Advertisement
E-Paper

মিলছে না রুসা-র বরাদ্দ, কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানিতে অর্থসঙ্কট কলকাতা, যাদবপুরে, থমকে গবেষণা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, দ্বিতীয় পর্যায়ে এখনও প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বকেয়া। সেই টাকা কবে পাওয়া যাবে, তা জানা নেই। এ দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল। এক আধিকারিক জানান, মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করে বিল জমা দিলে তবেই মিলবে টাকা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

রুসার টাকা আটকে। থমকে কাজ। আবার কোথাও চলছে তাড়াহুড়ো— নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করতে পারলে ফিরে যাবে বরাদ্দ। ফলে কাজের মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

‘রুসা’ না কি ‘পিএম রুসা’— আপাতত নামের ফেরেই জগৎ ফিরছে। নাম নিয়ে যখন কেন্দ্র আর রাজ্য তরজা চলছে তখন কলকাতার দুই প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভুগছে অর্থসঙ্কটে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, দ্বিতীয় পর্যায়ে এখনও প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বকেয়া। সেই টাকা কবে পাওয়া যাবে, তা জানা নেই। এক আধিকারিক বলেন, “বেশ কিছু কাজ হওয়ার কথা ছিল। সেটা সবটাই থমকে গিয়েছে। তার মধ্যে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইআরপি ব্যবস্থা চালুর কথা ছিল, বেশ কিছু অত্যাধুনিক কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু আপাতত অর্থের অভাবে সেই সব হচ্ছে না।” অন্য এক শিক্ষক জানান, নানা বিষয়ে কিছু সম্মেলন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা-ও সম্ভব হচ্ছে না। অর্থের অভাবে আপোস করতে হচ্ছে উৎকর্ষের সঙ্গেও।

এ দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল। এক আধিকারিক জানান, মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করে বিল জমা দিলে তবেই মিলবে টাকা। তাঁর কথায়, “কাজ শেষ করলে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৩৫ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণ টাকা ঝুঁকি নিয়ে একমাসের মধ্যে খরচ করে ফেলা কি আদৌ সম্ভব?”

প্রায় একই প্রশ্ন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটা-র সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষের। তিনি বলেন, “টাকা হাতে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বা কোনও সম্মেলন করলে সেই বকেয়া অর্থ মেটানোর দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে এসে পড়বে। অথচ সেই টাকা দেবে সরকার। এ ভাবে ঝুঁকি নিয়ে কি আদৌ কোনও প্রকল্প চালানো সম্ভব?”

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য করা হয়। রুসা ১.০ মানলেও রাজ্যের তরফে পিএম ঊষা ফান্ড-এ আবেদন করা হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও কেন্দ্র সাহায্য করতে পারছে না।

অন্য দিকে শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এর বিরোধিতা করে সমাজমাধ্যমে জানান, রাজ্যের আপত্তিটা নীতিগত। তাঁর দাবি, “শিক্ষা ক্ষেত্রে যে কোনও বরাদ্দের একাংশ কেন্দ্র সরকার অনুদানের একাংশ দেয়, বাকি অংশ দেয় রাজ্য সরকার। সে ক্ষেত্রে কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নামেই কেন প্রকল্পগুলি নামাঙ্কিত হবে?”

অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যের অহংবোধের দড়ি টানাটানিতে আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যেখানে আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে, সেখানে বরাদ্দ অর্থ না পেলে কাজ হবে কী করে? প্রশ্ন শিক্ষকদের।

Jadavpur University Calcutta University RUSA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy