আলোচনা, তর্ক আর খাবারে উৎসবের স্বাদ

জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের লন্ডন সংস্করণ হয়ে গেল ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে। শুরুর সন্ধেয় ছিলেন ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজ়িয়ামের প্রধান ট্রিস্টাম হান্ট ও ভারতের সাংসদ লেখক শশী তারুর। আলোচনার বিষয় ছিল ‘সাম্রাজ্য ও নগর’। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কড়া সমালোচক তারুরের মতে, এক লুটিয়েনের দিল্লি ছাড়া সংরক্ষণ করার মতো ব্রিটিশ কৃতকর্ম আর কিছু নেই। তবে রাস্তা ও স্থান-নাম পাল্টানোর পক্ষে নন তিনি, থাকুক না কার্জ়ন রোড বা কনট প্লেস, কস্তুরবা গাঁধী মার্গ বা রাজীব গাঁধী প্লেস না হলে ক্ষতি কী! শুধু একটা রাস্তার নাম পাল্টাতে চাইলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কেন ‘রেসকোর্স রোড’-এ থাকবেন! শশীকে জিজ্ঞেস করা হল লন্ডনের কোনও মিউজ়িয়াম থেকে মাত্র একটা জিনিস নিতে দিলে কী নেবেন, হান্টকেও বলা হল: মোটে একটা জিনিস রাখতে হলে কী রাখবেন! শশী বললেন, ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজ়িয়ামে রাখা টিপু সুলতানের কাঠের বাঘটা নেবেন। হান্ট কোনও কিছু ফেরাতে আগ্রহী নন, বরং বললেন, যে কোনও জিনিসের ইতিহাস বুঝিয়ে দেওয়াটা ঢের জরুরি। বাংলার নবজাগরণ ও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আলোচনা করলেন ইতিহাসবিদ রেবা সোম ও লেখক বাসবী ফ্রেজ়ার। কথা হল রবীন্দ্রনাথের আধুনিকতা, আন্তর্জাতিকতা, গভীর মানবতাবোধ-সহ বহু বিষয় নিয়ে। কিংস ক্রসে আগা খান সেন্টারে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হল এ বারের উৎসব।

সারস্বত: রেবা সোম ও বাসবী ফ্রেজ়ার। লন্ডনে জয়পুর সাহিত্য উৎসবের অনুষ্ঠানে

 

বিতর্কিত 

টোরি শীর্ষ নেতৃত্বে কে, জল্পনা জমে উঠেছে। প্রার্থীরা সবাই একাধিক বার অংশ নিয়েছেন টিভি বিতর্কে। ‘টোরি পার্টিতে ইসলামভীতি’ প্রসঙ্গে বরিস জনসন— যিনি একদা হিজাব-পরা মুসলমান মেয়েদের ‘চিঠির বাক্স’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন— প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন, বরং নিজের সহনশীলতা বোঝাতে নিজের মুসলমান শেকড় নিয়ে বলেছেন অনেক কিছু। তাঁর প্রপিতামহ আলি কামাল জন্মেছিলেন ১৮৬৭-র কনস্ট্যান্টিনোপল-এ (এখন ইস্তানবুল)। তিনি ছিলেন একাধারে অটোমান সাংবাদিক, সম্পাদক, কবি ও রাজনীতিক। ১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে চলে আসেন, পরে লন্ডনে বিয়ে করেন উইনিফ্রেড ব্রান নামের এক অ্যাংলো-সুইস মেয়েকে। তাঁদেরই উত্তরসূরি বরিস। ও-দিকে হোম সেক্রেটারি এবং ক্যাবিনেটের একমাত্র মুসলমান সদস্য সাজিদ জাভিদই যে বাকিংহাম প্যালেসে ট্রাম্পের সৌজন্যে দেওয়া স্টেট ব্যাঙ্কোয়েটে একমাত্র অনিমন্ত্রিত মন্ত্রী, তা খোলাখুলি স্বীকার করছেন না কেউ। ট্রাম্পের মুসলমান-বিরোধী মন্তব্যই নাকি সাজিদের নেমন্তন্ন না-পাওয়ার কারণ। অবাক ব্যাপার, জাভিদকে সমর্থন জানিয়েছেন একমাত্র লন্ডনের মেয়র সাদিক খান, যিনি কিনা লেবার পার্টির সদস্য! ট্রাম্পের মুসলমান-বিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে ব্যাঙ্কোয়েটে যাননি সাদিক। 

 

নন্দিত

ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতীয় দল এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। ভক্তেরা স্বভাবতই খুব খুশি। নজর কাড়ছেন ধারাভাষ্যকাররাও, স্কাই স্পোর্টস-এ দেখা যাচ্ছে ব্রিটিশ বাঙালি ঈশা গুহকে। ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেট দলে খেলা প্রথম দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটার তিনি। ধারাভাষ্যে তাঁর সুদক্ষ মন্তব্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই। অনেকেরই হয়তো জানা নেই, ঈশা সম্প্রতি আলঝাইমার্স ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ নিয়ে নিউরোসায়েন্সে ডক্টরাল ডিগ্রি পেয়েছেন। খেলাধূলা আর বিজ্ঞান, দুটোই প্রাক্তন ক্রিকেট তারকার পছন্দের ক্ষেত্র। 

 

মোমের পুতুল

‘কোয়ান্টিকো’-তে অভিনয়সূত্রে হয়ে উঠেছিলেন আন্তর্জাতিক তারকা। তাঁকে দেখা গিয়েছিল হ্যারি-মেগানের বিয়েতেও। এ বার লন্ডনে মাদাম তুসো মিউজ়িয়ামে নিজের মোমের মূর্তি উদ্বোধন করলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। মূর্তির পরনে র‌্যালফ লরেন-এর গাউন, যেমনটা প্রিয়ঙ্কা পরেছিলেন ২০১৭-র গোল্ডেন গ্লোব অনুষ্ঠানে। নিক জোনাসের সঙ্গে এনগেজমেন্ট আর বিয়েতে পরা হিরের আংটির প্রতিরূপ আঙুলে। ‘‘লন্ডন আমার প্রিয় শহর’’, বলেছেন প্রিয়ঙ্কা, ভক্তেরা সেখানে তাঁর মোমের মূর্তি দেখতে পাবেন বলে তিনি খুব উত্তেজিত। মূর্তিটা রাখা আছে মিউজ়িয়ামের ‘পার্টি’ বিভাগে।