ঠিক কতখানি উদ্বেগ প্রকাশ করলে বিপদের তীব্রতা বোঝানো যাবে, সে হিসেব করা কঠিন। কিন্তু এ কথা খুব সহজেই বলে দেওয়া যাচ্ছে যে, জল এখন কলকাতাবাসীর মাথার অনেক উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। দূষণের গ্রাসে চলে গিয়েছে গোটা মহানগর। শীতকাল আসতেই বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ সহনমাত্রার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

কলকাতার হাওয়া রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাতাসে ভাসমান আণুবীক্ষনিক ধূলিকণা ‘পার্টিকুলেট ম্যাটার ২.৫’-এর পরিমাণ অস্বাভাবিক রকম বেশি। প্রতি ঘন মিটার বাতাসে ওই কণার সংখ্যা ৫০ হলে, বাতাস সুস্থ বলে ধরা হয়। ১০০ হলেও সয়ে নেওয়া যায়। ২০০ হলে তা বেশ বিপজ্জনক। আর ২০১৮-র ডিসেম্বরে পৌঁছে কলকাতার বাতাস জানাচ্ছে, প্রতি ঘন মিটারে ‘পার্টিকুলেট ম্যাটার ২.৫’-এর সংখ্যা ৪৩০-এও পৌঁছে গিয়েছে শহরের কোনও কোনও প্রান্তে। বিপদ কতটা তীব্র এবং গভীর, আঁচ করা যাচ্ছে এবার?

পরিবেশবিদ থেকে চিকিৎসক, প্রত্যেকে উদ্বিগ্ন কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে। ২০টা সিগারেট খেলে ফুসফুসে যতটা বিষ ঢোকে, রোজ সেই পরিমাণ বিষ নাগরিকের শরীরে নিখরচায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে মহানগর আজ। প্রাণবায়ু নয়, নিশ্বাসের সঙ্গে বিষবায়ু ঢুকছে নাগরিকের শরীরে।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

দিল্লির হাওয়া অসুস্থ বলে কলকাতায় বসে হা-হুতাশ করে থাকি আমরা। বেখেয়ালেই নিজেদের শহরকে কতটা অসুস্থ করে তুলেছি, চা জানার চেষ্টা করি না। একদিন হঠাৎ জানতে পারছি, কলকাতায় শ্বাস নিতে নিতে রোজ সাংঘাতিক মাত্রায় বিপন্ন হয়ে পড়ছি আমরা প্রতেক্যে।

আর এক মুহূর্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় কিন্তু নেই। কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য প্রশাসনের একসঙ্গে সক্রিয় হওয়া দরকার। আপৎকালীন ভিত্তিতে কোনও উপায় খুঁজে বার করা জরুরি, যাতে শহরের হাওয়ায় বিপজ্জনক কণার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় বা কমিয়ে আনা যায়।

আরও পড়ুন: দূষণনগরী কলকাতা, দিনে ২০টা সিগারেটের বিষ ঢুকছে ফুসফুসে!

দায়িত্ব মহানগরবাসীকেও নিতে হবে নিশ্চয়ই। কিন্তু ঠিক কী দায়িত্ব নিতে হবে, কী করলে বাতাসে ওই ধরনের কণার সংখ্যা বাড়ে, কী কী এড়িয়ে চললে হাওয়ার বিষ কিছুটা কমতে পারে, সে বিষয়ে মহানগরবাসীকে অবহিত তথা সচেতন করার দায়িত্ব প্রশাসনেরই।

কেন এত দিন এসব নিয়ে কেউ ভাবলেন না, পরিবেশ দফতর ঠিক কোন কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য হাওয়ার এই অসুস্থতার দিকে নজর দিতে পারেনি এতদিন, কার গাফিলতিতে অবাধে রুগ্ন হতে থাকল মহানগরের বাতাস দিনের পর দিন— তা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সর্বাগ্রে জরুরি নাগরিকের নিরাপত্তা, নাগরিকের সুস্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করা। না হলে সামনে ঘোর বিপদ।