তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অযথা ইচ্ছাকৃত ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, গত দু’সপ্তাহ ধরে তাঁর বা তাঁর দফতরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যথাযথ নোটিস ছাড়াই যখন-তখন তলব করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি এ ভাবেই আইনি সুরক্ষার মৌলিক নিয়মগুলি লঙ্ঘন করছে বলে দাবি করেছেন অভিষেক।
শুধু বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া বা আচমকা তলব নয়, অভিষেকের অভিযোগ, এই ব্যক্তিদের পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে। জোর করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড করানোর চেষ্টা চলছে। তার জন্য চাপও দেওয়া হচ্ছে অভিষেক-ঘনিষ্ঠদের। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই সংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন অভিষেক। জানিয়েছেন, গত দু’সপ্তাহে এমন অন্তত ২৫ জনকে পুলিশ হেনস্থা করেছে, যাঁরা অভিষেকের সঙ্গে বা তাঁর দফতরের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। দাবি, কোনও অবস্থাতেই তিনি মাথা নত করবেন না।
আরও পড়ুন:
অভিষেকের বক্তব্য, তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মুখ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড করিয়ে নিতে চায় পুলিশ। সেই কারণেই এঁদের ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে। এমনকি, তাঁদের পরিবারের সদস্য, মহিলা এবং শিশুদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে। অভিষেক বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের চূড়ান্ত পর্যায় এটা। আপনারা যা পারেন, করে নিন। আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাথা নত করব না।’’ এর পরেই নারদ মামলার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন অভিষেক। বলেন, ‘‘যে সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকেই ক্যামেরার সামনে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই-এর একাধিক মামলা ঝুলে আছে, সেই সরকারই এখন আমাকে নিশানা করতে সরকারি সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে।’’
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর নানা অভিযোগে বিদ্ধ কালীঘাট শিবির। দলের অন্দরে ভাঙন ধরেছে। একাধিক মামলায় অভিষেককে তলব করেছে সিআইডি, ইডি-র মতো সংস্থা। শালবনি থানার পুলিশ অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে গভীর রাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে তারা দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং তল্লাশি চালায়। সেই ঘটনাকে তুলে ধরেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেন অভিষেক। গত কয়েক দিনে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর বা প্রাক্তন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তোলাবাজি-সহ বিবিধ অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে। অভিষেক বৃহস্পতিবার কোন ২৫ জনের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিষেকের দাবি ভিত্তিহীন।