Advertisement
E-Paper

স্বাগত

য স্মিন্ কালে যদাচারঃ। কোনও রীতি, এমনকী নীতিও, এক সময় চলিয়াছে বলিয়াই তাহা অপরিবর্তনীয় হইতে পারে না। বিশেষ করিয়া যদি সে রীতি বা নীতির মূলগত যুক্তিটিতেই সংশয়ের অবকাশ থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম আসন্ন ভোটের প্রার্থীতালিকা তৈরির সূচনায় যে বিরাট পরিবর্তনটির কথা ভাবিল, তাহা এই জন্যই স্বাগত।

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৬ ০০:০০

য স্মিন্ কালে যদাচারঃ। কোনও রীতি, এমনকী নীতিও, এক সময় চলিয়াছে বলিয়াই তাহা অপরিবর্তনীয় হইতে পারে না। বিশেষ করিয়া যদি সে রীতি বা নীতির মূলগত যুক্তিটিতেই সংশয়ের অবকাশ থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম আসন্ন ভোটের প্রার্থীতালিকা তৈরির সূচনায় যে বিরাট পরিবর্তনটির কথা ভাবিল, তাহা এই জন্যই স্বাগত। ‘অনেক দিনের প্রথা’-র গড্ডলিকা প্রবাহ হইতে বাহির হওয়া গেল, কালোপযুক্ত পরিবর্তনের সাহস দেখানো গেল, ইহা প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা, যে প্রথা লইয়া আদতেই বহু প্রশ্ন ও সংশয়, তাহার আমূল পরিবর্তনেরও একটি অবকাশ আসিল। সুতরাং, রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে ভোটে দাঁড় করাইবার সিদ্ধান্ত কেবল একটি মামুলি সুখবর নয়। গুরুত্বের দিক দিয়া ইহাকে পুরাদস্তুর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলা চলিতে পারে। ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে বৃহৎ সংস্কারের মুহূর্তগুলির সহিত ইহার তুলনা করিলেও বেশি ভুল হইবে না। রাজ্য সিপিআইএম কি তাহার সিদ্ধান্তের সম্যক গুরুত্ব বুঝিতে পারিতেছে? বলা মুশকিল। তবে তাহারা বুঝুক না বুঝুক, এই সিদ্ধান্ত অলক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গের তথা ভারতের বৃহত্তম কমিউনিস্ট পার্টির

কার্যক্রমে একটি বহু-প্রতীক্ষিত উল্লম্ফন। ওই দলের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গীয় রাজনৈতিক সমাজও গণতন্ত্রীকরণের পথে এক কদম অগ্রসর হইল।

গণতন্ত্রীকরণের প্রশ্নটি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত মৌলিক ও জরুরি। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার দলনেতা যে নির্বাচিত প্রতিনিধি হন না, এবং দল ক্ষমতায় আসিলেও তিনি বা তাঁহারাই যে পিছন হইতে দলের তথা সরকারের সমস্ত পথরেখা নির্ধারণ করেন: এই পদ্ধতির যৌক্তিক ভিত্তি অবশ্যই প্রশ্নযোগ্য। এমনকী দল ক্ষমতায় না আসিলেও প্রশ্নটি উঠিতে পারে। কেননা তখনও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতির সমাজে ক্রিয়াশীল ‘রাজনৈতিক’ দলটির সমস্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন এমন নেতারাই, যাঁহাদের কোনও দিন জনতার দরবারে ‘পরীক্ষিত’ হইতে হয় নাই। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভও বারংবার প্রশ্নটি উঠাইয়াছে— কেন অনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিই একটি রাজনৈতিক দলের কর্তব্যকর্ম ঠিক করিবেন, জননির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেন সেই অনির্বাচিত নেতৃত্বের অনুগত ও অধীন হইবেন? গণতন্ত্রে জননির্বাচিত নেতা ছাড়া কেহই নেতৃত্ব দিতে পারেন না, সেই নেতৃত্ব যত উপযুক্ত ও উত্তম হউক না কেন। অথচ প্রমোদ দাশগুপ্ত, সরোজ মুখোপাধ্যায়, শৈলেন দাশগুপ্ত, অনিল বিশ্বাস, বিমান বসু, কেহই ভোটে দাঁড়ান নাই, কেবল সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকিয়াছেন। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে প্রকাশ কারাটের যুগ অতিক্রান্ত হইয়া সীতারাম ইয়েচুরির যুগ আসিয়াছে, কিন্তু নির্বাচন-নির্ভর লোকসভার (রাজ্যসভা নয়) সহিত জেনারেল সেক্রেটারি বা প্রধান নীতি-প্রবক্তাদের কোনও সংযোগ তৈরি হয় নাই।

সেই প্রেক্ষিতে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে ভোটে দাঁড় করাইবার সিদ্ধান্তটি সর্বার্থে যুগান্তকারী। তবু প্রশ্ন থাকিয়া গেল। গুরুতর প্রশ্ন। এই পদক্ষেপ কি বৃহত্তর নীতি পরিবর্তনের সূচক? নাকি ব্যক্তি-কেন্দ্রিক একটি ‘বিশেষ’ ও ‘সাময়িক’ সিদ্ধান্ত-মাত্র? এই বার দলে নির্বাচনী রাজনীতিতে নেতৃত্বদানের যোগ্য মুখের অভাব বলিয়াই কি এহেন ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ? ‘সূর্যবাবুকে জিতাইয়া আনিতে হইবে’-র সংকীর্ণ লক্ষ্যেই এই সংস্কার? না কি, ক্রমশ উপলব্ধ হইতেছে যে, গণতন্ত্রের দাবি মানিয়া সাংগঠনিক নেতারও জনতার দরবারে নামিয়া পরীক্ষিত হওয়া উচিত এবং বাঞ্ছিত? অনেক সময় অবশ্য আপাত-ক্ষুদ্র পদক্ষেপও বৃহৎ পরিবর্তনের জন্ম দেয়। একটি বাঁকেই রাস্তা সটান ঘুরিয়া যায়। সূর্যকান্ত মিশ্র তেমনই একটি বাঁক: এই আশাই করা যাক।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy