Advertisement
E-Paper

বাস্তব প্রয়োগ না তত্ত্বজ্ঞান! দ্বাদশের পর কৃত্রিম মেধার পাঠ কোন পথে? পেশাগত সুবিধা কতখানি?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পাঠ্য করার ক্ষেত্রে মিলতে পারে নানা ধরনের ডিগ্রি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই)-এর তরফে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত পৃথক দু’টি কোর্সের অনুমোদন রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৮:৫৬

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দশ বছর আগেও এ বিষয়ের নাম শোনেনি অনেকেই। একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের মাঝামাঝি এসে বোঝা যাচ্ছে, এই বিষয়ই হয়ে উঠতে চলেছে আগামী দিনের চালিকা শক্তি— এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এইআই-এর বাড়বাড়ন্তে কাজের একটি দিক যেমন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তেমনই খুলে যাবে অন্য দিকও। প্রযুক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখার বদলে তাকে আয়ত্ত করাকেই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন তাঁরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত কোর্স কোনটি কেমন

 গ্রাফিক ঃ আনন্দবাজার ডট কম

গ্রাফিক ঃ আনন্দবাজার ডট কম

অর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পাঠ্য করার ক্ষেত্রে মিলতে পারে নানা ধরনের ডিগ্রি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই)-এর তরফে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত পৃথক দু’টি কোর্সের অনুমোদন রয়েছে।

ইউজিসি-র অনুমোদিত কোর্সটি পরিচিত বিএসসি ইন আইটি (এআই)। অন্য দিকে, এআইসিটিই-র অনুমোদিত কোর্সের নাম ‘বিটেক ইন এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স’। দু’টির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাকাউট)-এর তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান সোমদত্তা চক্রবর্তী বলেন, “দু’টি ক্ষেত্রেই কাজের পরিসর যথেষ্ট বিস্তৃত। ক্রমশ এই বিষয়ের চাহিদাও বাড়বে। কে কোন বিষয়টি নিয়ে পড়তে আগ্রহী, তা আগেই বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।”

বিটেক ইন এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স

বিটেক কোর্সেটির মধ্যে অধিকাংশ অংশে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং। ফলে এখানে মূলত অ্যাপ্লিকেশনের উপরে জোর দেওয়া হয়।

এই কোর্সে ভর্তি হতে হলে পড়ুয়াদের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে হয়।

কী ভাবে এআই-র বাস্তব প্রয়োগ করা হবে, তা-ই শেখানো হয়। অর্থাৎ এই প্রযুক্তিকে কী ভাবে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায়।

সে জন্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কী ভাবে বিভিন্ন যন্ত্রে প্রয়োগ করে, তাকে ব্যবহার করা যায় তা-ই শেখানো হয় পড়ুয়াদের।

কম্পিউটারে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করে নানা ডি়জাইন তৈরির কাজ শিখেও নিতে পারেন পড়ুয়ারা।

 গ্রাফিক ঃ আনন্দবাজার ডট কম

গ্রাফিক ঃ আনন্দবাজার ডট কম

কাজের সুযোগ

কৃত্রিম মেধার বাস্তব প্রয়োগ শিক্ষার ফলে বিভিন্ন কোর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন পড়ুয়ারা। বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে বোঝা যায়, আগামী দিনে কমবেশি সর্বক্ষেত্রেই এআই-এর প্রয়োগ হবে। ইলেকট্রিকাল, মেকানিক্যাল এমনকি কৃষিক্ষেত্রেও এআই-এর প্রয়োগ বাড়ছে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ছে চাকরির চাহিদাও। তাই বিটেক-এর এই কোর্স করলে পড়ুয়ারা বাড়তি সুবিধা পাবেন বলেই মনে করছেন সোমদত্তা।

বিএসসি ইন আইটি (এআই)

কৃত্রিম মেধার বিএসসি কোর্সটি মূলত তাত্ত্বিক। অর্থাৎ সেখানে খাতায়কলমে পড়ুয়াদের শেখানো হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুঁটিনাটি। স্ট্যাটিসটিক্স, ডেটা এবং ম্যাথমেটিক্স-এক সমন্বয়ে শেখানো হয় এই বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োগের থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ফর্মুলার উপরে।

এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের পরে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। উচ্চ মাধ্যমিকে গণিত, অর্থনীতি, রাশিবিজ্ঞান বা পদার্থবিদ্যা থাকলে মেধাতালিকার ভিত্তিতে এই বিষয় নিয়ে স্নাতক পড়া যায়।

 গ্রাফিক ঃ আনন্দবাজার ডট কম

গ্রাফিক ঃ আনন্দবাজার ডট কম

সোমদত্তা চক্রবর্তী বলেন, “দু’টি কোর্সেরই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আগামী দিনে তা আরও বাড়বে। তবে এ কথা সত্যি, পেশাগত জীবনে বেতনের ক্ষেত্রে বিটেক উত্তীর্ণেরাই সুবিধা পাবেন।” কারণ, বিটেকের পড়ুয়ারা এআই প্রয়োগ করে নানা যন্ত্র তৈরি করতে পারেন। ফলে পদমর্যাদা ও বেতন বেশি হতে পারে। তবে শিক্ষকতার দিকে আগ্রহ থাকলে অবশ্যই তত্ত্বগত পড়াশোনার গুরুত্ব রয়েছে। তত্ত্বজ্ঞান ছাড়া কৃত্রিম মেধার বাস্তব প্রয়োগ কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।

AI
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy