২০২৬-এর মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৭০ জন। মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে তিন জন পড়ুয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সৌর জানা, পূর্ব মেদিনীপুরের অঙ্কনকুমার জানা এবং বাঁকুড়ার মৈনাক মণ্ডলের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫।
সৌর পড়াশোনা করছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে। বাবা সুভাষ জানা বলেছেন, ‘‘ছেলে পড়াশোনায় ডুবে থাকে। বাড়ি এলে আমরা বরং ওকে জোর করে একটু ঘুরতে নিয়ে যায়ই।’’ সৌর এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে নিট-এর। স্বপ্ন দেখছে চিকিৎসক হওয়ার। সে জন্য একাদশে থাকছে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং জীববিদ্যা। আপাতত রাজ্য ছাড়তে নারাজ সে, তবে দিল্লি এমস্-এ যদি সুযোগ পায় তা হলে সেখানে পড়ার ইচ্ছেও রয়েছে।
অঙ্কন সত্যিই ভালবাসে আঁকতে। ঝুলিতে রাজ্য স্তরের বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতার প্রথম, দ্বিতীয় হওয়ার শংসাপত্রও রয়েছে। এ ছাড়াও কুইজ়-এও যোগ দিয়েছে অঙ্কন। অবসরে ভাল লাগে গান করতে, গল্পের বইয়ে ডুবে থাকতে। গৃহশিক্ষক ছিলেন ন’জন। পরিবারের ঠাকুমা, ছোট ভাই, বাবা, মা এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদেরই অবদানকেই শ্রেষ্ট মনে করে অঙ্কন। এ রাজ্যে থেকেই উচ্চ শিক্ষার ইচ্ছে। জয়েন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের অঙ্কন।
মৈনাক দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়েছে বাঁকুড়া ক্রিশ্চিয়ান কলেজিয়েট স্কুল থেকে। বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া সব বিষয়েই ১০০-এ ১০০ পেয়েছে সে। বাবা ছোট ব্যবসায়ী। গণিত তার সব থেকে প্রিয় বিষয়। স্বপ্ন দেখছে পরমাণু বিজ্ঞানী হওয়ার।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এ বার মাধ্যমিকে নিয়মিত পড়ুয়াদের মধ্যে নাম নথিভুক্ত করেছিল মোট ৯ লক্ষ ৯ হাজার ৪৩০ জন। সাংবাদিক সম্মেলনে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে ৯ লক্ষ ১ হাজার ৭২৪ জন। ছাত্র সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯ হাজার ৮৪৪ জন। ছাত্রীসংখ্যা ৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৮৮০ জন। প্রথম দশে রয়েছে ১৩১ জন পরীক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়েছে ৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৭০ জন।