কথিত আছে, যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে ধর্মরাজ কুকুর রূপে স্বর্গের দুর্গম রাস্তায় সঙ্গ দিয়েছিলেন। কলি যুগে মানুষের সব থেকে কাছের চতুষ্পদটিও কুকুর। গৃহপালিত ছাড়াও স্ট্রিট ডগ কম উপকারী নয়। তবে বর্তমানে আমরা বেশ ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছি। 

সম্প্রতি দু’বার আঁতকে ওঠার মতো পরিস্থিতির স্বীকার হই। ভিন্ন দুই জায়গা থেকে মাংস কিনে আনার সময় রাস্তার কুকুরে তা কেড়ে নিয়ে চলে যায়। ভিন্ন স্থানে, ভিন্ন সময়ে, কিন্তু একই কায়দায় ছিনতাই প্রশ্ন তুলে দেয়। এরা এতটা মরিয়া হয়ে খাবার ছিনতাই করছে, যেন রীতিমতো প্রশিক্ষিত! হাওড়ার অনেক বাসিন্দাই ওই রকম ঘটনার সাক্ষী। ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে যাওয়া ভীষণই আতঙ্কের। কাছাকছি যাওয়ার আগেই ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সমস্ত ময়লা মুখে করে এনে রাস্তাময় ছড়িয়ে নোংরা করে।

এ তো গেল এক দিক। রাস্তায় অলিগলি সর্বত্র কুকুরের মল। দশ পা ফেললে ওই মলে পা পড়বেই। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে দিকেই যাওয়া যাক, নরক দর্শনে শরীরে চরম অস্বস্তি ও ঘৃণার সঞ্চার করে। আমরা ছোটবেলায় যে রাস্তাতে খেলাধুলা করেছি, এখন সেই রাস্তায় বাচ্চাদের হাঁটতে দিতে পারি না। 

অসংখ্য কুকুর, তাদের চিৎকারে রাত্রে ঘুমানোই দায়। বাঁচার অধিকার সবার আছে, তাই মেরে ফেলাটা কাম্য নয়। তবু যদি সরকার বাহাদুর বুদ্ধির সঙ্গে এদের জন্য বিকল্প কিছু করেন তো বিশেষ সামজিক কল্যাণ হয়।

তুহিন কুমার যশ

সালকিয়া, হাওড়া

 

বরং অভয়ারণ্য

কতকগুলো কুকুরছানার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির তথাকথিত পশুপ্রেমী এবং মিডিয়া রাজ্য জুড়ে যে রকম হল্লা পাকিয়েছে এবং দু’জন নার্সিং ছাত্রীকে দায়ী করে তাঁদের প্রায় গণশত্রুতে পরিণত করার উপক্রম করেছে, তাতে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয়। 

যে কোনও পশুপাখিকেই অকারণে মেরে ফেলা অনুচিত। কিন্তু এ কথাও ভুললে চলবে না যে, মুষ্টিমেয় কুকুরপ্রেমীকে বাদ দিলে, রাস্তার কুকুর নাগরিক-জীবনে একটা উপদ্রব ছাড়া কিছুই নয়। এরা চট করে কামড়ায় না ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কখন কাকে কামড়ে দেবে তার কোনওই নিশ্চয়তা নেই। কুকুর কামড়ালে যে হেতু প্রচণ্ড যন্ত্রণা, এমনকি প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা থেকে যায়, তাই কুকুরপ্রেমী ছাড়া বাকি সব মানুষই কমবেশি কুকুরকে ভয় করেই চলেন। গভীর রাতে পথে বেরিয়ে এমনকি নিজের পাড়ার কুকুরের কাছেও দাঁতখিঁচুনি আর ধমক খাননি, এমন মানুষ বোধ হয় বিশেষ পাওয়া যাবে না। এমনই একটি ঘটনায় রাত্রিবেলা বাড়ি ফিরতে গিয়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে সম্প্রতি এক জন লরি চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন, সে খবর কাগজেই বেরিয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার কুকুর যে হেতু আঁস্তাকুড়, খোলা ড্রেন-সহ যত্রতত্র মুখ দেয় এবং বিচরণ করে, সেই জন্য স্বাভাবিক ভাবেই তারা কামড়ালে জলাতঙ্ক ছাড়াও, এদের সংস্পর্শে এলেই নানান রকম অসুখ হওয়ার ভয় থাকে। 

এমতাবস্থায় কুকুরভীত জনসাধারণের তরফে পথকুকুরপ্রেমী এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন— পথকুকুর এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের জন্য রাজারহাট নিউটাউনে একটি অভয়ারণ্য খোলা হোক। কুকুরপ্রেমীরা সেই তহবিলে মুক্তহস্তে দান করুন। সেখানে পিকনিক করতে গিয়ে কুকুরপ্রেমীরা ভুক্তাবশেষ কুকুরদের খাইয়ে পরমানন্দ লাভ করতেও পারবেন।

এই ভাবে পথঘাট, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, বাজারহাট স্কুলকলেজ প্রভৃতি জায়গা কুকুরমুক্ত হলে, সমাজে কুকুরপ্রেমী এবং কুকুরবিদ্বেষী এই দুই পরস্পরবিরোধী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ স্থাপনের পথও সুগম হবে, রাজ্য সরকারের মুকুটে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি নতুন পালকও যুক্ত হবে। 

