Advertisement
E-Paper

দ্বাদশের পর কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্পেশ্যালাইজ়েশন না বেসিক! কোন পথে পড়াশোনা?

দ্বাদশের পর কোন বিষয় বেছে নেবেন, তা আগে থেকেই স্থির করে ফেলেন বেশির ভাগ পড়ুয়া। মাধ্যমিকের পরই বেছে নেওয়া বিভাগ, তার পর এগিয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। কী পড়বেন, কী ভাবে পড়বেন, রইল তার প্রাথমিক রূপরেখা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৮:৫৪

— প্রতীকী চিত্র।

দ্বাদশের পর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার আগ্রহ গত দু’দশকে বেড়েছে একটু একটু করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে কৃত্রিম মেধা এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয়ও। কেমন হতে পারে পঠনপাঠন এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবন?

কয়েক বছর আগেও উচ্চ মাধ্যমিকের পর কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা মানেই কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এ (সিএসই) বিটেক বলে মনে করা হতো। স্নাতকের পর কেউ চাকরিতে যোগ দিতেন। কেউ বেছে নিতেন স্নাতকোত্তর বা গবেষণার পথ। সেই প্রবণতা যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নেই, তা বলা যায় না। তবে খানিক বদলে গিয়েছে কোর্সের ধরন, এমনকি কর্মক্ষেত্রে চাহিদাও।

বিশেষ সংযুক্তি

কম্পিউটার সায়েন্স-এ কোর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশেষ কিছু স্পেশ্যালাইজ়েশন কোর্স, যেমন সিএসই (এআইএমএল)। অর্থাৎ সিএসই-র সঙ্গে স্পেশ্যালাইজ়েশন হিসেবে থাকছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং। একই ভাবে সিএসই (ডেটা সায়েন্স), সিএসই (সাইবার সিকিওরিটি) ইত্যাদিও এসেছে বিশেষ পাঠ্যক্রম হিসাবে।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি-র অধিকর্তা ও খড়গপুর আইআইটি-র অতিথি অধ্যাপক অম্লান চক্রবর্তী বলেন, “এখনও কোর সিএসই-র চাহিদাই বেশি। আগামী চার-পাঁচ বছর পরে এই চিত্রে খানিক পরিবর্তন হবে। তবে অন্য বিষয়গুলি এখনও নতুন। তাই বিভিন্ন সফটওয়ারের কোম্পানি কোর সিএসই-র উপরেই ভরসা রাখছে।” ফলে পেশাগত দিকে সাফল্য পেতে গেল বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিষয় বেছে নিতে হবে পাঠ্যক্রম।

কোর সিএসই

এ ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বেসিক পড়তে হয়। তার সঙ্গে থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স। সবটাই ৮টি সেমেস্টারে ভাগ করে দেওয়া থাকে। অর্থাৎ কোর সিএসই-র পড়ুয়া সফ্‌টঅয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষ হবেন।

বিশেষ কোনও অ্যাপ্লিকেশনে বিশেষজ্ঞ না হয়ে উঠলেও সার্বিক ভাবে ওই পড়ুয়া সব ধরনের কাজ করতে পারবেন।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সিএসই এআইএমএল

এখানে সিএসই-র পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিংয়ের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়। কিন্তু কোর সিএসই-র কিছু অংশ বাদ পড়ে যায় বা কোর কোর্সের তুলনায় এখানে সেই বিষয়গুলি কম পড়ানো হয়। ফলে কোথাও একটা ঘাটতি থেকে যায় বলে মনে করেন অধ্যাপক অম্লান চক্রবর্তী। এই বিষয় নিয়ে পাশ করা পড়ুয়ারা এআইএমএল-এ অনেকটাই পারদর্শী হবেন।

অম্লানের দাবি, যে সব পড়ুয়া এই বিষয় নিয়ে পড়তে চান তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সের বাইরেও কোর সিএসই-র কিছু বিষয় পড়ে নিতে পারেন। তাতে সুবিধা হতে পারে। অর্থাৎ স্পেশ্যালাইজ়েশন কোর্সে কোরের যে অংশগুলি কম করে পড়ানো হচ্ছে সেগুলিই তাঁকে নিজস্ব উদ্যোগে পড়ে ফেলতে হবে। তা হলে চার বছরের স্নাতক শেষের পরে বুঝতে পারবেন স্পেশ্যালাইজ়েশন বিষয়ের পাশাপাশি কোর সিএসই-তেও একই ভাবে পারদর্শী হয়েছেন। চাকরির ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। অম্লান বলেন, “বর্তমানে সব সংস্থাই দক্ষ কর্মী চায়। প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ বানিয়ে নেওয়ার সময় আর কারও কাছে নেই। তাই সে ক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হলে নিজেকে তৈরি হতে হবে।”

বিষয়ের পরিবর্তন

পাশাপাশি একটি বিষয়ের উপরে পড়ুয়াদের বাড়তি জোর দিতে বলছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক দিগন্ত সাহা। তিনি জানান, ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন কোনও পড়ুয়া সে বিষয়টি আগামী পাঁচ বছরে আর প্রয়োজনীয় না-ও থাকতে পারে। হয়তো সে সময় সেই কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই করে দিতে শুরু করেছে। ফলে বেসিক জানা অত্যন্ত জরুরি।

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তা হচ্ছে খুব দ্রুত। তাই সে দিকে নজর রেখে বিষয়ের গভীরে গিয়ে নিজেকে দক্ষ করার কথা বলছেন অধ্যাপকেরা। দিগন্ত সাহা বলেন, “সিকিওরিটি ধরনের অ্যাপ্লিকেশনে কর্মী অনেক কম লাগে। কিন্তু ডেটা অ্যানালাইসিস-এর ক্ষেত্রে এ দেশে এখনও চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে সেখানেও কর্মীদের প্রয়োজন কমতে পারে। তখন আবার এই অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়ে পড়বে। সেখানেই পড়ুয়াদের সুযোগ।”

তবে অধ্যাপক দিগন্ত সাহা মনে করেন সিএসই-র সঙ্গে স্পেশ্যালাইজ়েশন বিষয় নিয়ে পড়া পড়ুয়াদের কাছে আগামী দিনে সুযোগ আসছে। কিন্তু প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নিজেকে সেই পরিবর্তনের উপযোগী করতে তুলতে হবে প্রতি মুহূর্তেই।

সব দিক বিচার করলে এ কথা বলাই যায়, কোর সিএসই পড়লে সব বিষয়ে জানা হবে। আবার স্পেশ্যালাইজ়েশনে মিলবে বিশেষ জ্ঞানের সুযোগ। কিন্তু স্পেশ্যালাইজ়েশনের পাশাপাশি যদি নিজের উদ্যোগে কোর সিএসই-র সব পাঠ্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা যায় তা হলে সফটঅয়্যার সংস্থাগুলিতে ভাল চাকরি পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি স্নাতকোত্তরের পরে গবেষণা করে অধ্যাপনার রাস্তাও খোলা রয়েছে পড়ুয়াদের কাছে।

computer engineering
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy