Advertisement
E-Paper

পরীক্ষার খাতা দেখে পারিশ্রমিক পান না শিক্ষকেরা! সমাধানে এ বার পোর্টাল খুলছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

একজন শিক্ষকের কাছে অনার্স এবং পাশ কোর্সের বছরে অন্তত তিনটি সেমেস্টারের খাতা দেখার দায়িত্ব আসে। সে ক্ষেত্রে বছরে প্রায় দু’হাজার টাকা পাওনা হতেই পারে কোনও শিক্ষকের। কিন্তু সেই টাকা পেতেও যে পরিমাণ নাকাল হতে হয়, তা শিক্ষকদের কাছে অসম্মানের বলেও দাবি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ২৩:২৫
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।

পরীক্ষার খাতা দেখার পারিশ্রমিক খুবই সামান্য। কিন্তু তা-ও বছরের পর বছর পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ শিক্ষকদের একাংশের দাবি, পারিশ্রমিক পাওয়া না গেলেও তার জন্য ফর্ম পূরণ করতে হয় নির্দিষ্ট সময়ে।

এ বার এই প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এবং গোটা প্রক্রিয়া কাগজহীন (পেপারলেস) করতে উদ্যোগী হচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্রের খবর, এই গোটা প্রক্রিয়া একটি পোর্টালের মাধ্যমে করার ভাবনা চিন্তা করছেন কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়‌ের অন্দরের খবর, খাতা দেখা, প্রশ্নপত্র তৈরি, প্রশ্নপত্র মডারেশন, স্ক্রুটিনি-সহ নানা কারণে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ৫ বছর কোনও টাকা তাঁরা পাননি। বহু বার আবেদন করেও পাওয়া যায়নি। কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। পরীক্ষার খাতা না দেখতে চাওয়া হিসেবে এটাও একটা কারণ বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের।

এক কলেজ শিক্ষক জানান, একজন শিক্ষকের কাছে অনার্স এবং পাশ কোর্সের বছরে অন্তত তিনটি সেমেস্টারের খাতা দেখার দায়িত্ব আসে। সে ক্ষেত্রে বছরে প্রায় দু’হাজার টাকা পাওনা হতেই পারে কোনও শিক্ষকের। কিন্তু সেই টাকা পেতেও যে পরিমাণ নাকাল হতে হয়, তা শিক্ষকদের কাছে অসম্মানের বলেও দাবি।

সেই সমস্যার সমাধানে এবং গোটা প্রক্রিয়া ‘পেপারলেস’ করার জন্য পোর্টালের ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, একটি পোর্টালের ভাবনা চিন্তা চলছে। সেই পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষকেরা আবেদন করতে পারবেন। কোন শিক্ষক কতগুলি খাতা দেখেছেন এবং সে ক্ষেত্রে তিনি কত পারিশ্রমিক পাবেন তার সব হিসেব থাকবে। ফলে গোটা প্রক্রিয়া খুব দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে বলেই আশা তাঁদের।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটার সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোয বলেন, ‘‘গত ৫ বছর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য কোনও পারিশ্রমিক পাননি। এটা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একেবারেই সম্মানের নয়। আধুনিক পদ্ধতির ফলে যদি এই প্রক্রিয়া গতি পায় তা হলে ভাল হবে।’’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান , ইতিমধ্যেই চুক্তির ভিত্তিতে দু’জন ব্যক্তিকে দিয়ে পুরনো সব ডেটা আপলোড করার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যায় আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যাবে। এছাড়া পোর্টাল শুরু হয়ে গেলে এই সমস্যা আর থাকবে না।

University of Calcutta

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy