Advertisement
E-Paper

সমকামীর সন্তান

আমেরিকা জুড়িয়া সমকামী বিবাহ আইনসিদ্ধ হইল। একটি ইংরাজি দৈনিকে সেই উপলক্ষে একটি চমৎকার চিত্র ছাপা হইল: এক সমকামী দম্পতি (দুই জনেই পুরুষ) তাঁহাদের দুই সন্তানকে লইয়া গৃহের সম্মুখের বাগানে খেলিতেছেন। সমকামী দম্পতি সন্তান লাভ করিতে পারেন কয়েকটি উপায়ে।

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০১৫ ০০:০১

আমেরিকা জুড়িয়া সমকামী বিবাহ আইনসিদ্ধ হইল। একটি ইংরাজি দৈনিকে সেই উপলক্ষে একটি চমৎকার চিত্র ছাপা হইল: এক সমকামী দম্পতি (দুই জনেই পুরুষ) তাঁহাদের দুই সন্তানকে লইয়া গৃহের সম্মুখের বাগানে খেলিতেছেন। সমকামী দম্পতি সন্তান লাভ করিতে পারেন কয়েকটি উপায়ে। সন্তান দত্তক লইতে পারেন। নারী-নারী সম্পর্কের ক্ষেত্রে, স্পার্ম ব্যাংক বা কোনও ইচ্ছুক পুরুষ বন্ধু বা আত্মীয়ের নিকট হইতে শুক্রাণু লইয়া, তাহা দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে দম্পতির এক জনের ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করা যাইতে পারে। কখনও, দম্পতির এক নারী ডিম্বাণুটি দেন, তাঁহার পার্টনার-নারীটি গর্ভধারণ করেন। এই ভাবে, সন্তানলাভের ক্ষেত্রে দুই জনেরই অবদান থাকে। পুরুষ-পুরুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, এক নারীকে খুঁজিয়া বাহির করিতে হয়, যিনি কোনও এক জনের শুক্রাণু দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে গর্ভিণী হইয়া নিজ শরীরে শিশুটিকে বহন করিতে ইচ্ছুক। কখনও এই ক্ষেত্রে দুই পুরুষের শুক্র মিশাইয়া দেওয়া হয়, যাহাতে কেহই না বুঝিতে পারে, ‘পিতা’ কে। স্পার্মদাতা বা গর্ভদাত্রী-মাতা অর্থের বিনিময়েও পাওয়া যায়, অনেকেই মানবিক কারণে সাহায্য করিতে রাজি থাকেন। যদিও বহু দেশেই সমকামী দম্পতির সন্তান পালনের অধিকার স্বীকার করা হয় না, কিন্তু আমেরিকা এই ভাবে বিবাহটিকে মানিয়া লইবার পর হয়তো সমগ্র পৃথিবীতে সমকামী দম্পতিকেও এক বিষমকামী দম্পতির ন্যায়ই স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখিবার শিক্ষা ক্রমশ প্রসারিত হইবে।

সমকামী সম্পর্কের বিরুদ্ধে যাহারা অহরহ বিষেদ্গার করে, তাহাদের একটি প্রধান যুক্তি: এই সম্পর্ক প্রকৃতিবিরোধী, কারণ ইহা সন্তানের জন্ম দিতে অপারগ। এই রক্ষণশীলদের মতে, যে কোনও দাম্পত্যের মূল উদ্দেশ্য হইল সন্তান উৎপাদন, প্রজাসৃষ্টি। তাহা আদৌ কেন হইবে, কেন দুইটি মানুষের পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে থাকিবার আকাঙ্ক্ষাই দাম্পত্যের যথেষ্ট উপকরণ হইবে না, সেই তর্ক করা তো যাইতেই পারে, কিন্তু আধুনিক যুগে প্রযুক্তি আসিয়া এই কলহে অন্য মাত্রা দান করিয়াছে। সন্তানের জন্ম যাঁহারা জৈবিক ভাবে দিতে অক্ষম, তাঁহারা কৃত্রিম ভাবে পিতা-মাতা হইবেন, ইহা লইয়া ভাবিবার কী আছে। কত বিষমকামী দম্পতি তো কৃত্রিম উপায়ে নিজেদের এক জনের, বা দুই জনেরই বন্ধ্যাত্ব অতিক্রম করিয়া সন্তান পাইতেছেন।

অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে, সমকামী দম্পতি যে সন্তানটিকে মানুষ করিবেন, তাহার মানসিক গঠন স্বাভাবিক হইবে না। কিন্তু মার্কিন দেশে সম্প্রতি একটি সমীক্ষা হইয়াছে, যাহা সমকামী অভিভাবকত্ব লইয়া ১৯৭৭ হইতে ২০১৩ পর্যন্ত প্রকাশিত ১৯০০০ নিবন্ধ ও সমীক্ষা লইয়া গবেষণা করিয়া জানাইয়াছে, সমকামী দম্পতির সন্তান ও বিষমকামী দম্পতির সন্তানদের মধ্যে লক্ষণীয় কোনও প্রভেদই নাই। অর্থাৎ, সমকামী ‘পিতা-মাতা’র নিকট বড় হইয়া উঠিলে সন্তানের কোনও রূপ মনস্তাত্ত্বিক, ব্যবহারগত বা শিক্ষাগত বিচ্যুতি ঘটে না। ইহা বহু দিনই প্রমাণিত হইয়াছে, পরিবারে অভিভাবকের লিঙ্গ বা সংখ্যা নহে, শিশুর মানসিক বিকাশের পক্ষে জরুরি হইল, গৃহের সুখ ও শান্তি। অভিভাবকরা যদি মানসিক ভাবে সুস্থিত হন, তাঁহাদের সম্পর্কে যদি প্রীতি, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থাকে, সন্তানকে যদি স্নেহ ও নিরাপত্তা দিয়া বড় করিয়া তোলা হয়, তবে শিশুরা প্রথাগত বা প্রথাবহির্ভূত পরিমণ্ডলে চমৎকার মানুষ হইয়া উঠিতে পারে। কেহ বলিতে পারেন, সমকামী দম্পতির সন্তানকে তো সমাজের নিকটও প্রভূত বিদ্রুপ সহ্য করিতে হইবে, উহা তাহার মানসিক বিকাশের পক্ষে প্রতিকূল। ঠিকই, কিন্তু সেই ক্ষেত্রে তো সমাজকে শিক্ষিত হইয়া উঠিতে হইবে। চুরি হইতেছে বলিয়া চোরকে না শুধরাইয়া গৃহস্থকে তর্জন করিলে চলিবে কী করিয়া?

য ৎ কি ঞ্চি ৎ

আগ্রার রেল পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১০৯ জনকে গ্রেফতার করল, প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের অপরাধে। ৫০০ টাকা অবধি জরিমানাও নিল। এই প্রকল্প নিলে পশ্চিমবঙ্গের কোষাগার এক্ষুনি ফুলেফেঁপে উঠবে। কোটি টাকা কালেক্ট করার কালে শুধু দুই দুঃস্থ শ্রেণির কথা মনে রাখার: যারা প্রস্রাবকারীর মনে পাপ জাগাতে গেরস্থের দেওয়ালে দুর্গা-কালী আঁকে, সেই চিত্রকরদের চলবে কী করে। আর, শাসক দলের কেউ ধরা পড়লে, সেই ধরপাকড়বাজ পুলিশটি তক্ষুনি ছাঁটাই হয়ে কেমনে বাঁচবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy