ক্রমাগত বাড়তে থাকা সামাজিক অপরাধের কোথাও একটা নিবৃত্তি হওয়া দরকার অথবা সমাজকে এটা দেখানো দরকার যা কিছু হচ্ছে, সমাজের কাছে এই ধরনের ঘটনা গ্রাহ্য নয়। সহস্র বছরের ইতিহাসে সভ্যতার এটাই ন্যূনতম শর্ত। অতএব তারই অনুরণনে, ১২ বছরের কম শিশুর ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের অর্ডিন্যান্স অবধারিতই ছিল। নরেন্দ্র মোদী সরকার সেই কাজটুকুই করল।

মৃত্যুদণ্ডের যথার্থতা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকতে পারে। সেখান থেকে যদি সরেও আসা যায়, এই নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই, যে ঘৃণ্য অপরাধের ভয়ঙ্কর শাস্তির বিধান কোথাও একটা থাকার দরকার হয়ে পড়ছিল। অতএব, কঠোরতার এই বার্তা স্বাগতযোগ্য। তার পরেও কিছু প্রশ্ন জেগে থাকে। নির্ভয়া-কাণ্ডের পর, নিগ্রহ অথবা যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, নিগ্রহ অথবা নির্যাতনের ঘটনা কমা তো দূরের কথা, বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ক্রমাগত শুধু বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ আইন শুধু কঠোর হলেই চলবে না, তার যথাযথ প্রয়োগও সুনিশ্চিত করা দরকার। সে দায়িত্ব সরকারেরই। উন্নাও-কাঠুয়ার ঘটনার পর, সমাজ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভ যদি সরকারকে অর্ডিন্যান্সের ব্যাপারে উদ্যোগী করে তুলতে পারে, আশা করা যায় আইনের যথাযথ প্রয়োগেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।

এর পরেও বিশেষজ্ঞদের একটা আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শিশুর ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড অন্যতর ভাবে আরও অপরাধের জন্ম দেবে না তো? ধর্ষিতা শিশুকে খুনের ঘটনা বাড়বে না তো? সমাজকর্মীরা এই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। বক্তব্যে যে সারবত্তা আছে, শিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। কঠোর বার্তা দেওয়া যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি এ দিকটাতেও নজর দেওয়া। আশা করি, সরকার নজর দেবে।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন
 

আরও পড়ুন
১২ বছরের কমবয়সি মেয়েকে ধর্ষণে ফাঁসির সাজা, সায় কেন্দ্রের

ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, নিগ্রহের যাবতীয় ঘটনা রোধে সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা যে অত্যন্ত কঠোর এই বার্তাটা পৌঁছনো দরকার। তা না হলে, আমরা ক্রমাগত শুধু অধোগমনের পথেই যাব। জাতি হিসেবে, যেটা নিতান্তই অনাকাঙ্খিত।