অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে মাইকেল ড্যানিনোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। ফরাসি বংশোদ্ভূত ওই অধ্যাপক ও লেখকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিশেষ স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করল আইআইটি, গান্ধীনগর। ওই প্রতিষ্ঠানে ২০১১ থেকে ‘গেস্ট প্রফেসর’-এর পদে রয়েছেন মাইকেল ড্যানিনো।
সংবাদমাধ্যমকে আইআইটি, গান্ধীনগরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই মাইকেল ড্যানিনোর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে বিশেষ স্ট্যান্ডিং কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, মাইকেল ড্যানিনো এনসিইআরটি-র সমাজবিজ্ঞানের সিলেবাস কমিটির চেয়ারপার্সনও ছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের একাধিক অধ্যায়ে বদল করা হয়েছিল। সিন্ধু সভ্যতার পত্তন, মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সংক্রান্ত বিষয় পাঠ্যপুস্তকে না রাখার সিদ্ধান্ত মাইকেলেরই ছিল, যা শিক্ষামহলে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে।
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সিলেবাস কমিটিতে থাকা অধ্যাপক মাইকেল ড্যানিনো, শিক্ষিকা সুপর্ণা দিবাকর এবং আইন গবেষক অলোকপ্রসন্ন কুমার কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে কোনও পাঠ্যক্রম তৈরির কাজেও তাঁরা যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “এঁরাই যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে দায়িত্ব পান, তা হলে পরবর্তী প্রজন্মের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তবে, কোন নিয়ম মেনে পাঠ্যক্রমে ‘সমাজব্যবস্থায় বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা’ অধ্যায়টি রাখা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে শীর্ষ আদালতের কাছে এনসিইআরটি-র জমা দেওয়া হলফনামায় কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই ওই রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। নতুন করে পাঠ্যক্রমে অধ্যায় সংশোধনের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ওই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, পেশাদার আইনজীবী এবং একজন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ থাকবেন, যাঁরা ভোপালের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি-র সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করবেন।