বৃষ্টি-বাদলের আপাতত ছুটি। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মিলিয়ে বুধবার থেকেই গরমে অতিষ্ট দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি। আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় চার থেকে ছ’ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে। আর তারই মধ্যে পুরুলিয়া জেলার সব স্কুলের সময় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে করে দেওয়ার বার্তা ছড়িয়ে পড়ল সমাজমাধ্যমে। কিন্তু ভুল হয়ে গেল সামান্য।
অবসর নিয়েছেন গত মার্চে। ১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল তাঁরই নামে! বুধবার পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নামাঙ্কিত একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১ এপ্রিল থেকে জেলার সব স্কুল সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে। কিন্তু সে বিজ্ঞপ্তিতে অসংগতি ছত্রে ছত্রে।
প্রথমত, চিঠির উপরে তারিখের স্থানে লেখা রয়েছে ১ এপ্রিল, যিনি সই করছেন সেখানেও ১ এপ্রিল এবং এই নিয়ম কার্যকরী করার কথা বলা হয়েছে সেটাও ১ এপ্রিল। তার পরই ওই বিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এ ভাবে পুরুলিয়া জেলা এ ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কী করে?
এই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিটিই ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত গরমের ছুটির ক্ষেত্রে পর্ষদ থেকে এই ধরনের নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। এর পর পর্ষদে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ ভুয়ো। এ রকম কোনও নির্দেশিকা পুরুলিয়া জেলা সংসদ থেকে দেওয়া হয়নি। এর পর জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে ওই পদে কেউ নেই।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কী ভাবে সংসদের লেটার হে়ড-এ এই ধরনের জাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল?
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল তদন্তের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষামহলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লে তো পরবর্তী ক্ষেত্রে কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা, তা বোঝা যাবে না। এটা শিক্ষামহলের জন্য মোটেই ভাল হবে না।’’