ঔদ্ধত্য কারও 

‘ঔদ্ধত্য খর্ব করবই, মমতা’ (১৫-৫) শীর্ষক খবরের প্রেক্ষিতে, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েও বলি, ঔদ্ধত্য কারও কম নয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে উপযুক্ত প্রমাণ ব্যতীত তাঁকে ‘চোর’ আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্রের যে থাপ্পড় দেওয়ার কথা বলেছেন, সেই বলার ভঙ্গি মোটেই গণতান্ত্রিক ছিল না। কয়লা মাফিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রমাণ না দিতে পারলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কান ধরে একশো বার ওঠবোস করাবেন। স্কুলের বাচ্চাদেরই এখন এমন কথা বলা যায় না, তাতে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক আঘাত পেয়েছে এই অভিযোগে মামলা রুজু হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দোষ করলে বিচারব্যবস্থা তার শাস্তি দেবে। ব্যক্তিগত ভাবে যিনি যত বড় ক্ষমতাবান হোন না কেন, নিজে কারও শাস্তি দিতে পারেন না। মমতা কেবলমাত্র বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি সমস্ত বাঙালির দিদি। দিদি যদি এমন উত্তেজিত হয়ে পড়েন তা হলে তাঁর ভাইবোনেরা তো আরও বেশি উত্তেজিত হবে। তাতে প্রকারান্তরে পদ্মশিবিরের উদ্দেশ্যই পূর্ণ হবে। পদ্মশিবির তো চাইছে বাংলায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতে। তাদের ঔদ্ধত্য খর্ব করার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘‘ওরা বাংলার হেরিটেজ, বাংলার মনীষীর গায়ে হাত দিয়েছে। আমার থেকে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না।’’ ‘আমার থেকে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না’, এই কথার মধ্যেই কি কম ঔদ্ধত্য আছে?
নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ
 
দুই ক্ষেত্রেই
‘বিদ্বেষের বর্ণপরিচয়’ (১৬-৫) শীর্ষক সম্পাদকীয়তে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার বিরুদ্ধে যে শাণিত কলমে বিজেপির অশিক্ষা, গোঁড়ামির সমালোচনা করা হয়েছে, তা যথার্থ। কিন্তু হোঁচট খেলাম শেষ অনুচ্ছেদে এসে। প্রধানমন্ত্রীর ক্রমাগত অশিক্ষিত উক্তি প্রসঙ্গে আক্ষেপ করে বলা হয়েছে, শিক্ষিত সমাজ এই অশিক্ষিত উক্তির কোনও প্রতিরোধ করেনি, বড়জোর রসিকতা করেছে। হ্যাঁ, এই কথার সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু আশ্চর্য হ‌ই, যখন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যিনি এক বছরে বি এ, 
বি এড, এল‌এলবি পড়েছেন, অর্থাৎ তিনি শিক্ষকতার‌ও যোগ্য, শুধু তা-ই নয় বাংলা, উর্দু, অলচিকিতে ব‌ই লেখেন, যা এ বছর তিন সংখ্যার ‍হবে বলেছেন— তিনি যখন ভুলভাল বলেন এবং উচ্চারণ করেন, তখন আপনাদের এই ক্রোধ কোথায় থাকে? ওঁর ভুল ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক টুইট করলে আপনারা কুপিত হয়ে ‘ছি!’ শিরোনামে সূর্যবাবুকে তুলোধোনা করে সম্পাদকীয় লেখেন। কমিউনিস্টদের অশালীন মন্তব্য ডিএনএ-জাত বলতেও বাধে না। এই দ্বিচারিতা কেন? অশিক্ষিত উক্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী দু’জনেই সমান দড়, তাই প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ দু’ক্ষেত্রেই করা উচিত নয় কি?
প্রসূন পালিত
দুর্গাপুর
 
বিকল্প
এ বারের ভোটে, ভোট দেওয়ার পর ভোটারদের তর্জনীর ডগায় ‘অমোচনীয় কালি’ লাগিয়ে দেওয়ার কাজটি করছেন দ্বিতীয় পোলিং অফিসার। দিনের শেষে তিনি দেখেন, তাঁর নিজের হাতটাই কালিমালিপ্ত। এই কালির দাগ ১৫-২০ দিন পর চামড়া-সহ উঠে যায়। কালিমার এই অভিজ্ঞতা প্রতিটি নির্বাচনের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং অফিসারের আছে। এ বারের নির্বাচনে ৯০ কোটি ভোটারের আঙুলে কালি লাগানোর জন্য ২৬ লক্ষ ভোটের কালির বোতল কিনতে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। আর কিছু ব্যয় করে পোলিং অফিসারদের যাতে ‘কালিমালিপ্ত’ হতে না হয়, সে জন্য বিকল্প কিছু ভাবা যায় না? 
নন্দগোপাল পাত্র
সটিলাপুর, পূর্ব মেদিনীপুর
 
