কৃষিনির্ভর দেশে গ্রামের সংখ্যা সাড়ে ৬ লক্ষেরও বেশি। তবুও এখনও সব গ্রামে পরিশ্রুত জল, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা যে যথাযথ ভাবে পাওয়া যায়, তা কিন্তু নয়। গ্রামের তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা চাকরি বা পড়াশোনার জন্য শহরের উপরেই মূলত নির্ভরশীল। অথচ গ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে গ্রামীণ পরিকাঠামোকে উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
তা কী ভাবে করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে পাঠগ্রহণের সুযোগ রয়েছে দ্বাদশের পরই। কী ভাবে, কারা পড়তে পারবেন? কোথায় চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে— সেই সমস্ত কিছু সম্পর্কে রইল বিশদ তথ্য।
পড়াশোনা:
- দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে পড়ুয়ারা রুরাল ডেভেলপমেন্ট নিয়েই স্নাতক স্তরে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়াও রুরাল ম্যানেজমেন্ট, রুরাল স্টাডিজ় নিয়েও ডিগ্রি কোর্স করে নিতে পারেন। উল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট থিয়োরি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং তার প্রভাব, ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগস্থাপন-এর মতো বিষয় জানার সুযোগ পাওয়া যায়।
- ডিপ্লোমা কিংবা সার্টিফিকেট কোর্সের মাধ্যমেও গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ছাড়া পঞ্চায়েত রাজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এনজিও ম্যানেজমেন্ট-এর মতো বিষয় নিয়ে সে ক্ষেত্রে পড়াশোনা করতে পারবেন আগ্রহীরা।
- স্নাতকোত্তর স্তরে রুরাল ডেভেলপমেন্ট এবং রুরাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আরও বিশদে জানার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জননীতি নির্ধারণ, উন্নয়নমূলক কাজে নেতৃত্বদানের মতো বিষয়ও শিখে নিতে পারবেন আগ্রহীরা।
— ফাইল চিত্র।
কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ?
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে ব্লক ডেভেলপমেন্ট, রুরাল ডেভেলপমেন্ট অফিস। সেই সমস্ত দফতরে আধিকারিক পদে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কিংবা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষার মাধ্যমে ওই পদে নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
এ ছাড়াও পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রুরাল ডেভেলপমেন্ট-এ বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে। সরকারি বিভাগে তাঁরা চুক্তিভিত্তিক পদে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিতে চলা প্রকল্পগুলিতে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, ফিল্ড অফিসার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, মনিটরিং অ্যান্ড এভালুয়েশন অফিসার পদেও চাকরি পেতে পারেন।
থাকা চাই বিশেষ দক্ষতা:
স্থানীয় ভাষায় সাবলীল হওয়া প্রয়োজন। গ্রামে গিয়ে কাজের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে আগ্রহী হওয়া দরকার। তথ্যের সাহায্যে দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করার কাজও করতে হবে। গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজের জন্য সামাজিক পরিকাঠামোর রূপরেখা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাও সমান ভাবে জরুরি।