পার্থ ভট্টাচার্য

ভাটপাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

 

পাখিরা

গড়িয়াহাট মোড়ে বহুতল বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পাখিদের মৃত্যু ঘটে। মানুষের শখ মেটাতে গিয়ে পাখিদের মৃত্যু হয়। পাখিদের মুক্ত জীবনে হস্তক্ষেপ করে খাঁচায় বন্দি করা কাম্য নয়। মানুষ সচেতন হলে এই ভাবে পাখিদের মৃত্যু হত না।

রীতা সেনগুপ্ত

কলকাতা-৭০

 

সমাপতন

‘কুকুর, বেড়াল ও আমরা’ (১৮-১)-র সঙ্গে ওই একই দিনে প্রকাশিত দু’টি খবরের অদ্ভুত মিল খুঁজে পেলাম। নিবন্ধটিতে লেখা হয়েছে, ‘‘রাত সাড়ে দশটা-এগারোটায় বাড়ি ফিরি যখন, তখন পিছন থেকে হঠাৎ তিন-চারটে বখাটে কুকুর আমায় তাড়া করলে আমার মেনকা গাঁধীর কথা মনে হয় না। নিজেকে বাঁচানোর কথা মনে হয়। ছুটতে হয়।’’

আর ঠিক এই ঘটনাই প্রতিফলিত ‘কুকুর তাড়া করায় দুর্ঘটনা, মৃত পথচারী’ প্রতিবেদনে। আর তার পাশেই ‘উদ্বিগ্ন মেয়র’ শিরোনামে খবর: ‘শহরে পথ-কুকুরের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বিগ্ন পুর প্রশাসন’।

একই দিনের কাগজে খবরের এ এক অদ্ভুত সমাপতন।

গৌতম মুখোপাধ্যায়

খড়দহ

 

অপরাধ?

‘কুকুর, বেড়াল ও আমরা’ (১৭-১) প্রবন্ধটি পড়ে আমার বিড়ম্বনা জানানোর অল্প সাহস পেলাম। পশুহত্যা অবশ্যই দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু কারও পশুপ্রীতি যদি আমার শান্তি বিঘ্নিত করে, তার কী বিহিত হবে? আমার পাড়ায় অনেকেই কুকুর ও বিড়ালপ্রেমী। রাত এগারোটায় তাঁরা বালতি, হাতা ও বাটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন খাদ্য বিতরণ করার জন্য। বিভিন্ন সুরে, ভিন্ন ভিন্ন নামে তাঁরা রাস্তার কুকুর ও বিড়ালদের ডাকেন, না খেলে আদরের সুরে (আমার নিন্দেকুটে কানে তা চিৎকার) ধমকান। মানুষ ও পশুগুলির চিৎকারে আমার ঘুমের যে বারোটা বাজে সে বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমি নিশ্চয়ই অপরাধী হব। বিড়ালের নখের আঁচড়ে আমার গ্যারাজে রাখা গাড়ির ওপর নকশা কাটা হয়, মৃত বিড়াল আমাদের ফ্ল্যাটের পাঁচিলের ভিতর ফেলে দেওয়া হয়, গেটের সামনে পাঁচ-ছয়টা বিড়াল পাহারা দিয়ে থাকে, তাড়া দিলে আঁচড়ে দিতে আসে এবং দেয়, অ্যাপার্টমেন্টের ভিতরে তাদের বিষ্ঠার দুর্গন্ধ আমার ভাল না লাগলেও, জমাদারকে দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে পরিষ্কার করাতে হয়— এ সব বললে সমাজ কি আমায় মেনে নেবে? ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ এই বাণী যাঁদের চেতনাকে বিকশিত করেছে, তাদের সবিনয়ে একটা কথাই বলতে চাই, আপনার প্রতিবেশীরাও কিন্তু জীব, তাই তাঁদের যন্ত্রণা বোঝাটাও আপনার সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। 

তন্দ্রিমা চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৭৮

 

এত হিংস্র?

এনআরএস-এ ষোলোটি কুকুরছানাকে হত্যার খবরে স্তম্ভিত হলাম। ঘটনার আরও কিছু বুঝি বাকি ছিল, ষোলোকলা পূর্ণ হল এই হত্যার প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশ্য সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়া ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে অগণিত মানুষের মত দানে। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছিল, এমন শারীরিক ও মানসিক হিংসাও সম্ভব? আমাদের সমাজ এতটাই হিংস্র হয়ে উঠেছে? হাসপাতাল চত্বরে বা পাড়ায় কুকুর-বেড়ালের দৌরাত্ম্যের উদাহরণ দেখিয়ে যাঁরা এই হত্যা সমর্থন করছেন, তাঁরা ধরতেই পারছেন না, এই ঘটনার মূলে বলবানের কদর্য ক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শন। শক্তিমান মানুষের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না, অতএব পিটিয়ে থেঁতলে মারো। যেমন দুর্বল ইহুদিদের মারা হত নাৎসি জার্মানিতে, ভারতে বন্দি বিপ্লবীদের মারত ব্রিটিশ। ‘বেশ করেছে’পন্থীরা কি ওই ঘাতকদেরও সমর্থন করবেন? 

গুরুপদ প্রধান 

কলকাতা-১০৩