উত্তেজনা
প্রায়ই দেখি বাংলা টিভি চ্যানেলগুলো যখন কোনও হাঙ্গামা বা ঝামেলার খবর লাইভ পরিবেশন করে, প্রতিবেদকও অত্যন্ত উত্তেজিত হয়েই খবরটা বলেন। তাতে শ্রোতারাও অনেকেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এটা কি উচিত? কিন্তু হিন্দি বা ইংরেজি চ্যানেলে, হাঙ্গামার খবর দেওয়া হয় অত্যন্ত শান্ত ভাবে, পরিশীলিত উদ্বেগ নিয়ে। 
অরিত্র মুখোপাধ্যায়
চাতরা, হুগলি
 
এক দিনেই
পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে ভোটের শতাংশ বেশি এবং সামাজিক উত্তেজনাও বেশি, সেখানে হয়তো এক দিনে ভোট হলে হিংসা কম হবে, সামাজিক পরিবেশ শান্ত থাকবে। যদি এক দিনের মধ্যে গুজরাত (২৬টা আসন), অন্ধ্রপ্রদেশ (২৫টা আসন), কেরল (২০টা আসন) এবং তামিলনাড়ু-র (৩৮টা আসন, ভেলোর নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে) মতো রাজ্যে ভোট পরিচালনা করা যায়, কেন পশ্চিমবঙ্গে করা যাবে না? 
পিনাকী রায়
ঝরিয়া, ঝাড়খণ্ড
 
এই গরমে
এখন তো বাতানুকূল হল অনেক হয়েছে। ডিসিআরসি-গুলো ওখানে কেন করা হয় না! আসল কষ্ট তো ওখানেই। তা ছাড়া এখন অনেক সভাস্থলে এয়ারকন্ডিশনার লাগানো হয়। এখানে কেন ব্যত্যয় হবে? ইলেকশন কমিশন যদি নির্বাচনকর্মীদের কম টাকা দিয়ে, তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে লক্ষ দিত, তা হলে অনেক কর্মী অসুস্থতার হাত থেকে রেহাই পেতেন। এ বছর গোটা দেশ জুড়ে নির্বাচন পর্বে প্রায় ২৫০ লোকের মৃত্যু হয়েছে, কয়েক হাজার লোক অসুস্থ হয়েছেন। তাতেও নির্বাচন কমিশনের টনক নড়েনি। 
কৌশিক সরকার
রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া
 
গণতন্ত্রের ফর্মা
ভারতে গণতন্ত্র প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেশের সংবিধানকে ভ্রুকুটি করতে দ্বিধা করে না। দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়কে অসহায়ের মতো মেনে নিতে হয় ৩৭% আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদের। প্রকাশ্য রাজপথে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাকে নেতারা উপহাসের সুরে বলতে পারেন, ‘‘গ্রামে অস্ত্র শান দেওয়ার জায়গা নেই তো, তাই বোলপুরে নিয়ে এসেছে।’’ তবু বলব, আমাদের গণতন্ত্র সুরক্ষিত?
যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করাকে আমরা গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ বলে মনে করি, সেই বাহিনী যদি বুথের ৪০ মিটারের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখে ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়, আর সাফাই গায়, ‘‘আমাদের কাজ স্রেফ ইভিএম বাঁচানো’’, আমাদের গণতন্ত্র সুরক্ষিত?
ভোটের ফলকে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায় বলে মাথা পেতে নিই। একটা নির্বাচন ক্ষেত্রকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, সেখানকার ১৮ বছরের বেশি মানুষের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯৭ জন ভোটার-তালিকায় নাম তোলেন, বাকিরা শারীরিক বা অন্য কোনও কারণে তোলেন না। ৯৭ জনের মধ্যে হয়তো ৭০ জন ভোট দেন। ৭০টি ভোট চার থেকে পাঁচ জন প্রার্থী পান, ধরা যাক বিজয়ী প্রার্থী ৩০টি, দ্বিতীয় স্থানাধিকারী প্রার্থী ২০টি, তৃতীয় স্থান দখলকারী প্রার্থী ১০টি, অন্য প্রার্থীরা ১০টি ভোট পেলেন।
তার মানে, ১০০ জন মানুষ, যাঁদের হাতে প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব, তাঁদের মাত্র ৩০ জনের সমর্থনে যিনি নির্বাচিত হলেন, তাঁকে ৭০ জন লোক চান না। অথচ তিনিই হলেন সকলের ‘ভাগ্যবিধাতা’। তা হলে এ দেশের গণতন্ত্র কেমন হবে?
গৌতম কুমার কয়াল
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
 
ছোট্ট কথা
বিনাযুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী/ ২৩-এই হেস্তনেস্ত, সব শেষ সে-দিনই।