কিছুই করতে পারেননি গৌরী লঙ্কেশ। প্রতিবাদী সত্তাকে বিসর্জন দেননি কখনও, তাই প্রাণ দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সে বলিদানে লাভ কিছু হয়নি। গৌরী লঙ্কেশের দেশেই আবার সাংবাদিক খুন হলেন। বাড়িতে ঢুকে গুলি করল দুষ্কৃতীরা, দিনের আলোয় গুলি করল।

এ ঘটনা উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের। নামী দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি আশিস জানওয়ানি প্রতিবাদ করেছিলেন যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে। তা নিয়ে কিছু দুষ্কৃতীর সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয় আশিসের। রবিবার কাপড়ে মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীরা হানা দেয় আশিসের বাড়িতে। এলোপাথারি গুলি চালিয়ে খুন করে যায় আশিসকে ও তাঁর ভাইকে।

জঞ্জাল বা আবর্জনা ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংঘাত অত্যন্ত প্রতীকী। আবর্জনার কোনও ক্ষতি হবে না, সামাজিক আবর্জনারাই সমাজে দাপট দেখাবে, প্রতিবাদীদের চলে যেতে হবে বেঘোরে— এই কথাই চিৎকার করে বলছে আশিস জানওয়ানির মৃতদেহ।

ম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিক খুন কোনও নতুন ঘটনা নয়। এর আগে দাঙ্গা বিধ্বস্ত মুজফফরনগরে কাজ করতে করতে গুলি বিদ্ধ হয়েছিলেন রাজেশ বর্মা। ২০১৫ সালে যোগেন্দ্র সিংহকে হত্যা করা হয়েছিল এই ভাবে বাড়িতে ঢুকে। ২০১৬ সালে খুন হয়েছিলেন খনি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা করুণ মিশ্র। এ বার আশিস জানওয়ানি বুঝিয়ে দিলেন, সে তালিকায় ছেদ পড়েনি। তালিকা আরও দীর্ঘ হতে চলেছে বরং।

আরও পড়ুন: যোগীরাজ্যে দিনের আলোয় বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিক খুন, সাহারানপুরে তোলপাড়

যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ প্রবল তৎপরতা দেখাচ্ছে। আশিস জানওয়ানির খুনের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে বিরাট বাহিনী নিয়ে পৌঁছেছেন ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক। বিরাট এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু হয়েছে দুষ্কৃতীদের খোঁজে। কিন্তু প্রশ্ন হল চোর পালানোর পরে বুদ্ধি বেড়ে লাভ কী? গৌরী লঙ্কেশকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। তাঁর আগে এবং পরেও আরও অনেককে রক্ষা করতে পারিনি। সামাজিক আবর্জনাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা আশিস জানওয়ানিও এ বার শেষ হয়ে গেলেন। তাঁর মৃত্যু বুঝিয়ে দিল আবার যখন প্রয়োজন হবে, এই রকম ঘটনাই অনায়াসে ঘটবে।

প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কত দূর এগবে, তা সকলেই দেখতে পাব আমরা। আশিস জানওয়ানির হত্যাকারীদের যদি গ্রেফতার করতে পারে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ, তাহলে প্রশাসনিক সদিচ্ছার একটা ছবি তাও তৈরি হবে। কিন্তু সে ছবি আদৌ তৈরি হতে দিতে প্রস্তুত কি না প্রভাবশালীরা, সে কঠোর বার্তা গোটা রাজ্যে চারিয়ে দিয়ে আদৌ প্রস্তুত কি না যোগী আদিত্যনাথ নিজে, সে সব প্রশ্নও জড়িত এই খুনের তদন্তের সঙ্গে। অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকবে গোটা ভারত। রাজস্থানের পেহলু খানকে যেমন ‘কেউ খুন করেননি’, আশিস জানওানির ক্ষেত্রেও তদন্তের পরিণতি তেমনই হবে না তো? উত্তর দেওয়ার দায়টা থাকবে যোগী আদিত্যনাথের কাঁধেই।