স্কুলে স্কুলে থাকবে নজরদার ক্যামেরা, বুধবার সন্ধ্যায় এমনি এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বিকাশ ভবনের স্কুলশিক্ষা কমিশনারের তরফে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং সরকারি স্কুলের প্রধানদের উদ্দেশে নির্দেশে বলা হয়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য স্কুলে স্কুলে সিসি ক্যামেরার নজরদারির রাখতে হবে। কিন্তু তার পর শুরু হয় বিভ্রান্তি। সেই বিভ্রান্তি বৃহস্পতিবারও কাটেনি। উল্টে শুরু হয়েছে দায় ঠেলাঠেলি।
কোন স্কুলে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে? যে সব স্কুলে ক্যামেরা রয়েছে তারাই কি তা সক্রিয় রাখার বন্দোবস্ত করবে? না কি সব স্কুলকেই নতুন করে ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে?
সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক স্কুলেই সিসি ক্যামেরার নজরদারি নেই। ভোটের আগে নতুন করে সেই ব্যবস্থা করা যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এত টাকা খরচ করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ দিকে জেলা স্তরের শিক্ষা আধিকারিকদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন জেলাশাসকেরা। স্কুলের সিসি ক্যামেরার বিষয়টি তাঁরাই দেখবেন।
প্রাথমিক ভাবে শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে কোথাও সিসি ক্যামেরা বসানোর কথা বলা হয়নি। এ প্রেক্ষিতে ডিআইদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, যে সব স্কুলে ভোট কেন্দ্র রয়েছে, অথচ সিসি ক্যামেরা নেই সেখানে কী হবে? এ প্রশ্নের কোনও সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই ওই বিজ্ঞপ্তিতে। ফলে ধন্দ রয়েছে সেখানেও।
সূত্রের খবর, যে সব স্কুলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্র হয়েছিল, সেখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু বহু স্কুলেই সিসি ক্যামেরা নেই। রাজ্যের অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলে কোনও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা নেই বলে জানাচ্ছেন বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শকেরা।
রাজ্যের পশ্চিম ঘেঁষা এক জেলার স্কুল পরিদর্শক বলেন, “এই জেলার একটি প্রাথমিক স্কুলেও সিসি ক্যামেরা নেই। ফলে এই নির্দেশের অর্থ কী সেটা জানি না! নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন জেলাশাসক। তাই তাঁর কাছেই এই বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” তাঁর প্রশ্ন, স্কুলে সিসি ক্যামেরা বসানোর দায়িত্ব কে নেবে বা অর্থই আসবে কোথা থেকে?
কলকাতা সংলগ্ন এক জেলার স্কুল পরিদর্শক বলেন, “নির্দেশিকা স্পষ্ট নয়। সে কারণে কোনও স্কুলের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়নি। কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তার পরই স্কুলগুলিকে নির্দেশ পাঠানো হবে।” তবে প্রধানশিক্ষকদের একাংশ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও ভাবেই সিসি ক্যামেরার জন্য কোনও অর্থ ব্যয় করা হবে না।