প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে চাকরি হারিয়েছিলেন শিক্ষাকর্মীরা। গত ১১ মাস ধরে বেতনহীন তাঁরা। চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে তাঁরা নতুন করে প্রস্তুতি নিয়েছেন এক লড়াইয়ের। ১ ও ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের পরীক্ষায় বসতে চলেছেন গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা।
কিন্তু আসলে কেমন আছেন তাঁরা?
২০১৬ এসএসসি প্যানেল বাতিল হয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। যদিও শিক্ষকদের জন্য ‘অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। তার ভিত্তিতে ‘যোগ্য’ শিক্ষকেরা পুরনো পড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত। তাঁরা সম্পূর্ণ বেতনও পেয়েছেন। কিন্তু ‘যোগ্য’ শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে সে নির্দেশ দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত। ফলে গত এপ্রিল থেকে বেতনহীন গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীরা।
আরও পড়ুন:
পেটের টানে চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের খোঁজ করতে হয়েছে নতুন জীবিকার। নতুন করে পরীক্ষা হবে, জানতেন তাঁরা। কিন্তু সে পরীক্ষায় কি সাফল্য আসবে? রয়েছেন অনিশ্চয়তা। তা ছাড়া, ১১ মাস বড় কম সময় নয়। সংসার চালাতে কাউকেও পাড়ি দিতে হয়েছে ভিন্ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে, কেউ আবার নিজের মতো করে ব্যবসার কথা ভেবেছেন। বাড়িতে কেক তৈরি করে বা মুদির দোকান চালিয়ে কোনোমতে দিন গুজরান করছেন তাঁরা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ ও ৮ মার্চ স্কুল সার্ভিস কমিশন ফের পরীক্ষা নিতে চলেছে। কিন্তু এই লড়াই এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন, কারণ বয়স বেড়ে গিয়েছে ১০ বছর। আগের মতো অধ্যবসায় হয়তো নেই। পড়াশোনা করার মতো মানসিক স্থিরতাও নেই। উত্তর ২৪ পরগনার সত্যজিৎ ধর বা অমিত মণ্ডলের মতো যোগ্য প্রার্থীদের অভিযোগ, ১০ বছর আগে প্রায় ১৯ লক্ষ প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের মেধার প্রমাণ দিয়েছিলেন তাঁরা। অথচ আজ অন্যের দুর্নীতির মাসুল দিতে গিয়ে তাঁদের ফের শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে খবর, এ বারের পরীক্ষায় প্রায় ১২০০ জন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা বসতে চলেছেন, যাঁদের লড়াই করতে হবে একঝাঁক নতুন চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে। অভাব, অনটন আর মানসিক যন্ত্রণার পাহাড় মাথায় নিয়ে এই দ্বিতীয়বারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় আসবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয়ে রয়েছেন মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া এই বঞ্চিতরা।
সত্যজিৎ বলেন, “আমাদের মতো অনেক ‘যোগ্য’ চাকরিহারাই ভিন্ রাজ্যে চলে গিয়েছেন। কেউ ছোটখাট ব্যবসা করছেন। অনেকে আর পরীক্ষায় বসতেও চাইছেন না। অথচ, তাঁদের কোনও দোষ ছিল না।”
হিসাব বলছে, ২০১৬ সালে নিয়োগে এর মধ্যে ৩৩৯৪ জন ‘যোগ্য’ চিহ্নিত। তাঁদের মধ্যে গ্রুপ-সি ১২৫৫ জন ও গ্রুপ-ডি ২১৯৩ জন। কিন্তু এ বার পরীক্ষা দিচ্ছেন মাত্র ১২০০ ‘যোগ্য’। বোঝাই যাচ্ছে, বাকিরা আস্থা বা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন।
গ্রুপ-সি ‘যোগ্য’ চাকরিহারা অমিত মণ্ডল বলেন, “প্রায় এক দশক আগে আমরা পড়াশোনা করে পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম। এখন যা মানসিক অবস্থা তাতে আদৌ পাশ করতে পারব কি না জানি না। অনেকেই এই মানসিক চাপ নিতে পারছেন না। তাঁরা আর এই লড়াইয়ে যেতে নারাজ।”