Advertisement
E-Paper

হস্টেলে থাকবে ক্রীড়া সরঞ্জাম, বই ও পত্র-পত্রিকা! আবাসিক পড়ুয়াদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে

গত সপ্তাহেই তালতলার একটি হস্টেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ‘বোর্ড অফ রেসিডেন্ট’-এর তরফে জানানো হয়েছিল, এক পড়ুয়ার গাফিলতিতে ওই ঘটনা ঘটে। তিনি পাখা চালিয়ে রেখে যাওয়ায় তা গরম হয়ে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। ওই পড়ুয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৩
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।

দূর দূরান্তের জেলা থেকে কলকাতায় পড়তে আসেন মেধাবীরা। স্নাতক-স্নাতকোত্তরে পড়াকালীন তাঁদের আবাস হয় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল। সে হস্টেল জীবনই কারও কারও ক্ষেত্রে গড়ে দেয় ভবিষ্যতের ভিত। প্রায় দেড় দশক আগে রুপোলি পর্দার ‘থ্রি ইডিয়েটস’ তিন বন্ধুর হস্টেল জীবনের কাহিনী আজও সকলের মুখে ফেরে।

কিন্তু সেখানেই যদি অব্যবস্থা থাকে, তা হলে তার প্রভাব পড়ে পঠনপাঠনেও। পড়ুয়াদের হস্টেল জীবন আরও সহজ করে তুলতে এ বার উদ্যোগী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। জানা গিয়েছে, হস্টেলগুলিতে এ বার ক্রীড়া সামগ্রী এবং বই রাখার বন্দোবস্ত করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। রবীন্দ্রনাথ থেকে শেক্‌সপিয়র, বিজ্ঞানের নানা পত্রিকা, প্রযুক্তির নানা বই রাখা থাকবে হস্টেলগুলিতে। তৈরি হবে, ‘মিনি লাইব্রেরি’।

আসলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইছেন অধীনস্থ ১৬টি হস্টেলের আমূল সংস্কার। গত কয়েক বছরে হস্টেলের দুরবস্থা নিয়ে সরব পড়ুয়ারা। গত সপ্তাহেই তালতলার একটি হস্টেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ‘বোর্ড অফ রেসিডেন্ট’-এর তরফে জানানো হয়েছিল, এক পড়ুয়ার গাফিলতিতে ওই ঘটনা ঘটে। তিনি পাখা চালিয়ে রেখে যাওয়ায় তা গরম হয়ে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। ওই পড়ুয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

সে সময়ই উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের কাছে দ্রুত সব হস্টেল পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি তুলেছিল ছাত্র সংগঠন ডিএসও। বোর্ড অফ রেসিডেন্ট সূ্ত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, সরেজমিনে হস্টেলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তাঁদেরও উপলব্ধি হয়েছে যে হস্টেলগুলির সংস্কারের প্রয়োজন।

বোর্ড অফ রেসিডেন্ট-এর সচিব আশিস মিস্ত্রি জানান, গত জানুয়ারিতে কাজের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করার পরেই হস্টেলগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়। গত মার্চ থেকেই এই হস্টেল সংস্কারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী বলে দাবি। বাকি কাজ ভোটের পর, আগামী মে মাস থেকে কাজ শুরু হবে, জুনের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই হস্টেলের সব কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা তাঁদের। ইতিমধ্যেই কারমাইকেল হস্টেলের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানান এক কর্তা।

যেখানে যেমন প্রয়োজন সেই অনুযায়ী রং করানো পর্যাপ্ত আলো-পাখা, নতুন শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সব হস্টেলে বিদ্যুতের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে সংস্কার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ছাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। সেখানে পর্যাপ্ত নজরদার ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে প্রতিটি হস্টেলে ইন্ডোর এবং আউট়ডোর খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হবে। পাশাপাশি থাকবে নানা বইয়ের ভান্ডার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সুবিধা যেমন পড়ুয়ারা পাচ্ছেন তেমনই হস্টেলেও পাবেন বই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, “আগামী জুন থেকে স্নাতকোত্তরের নতুন পড়ুয়ারা ভর্তি হবে। হস্টেলে গিয়ে যেন তাঁরা ভাল বন্দোবস্ত পান।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘‘হস্টেল পড়ুয়াদের এবং আমাদের সকলের কাছেই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কারণে পরিকাঠামোর যতটা উন্নতি করা যায় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।’’

ডিএসও-র কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনীক দে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হস্টেলের পরিকাঠামো উপযু্ক্ত নয়। এর আগেও কর্তৃপক্ষের কাছে হস্টেলের সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানিয়েছি। নতুন পড়ুয়া ভর্তির আগে এই ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন।”

Hostel CU
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy