার-সহ ৬১০ নম্বর পেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যের বিষয়, মাধ্যমিকে ৮৭.১% নম্বর পেয়েও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ পাইনি। উল্লেখ্য, মাধ্যমিকে ৭৫% বা তার বেশি পেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সামান্য পারিবারিক আয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিবেকানন্দ স্কলারশিপ দেওয়া হয়।

সমস্ত পদ্ধতি মেনে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস স্কলারশিপের (২০১৫) ফর্ম ভরেছিলাম। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অন্যরা স্কলারশিপ পেলেও, আমি না-পাওয়ায়, বিকাশ ভবনে যোগাযোগ করি। শিক্ষা দফতরের কর্মীরা বললেন, আপনার দুর্ভাগ্য, যোগ্যতা আছে, কিন্তু কম্পিউটারে আপনার নাম নেই। আবার কিছু দিন পরে গেলে তাঁরা বললেন, আমি যে হেতু এনএমএস স্কলারশিপ (ন্যাশনাল মিনস-কাম-মেরিট স্কলারশিপ ফর ক্লাস এইট) পেয়েছি, তাই আমাকে বিবেকানন্দ স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে না। 

এনএমএস স্কলারশিপ কেন্দ্রীয় সরকারের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি। আমি রাজ্যের প্রকৃত নাগরিক হয়েও, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমিক স্কলারশিপ কেন পাব না? 

আমার বাবা অতি সাধারণ কৃষক। সামান্য জমি (এক বিঘেরও কম) ও ১০০ দিনের কাজের উপর নির্ভরশীল। তাঁর পক্ষে এখন 

আমার লেখাপড়া চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

সৌভিক রায়

দশঘরা, হুগলি 

নোবেল পাননি

অমর্ত্য সেনকে বহু লেখায় ‘নোবেলজয়ী’ বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি কিন্তু নোবেলজয়ী নন। আলফ্রেড নোবেল-এর উইলে পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কার দেওয়ার কথা আছে: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য, বিশ্বশান্তি। ১৯০১ সাল থেকে তদনুসারে পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছিল। ১৯৬৮ সালে, ব্যাঙ্ক অব সুইডেন-এর ত্রিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন হল। তাদের দেওয়া অর্থে, তাদেরই প্রস্তাবানুসারে, নোবেল পুরস্কারের সমান মূল্যের একটি পুরস্কার ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে দেওয়া শুরু হল, যার নাম ‘ব্যাঙ্ক অব সুইডেন প্রাইজ় ইন ইকনমিক সায়েন্স ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল’, সংক্ষেপে ‘BOSPESMAN’। অমর্ত্য পেয়েছেন ওই ‘BOSPESMAN’, নোবেল পুরস্কার নয়।

অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস 

পোর্ট ব্লেয়ার, দক্ষিণ আন্দামান