কথা বলতে পারা বা মানুষকে বোঝানোর দক্ষতা থাকলেও মিলতে পারে ভাল চাকরি। এমন বেশ কিছু কাজ রয়েছে, যা কথোপকথনের দক্ষতার উপরই নির্ভর করে। কর্পোরেট কমিউনিকেশন এমনই একটি পেশা। এই কাজে নিযুক্তেরা বহুজাতিক সংস্থার হয়ে নানা বিষয়ে কথা বলে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেন। আবার কোনও পরিষেবার সমালোচনা বিষয়েও কাজ করেন।
বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্ত, ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি বজায় রাখা, গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখার মতো কাজের দায়িত্বও পালন করেন কর্পোরেট কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞেরা। এই বিষয়টি নিয়ে স্নাতক স্তর থেকেই পড়াশোনার সুযোগ মেলে।
বিশেষ দক্ষতা—
এ জন্য পড়ুয়াদের মিডিয়া, ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে আগ্রহী হতে হবে। জানতে হবে কেমন ভাবে পরিষেবা, নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু নিম্নবর্গের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। কর্পোরেট কমিউনিকেশন-এ এই সমস্ত বিষয়গুলি শেখানো হয়ে থাকে। এ ছাড়াও গণমাধ্যম, সংবাদমাধ্যমে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান বা নতুন পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে— তা জানার সুযোগও থাকে।
এ ছাড়াও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, তথ্য সংক্রান্ত কাজের দক্ষতার পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধানের মতো বিষয়ও জানা চাই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—
হাতে গোনা কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত বিষয়টি পড়ানো হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশন-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান।
ছবি: এআই।
তাই যাঁরা কর্পোরেট কমিউনিকেশন নিয়ে স্নাতকে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁরা কমিউনিকেশন স্টাডিজ, ডিজিটাল মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন, মিডিয়া স্টাডিজ়-এর মতো বিষয় নিয়েও পড়াশোনা করতে পারেন। তাতেও ওই বিষয় বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। কারণ এই সমস্ত বিষয়ে স্নাতকোত্তর যোগ্যতা না থাকলে চাকরির সুযোগ সহজে পাওয়া যায় না।
চাকরির ধরন—
বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় কর্পোরেট কমিউনিকেশন এগ্জ়িকিউটিভ, ইন্টারনাল কমিউনিকেশন ম্যানেজার, এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিং স্পেশ্যালিস্ট, ইনভেস্টর রিলেশনস এগ্জ়িকিউটিভ পদে এমন বিষয় বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থায় ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচিতি বৃদ্ধি করতে এমন বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হয়। সেখানে পাবলিক রিলেশন কনসালট্যান্ট, মিডিয়া রিলেশন অফিসার, কন্টেন্ট স্ট্যাটেজিস্ট, কর্পোরেট স্টোরিটেলার-এর মতো পদে কাজের সুযোগ মেলে।
আয়ের সুযোগ—
বেতন হিসাবে প্রাথমিক স্তরে তিন থেকে ছ’লক্ষ টাকা বছরে উপার্জনের সুযোগ থাকে। ধাপে ধাপে পদোন্নতির সঙ্গে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয় হতে পারে।