Advertisement
E-Paper

ভোটকর্মীদের অভিযোগে নড়ে বসল কমিশন, ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশ জারি

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে যে সব ভোটকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কথা ছিল প্রশিক্ষণের শেষ দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ ওঠে, বহু ভোটকর্মী ভোট দিতে পারেননি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৯

— প্রতীকী চিত্র।

ভোটকর্মীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা অভিযোগ পাওয়ার পরে এ বারে পদক্ষেপ শুরু করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সব জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের কমিশনের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা রয়েছে তা যেন সঠিক ভাবে পালন করা হয়।

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে যে সব ভোটকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কথা ছিল প্রশিক্ষণের শেষ দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ ওঠে, বহু ভোটকর্মী ভোট দিতে পারেননি। পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মীরা নানা অভিযোগ তোলেন। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখা এবং ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। তারা দাবি করে, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটকর্মীরা ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগ, ওই স্কুলে ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। অব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, অনেকেই ভোট না দিয়ে বেরিয়ে যান। পশ্চিম মেদিনীপুরের বসন্তপুর তেলিপুকুর এলাকার একটি স্কুলে আবার তালিকায় নাম না থাকায় ভোট দিতে পারেননি বহু ভোটকর্মী। সমস্যা হয়েছিল মুর্শিদাবাদেও।

পরে অবশ্য কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে কোনও বাধা থাকবে না। যাঁরা ভোট দিতে পারেননি তাঁদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

তবে শুধু এটুকুই নয়। বহু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সের মুখ গালা সিল নেই বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই এ বার পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট ভোটের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই কমিশন যে নির্দেশিকা দিয়েছে সেগুলি যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে। সেখানে যেমন উল্লেখ ছিল গালা সিল করা বাক্স রাখার, তেমনই সিসি ক্যামেরার নজরদারির কথাও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি বলা হয়েছে যে সব ভোটকর্মী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদের প্রশিক্ষণের শেষ দিনে যেন ভোটের ব্যবস্থা করা হয়।

দুর্গাপুরে অভিযোগ উঠেছিল, একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। তার বদলে এক একটি কক্ষে ৫০ থেকে ৬০ জনের ভোট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে অযথা ভিড় এড়ানো যাবে বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখার সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে লড়াইয়ের সাময়িক জয় হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘‘ভোট দেওয়ার সময় বৃদ্ধির করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারেও ভোটকর্মীদের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিশন সব রকমের সুবন্দোবস্ত করুক, যেন সবাই নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সেটাই কাম্য।’’

তবে ভোটকর্মী ও বি এল ও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও বলছি এই নির্দেশ সঠিকভাবে কার্যকরী করার জন্য সব সময় নজরদারি করতে হবে। তা না হলে এটা কাগুজে নির্দেশ হয়েই থেকে যাবে।’’

Postal Ballot System
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy